Breaking News
Home / জাতীয় / শক্তিশালী যক্ষ্মার জীবাণু, নিরাময় হচ্ছে কঠিন!

শক্তিশালী যক্ষ্মার জীবাণু, নিরাময় হচ্ছে কঠিন!

নিউজ ডেস্ক: সক্রামক ব্যধিগুলোর মধ্যে যক্ষ্মাই বিশ্বজুড়ে কেড়ে নেয় সর্বাধিক লোকের প্রাণ। আর বিশ্বের সর্বাধিক যক্ষ্মাপ্রবণ ২০টি দেশের একটি আমাদের বাংলাদেশ। এ রোগটি নিরাময়যোগ্য হলেও বর্তমানে দেশে যক্ষ্মার চিকিৎসা কঠিন হয়ে ওঠছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে রোগটির জীবাণু প্রচলিত ওষুধ প্রতিরোধী (রেজিস্ট্যান্ট) ক্ষমতা অর্জন করেছে।

জানা গেছে, মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (এমডিআর) যক্ষ্মা, প্রি-এক্সটেন্সিভলি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (প্রি-এক্সডিআর) যক্ষ্মা ও এক্সটেন্সিভলি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (এক্সডিআর) যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় এ রোগের চিকিৎসা দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। যক্ষ্মা রোগে ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত ওষুধ রেজিস্ট্যান্ট হওয়ায় এ ওষুধ ব্যবহার করে দেশে যক্ষ্মা নির্মূল আর সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার এবং কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ডা. বায়েজীদ বিন মনির পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই দুই গবেষক জানান, যক্ষ্মার জন্য দায়ী জীবাণুটি হলো মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস। এই জীবাণুর বিভিন্ন প্রজাতি বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগলিক পরিবেশে বিদ্যমান। তাদের এই বৈশ্বিক বিস্তার ও বিভিন্নতা এদের ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে ধারণা করছেন তারা।

২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চালানো এ গবেষণায় বিএসএমএমইউ’র মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগে ৩৩টি প্রি-এক্সডিআর ও ১১টি এক্সডিআর যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর কফ নমুনা থেকে যক্ষ্মার জীবাণুর বিভিন্ন প্রজাতির শনাক্তকরণ এবং এসব প্রজাতির সঙ্গে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সম্পর্ক নিরূপণের জন্য একটি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে।

প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য গবেষণাটিতে ২৪টি বিন অ্যাপ্লিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। যা বৈশ্বিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতি শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত। এ ছাড়া গবেষণাটিতে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিসের ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখার জন্য লাইন প্রোব অ্যাসেও ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিদ্যমান প্রি-এক্সডিআর যক্ষ্মা ও এক্সডিআর জীবাণুর মধ্যে ‘মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস বেইজিং’ প্রজাতি সর্বাধিক বা ৫০ শতাংশ। এছাড়াও আরো ছয় প্রজাতির জীবাণু আছে বাংলাদেশে।

অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার বলেন, ‘চিকিৎসা সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন না করা ও চিকিৎসায় আরোগ্য না হওয়া রোগীদের মধ্যে বেইজিং প্রজাতির হার সর্বাধিক। সাম্প্রতিক সংক্রমণ চোখে দেখা যায় বেইজিং প্রজাতির সাম্প্রতিক সংক্রমণের জন্য দায়ী। চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে লেভোফ্লক্সাসিন ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে বলে আমরা গবেষণায় পেয়েছি। আর এই ধরনের গবেষণা দেশে এই প্রথমবার সম্পন্ন হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রি-এক্সডিআর যক্ষ্মা ও এক্সডিআর যক্ষ্মার মধ্যে মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিসের বিভিন্ন প্রজাতি শনাক্ত হলো।’

এই গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের চলমান যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিভিন্ন স্তরের প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলা/এসএ

Check Also

মহান ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ কাল

নিউজ ডেস্ক: মহান ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ আগামীকাল শুক্রবার। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছরও পূর্ণ হবে এদিন। রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি এদিন শ্রদ্ধা জানাবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একুশের প্রথম প্রহরে ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পরপরই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার, অনদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোন জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন। ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শংকিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাদের এই আত্মদান নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সরদার ফজলুল করিম তার ‘বায়ান্নরও আগে’ প্রবন্ধে লিখেছেন ‘ বরকত, সালামকে আমরা ভালবাসি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা বরকত সালাম আমাদের ভালবাসে। ওরা আমাদের ভালবাসে বলেই ওদের জীবন দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করেছে। ওরা আমাদের জীবনে অমৃতরসের স্পর্শ দিয়ে গেছে। সে রসে আমরা জনে জনে, প্রতিজনে এবং সমগ্রজনে সিক্ত। ’ এদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে আমরা অমরতা পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বলতে পারি দস্যুকে, বর্বরকে এবং দাম্ভিককে : তোমরা আর আমাদের মারতে পারবে না । কেননা বরকত সালাম রক্তের সমুদ্র মন্থন করে আমাদের জীবনে অমরতার স্পর্শ দিয়ে গেছেন।’ বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবুল …

%d bloggers like this: