Home / দেশজুড়ে / টেকসই সড়ক বানাচ্ছে রংপুর সওজ

টেকসই সড়ক বানাচ্ছে রংপুর সওজ

নিউজ ডেস্ক: ভাঙাচোরা সড়কের উপাদান তুলে পুনরায় ব্যবহার করে টেকসই সড়ক নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) রংপুর জোন। এতে তুলনামূলকভাবে খরচও কমে গেছে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বণিকবার্তা।

এতে জানানো হয়, প্রচলিত পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ওপর নতুন করে পিচ-বিটুমিন দিয়ে সড়ক সংস্কার করা হয়। তবে বিভিন্ন সড়ক সংস্কারে আগের ব্যবহৃত উপাদান তুলে পুনরায় তা গুঁড়ো করে নতুন উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছে সওজ রংপুর জোন। এতে দেখা গেছে, সড়কের স্থায়িত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনি কমেছে ব্যয়ও।

সওজের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরীক্ষামূলকভাবে গত আড়াই বছরে রংপুর অঞ্চলে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার সড়ক এ পদ্ধতিতে সংস্কার করা হয়েছে। এতে সব সড়কেই ভালো ফল পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক সার্বক্ষণিক যানবহন চলাচলের উপযোগী রাখা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে নানা কৌশল অবলম্বন করতে হয়। তবে এর পরও কাঙ্ক্ষিত মানের কাজ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সড়ক সংস্কারের পর অন্তত তিন বছর মেয়াদ ধরা হলেও অধিক লোডের যানবাহন চলাচল, সড়ক ঘেঁষে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, যাচ্ছেতাই ব্যবহার এবং বর্ষায় পানি জমে থাকার কারণে ছয় মাস পরই তা আবার সংস্কারের প্রয়োজন হয়। এ সমস্যা নিরসনে রংপুর জোনের একদল প্রকৌশলী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে আসছিলেন।

একপর্যায়ে তারা আগের ব্যবহৃত উপাদান তুলে পুনরায় তা গুঁড়ো করে নতুন উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে সড়ক সংস্কার করেন। পরে দেখা যায়, এ পদ্ধতিতে সংস্কারের কারণে সড়ক প্রচলিত পদ্ধতিতে সংস্কার করা অংশের চেয়ে বেশি টেকসই। পাশাপাশি খরচও তুলনামূলক কমে এসেছে।

এরই ভিত্তিতে একই পদ্ধতিতে রংপুর-বগুড়া জাতীয় মহাসড়কের চান্দাইকোনা থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত অংশ সংস্কার করা হয়। সব মিলিয়ে আড়াই বছরে রংপুর জোনে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়।

সূত্র জানায়, নতুন পদ্ধতি বের করার মাধ্যমে কারিগরি ক্ষেত্রে উত্কর্ষ সাধনের জন্য সওজের এ দলটি জেলা পর্যায়ে দলগত শ্রেণীতে চলতি বছর জনপ্রশাসন পদক পেয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে সড়ক সংস্কারে এ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সওজের মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

সওজের এ দলেরই একজন রংপুর সড়ক উপবিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আখতার। তিনি বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরে রংপুর-বগুড়া জাতীয় মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন পদ্ধতিতে সড়ক মেরামত করে করে বেশ ভালো ফল পাওয়া গেছে। এ পদ্ধতিতে শুধু ওই মহাসড়কের রংপুর জেলা অংশে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৪০ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দুই কিলোমিটারের কাজ চলমান। বন্যা ও তিনটি বর্ষা মৌসুম পার হলেও সড়ক এখনো অনেক ভালো আছে।’

অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একেকটি সড়কের প্রশস্ততা এবং বিভিন্ন কারণে মেরামত ব্যয়ও ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে এখন পর্যন্ত যে কাজ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতি কিলোমিটার সড়ক মেরামতে পাথর-বালির মিশ্রণের জন্য (বেস্ট টাইপ ওয়ান) প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ও বিটুমিনের লেয়ারে (১০০ মিলিমিটার) দিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। সেখানে নতুন পদ্ধতিতে এর অর্ধেক অর্থ খরচ করে সড়ক সংস্কার করা যায়। আবার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদেও খরচ কমে আসে।’

এ পদ্ধতির ব্যাপারে সওজের রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নতুন পদ্ধতিতে সড়ক মেরামতের ফলাফল ভালো। তিন বছর হতে চললেও এ পদ্ধতিতে মেরামতকৃত সড়ক এখনো ভালো আছে। তবে যেসব সড়কে একাধিকবার বিটুমিন দেয়া হয়েছে, সেখানে এ পদ্ধতি বেশি কার্যকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ পদ্ধতি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। চার বছর পার হলে এ পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। তখন আরো বিস্তৃত পরিসরে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে।’

Check Also

আগরতলাকে বিমানবন্দরের জন্য জমি দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: ত্রিপুরা মুখ্যমন্ত্রী

দেশজুড়ে ডেস্ক: কক্সবাজারে আগরতলাকে বিমানবন্দর করার জন্য জমি দেয়ার প্রস্তাবে সাড়া দেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ …

%d bloggers like this: