Home / ডাক্তারের চেম্বার / নিরীহ টিউমারের ছদ্মবেশে যখন প্রাণঘাতি ক্যান্সার!

নিরীহ টিউমারের ছদ্মবেশে যখন প্রাণঘাতি ক্যান্সার!

নিউজ ডেস্ক: শরীরে দেখা দেওয়া নিরীহ টিউমারকে গুরুত্ব না দিয়ে অনেকেই পরবর্তীতে খুব ভুগেন। দেখা যায়, যাকে সামান্য টিউমার ভেবে গুরুত্ব দেন নি, সেটিই বহুদিন ধরে বয়ে চলেছে প্রাণঘাতি ক্যান্সারের জীবাণু। তাই টিউমারকে সামান্য ভেবে হেলাফেলা না করে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এতে হয়তো শুরুতেই থামিয়ে দিতে পারবেন শরীরে ক্যান্সারের বিস্তার।

চলুন আজ দেখে নিই এমন দুই ধরনের টিউমার। এসব টিউমারের উপস্থিতি বুঝতে পারলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে ভুলবেন না যেন।

অস্টেওসারকোমা : অস্থি বা হাড়ের টিউমারগুলোর মধ্যে খুব খারাপ ধরনের বা ক্যান্সার জাতীয় একটি টিউমার হলো অস্টেওসারকোমা। এই রোগে মৃত্যুর শঙ্কা খুবই বেশি। সাধারণত ৯-১৬ বয়সের শিশুদের মাঝে দেখা দেয় এ রোগ।

হাঁটুতে অস্টেওসারকোমা হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর উল্লেখযোগ্য হারে সম্ভাবনা রয়েছে বাহুর হাড়ে। হাড়ের যে অংশে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়, সেই অংশে এই টিউমারটি বেড়ে ওঠতে থাকে। ধীরে ধীরে তা অস্থির অন্য অংশে ছড়ায়। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না নিলে অন্য অস্থিতে বা শরীরের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

লক্ষণ : এই রোগের শুরুতে হাড়ের কোনো একটা অংশ ফুলে যায়। সেই সাথে দেখা দিতে পারে ব্যথা। শিশুরা কোনো আঘাত পাবার পরপর এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অভিভাবকেরা শুরুতে এই লক্ষণটিকে গুরুত্ব দেন না। ফলে শিশুর রোগটি সবার অজান্তে বাড়তে থাকে। একসময় তা বাড়তে বাড়তে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। তাই সচেতন হতে হবে শুরুতেই।

সাধারণ এক্স-রে’তে অস্টেওসারকোমার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তবে রোগটির অবস্থান নিশ্চিত করতে এমআরআই এবং বোন-স্ক্যানও করতে হতে পারে। আর রোগটির অবস্থান সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে বায়োপসি করতে হবে।

এ রোগের লক্ষণ বুঝতে পারলেই অর্থোপেডিক সার্জনের শরণাপন্ন হোন। তারাই এই রোগটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। শুরুতেই যদি রোগটি নির্ণয় করা যায় টিউমার অংশটি কেটে ফেলেন সার্জনেরা। সেই সাথে একধরনের কেমোথেরাপি দিয়ে রোগীর জীবন রক্ষা করেন। রোগটি যদি দেরিতে ধরা পড়ে তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রোগীর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, এমনকি এতে মৃত্যুও হতে পারে।

কন্ড্রোসারকোমা : তরুণাস্থি বা কার্টিলেজের ক্যান্সার জাতীয় একটি টিউমারের নাম কন্ড্রোসারকোমা। ক্যান্সার জাতীয় হলেও রোগটি তেমন ভয়াবহ নয়। বয়স যদি ৪০-৫০ বছর হয় আপনার, তবে এই সময় রোগটি দেখা দিতে পারে। শুরুতে আক্রান্ত স্থানের হাড় কিছুটা ফুলে যায় এবং সেখানে সামান্য ব্যথা লাগে। এরপর ফোলা অংশটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। কয়েক মাস পরে রোগী তার হাড়ে এ রোগটির উপস্থিতি বুঝতে পারেন।

সাধারণত এক্স-রে করে কন্ড্রোসারকোমার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তবে এর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এবং এটা কতটা ছড়িয়ে পড়েছে তা জানতে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করতে হয়। আর এটা সত্যিই ক্যান্সার জাতীয় টিউমার কিনা তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে বায়োপসি করা উচিত।

রোগটি কখনো পুরোনো কোনো নিরীহ টিউমার থেকে রূপান্তরিত হয়ে হয়ে দেখা দিতে পারে। আবার কখনো এটি একদম নুতন করেও হতে পারে। এর উৎপত্তি যেভাবেই হোক না কেন এর চিকিৎসা একই। রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি এর বিরুদ্ধে খুব একটা কার্যকরী নয়। এর একমাত্র চিকিৎসাই হলো সার্জারি। রোগটির উপস্থিতি বুঝতে পারলে দ্রুতই সার্জারি করুন। টিউমারটি কেটে ফেললেই কেবল রোগটি থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে।

Check Also

‘যৌন মিলনে ছড়ায় ডেঙ্গু’ বলছে স্পেন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ

নিউজ ডেস্ক: কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছিল ডেঙ্গু। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল …

%d bloggers like this: