Home / জাতীয় / রোহিঙ্গা সমাবেশের ব্যাপারে এনজিও’র সংশ্লিষ্টতা, মোহিবুল্লাকে দিয়েছিলো অর্থও!

রোহিঙ্গা সমাবেশের ব্যাপারে এনজিও’র সংশ্লিষ্টতা, মোহিবুল্লাকে দিয়েছিলো অর্থও!

নিউজ ডেস্ক: উখিয়ার কুতুপালং-৪ নম্বর ক্যাম্প মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া রোহিঙ্গা সমাবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ওই সমাবেশ আয়োজনের পেছনে কারা জড়িত, কাদের ইন্ধন বা সহায়তা রয়েছে এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের এ পর্যায়ে রোহিঙ্গা সমাবেশের ব্যাপারে উস্কানি দেয়া কয়েকটির এনজিও’র সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া সমালোচিত রোহিঙ্গা নেতা মুজিবুল্লাকে অর্থ ঘুষ দিয়েছিলো কয়েকটি এনজিও এমন তথ্য এ তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসশের কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়। যেখানে উল্লেখ রয়েছে-গেল ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সমাবেশের আগে এডিআরএ (আদ্রা) নামক একটি এনজিও সংস্থা গত ১৯ ও ২১ আগস্ট কক্সবাজার কলাতলির শালিক রেস্তোরাঁয় সমালোচিত রোহিঙ্গা নেতা মুজিবুল্লাহ’র সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় মুহিবুল্লাহকে আড়াই লাখ টাকা অনুদান দেয় এনজিওটি। এছাড়া আল মারকাজুল নামের একটি ইসলামী সংস্থা সমাবেশ উপলক্ষে রোহিঙ্গাদের জন্য টি-শার্ট তৈরিতে সহযোগিতা করে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, সমাবেশ সফল করতে ডি-৫ ব্লক ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি’ (আরআরসি) সংগঠনের চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফার নেতৃত্বে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সংগঠনের সেক্রেটারি সাইফুল হকের আত্মীয়-স্বজন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করায় তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ করে লন্ডনের নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে সংগঠনের অফিস নির্মাণের জন্য তাদেরকে দুই লাখ টাকা অনুদান দেয়। আর সমাবেশের টি-শার্ট তৈরি করার আগে ক্যাম্পে কর্মরত এক এএসআইয়ের মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে গঠিত ‘রোহিঙ্গা রিফিউজি কমিটি (আরআরসি), ভয়েস অব রোহিঙ্গা, আরকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সহ (এআরএসপিএইচ) এনজিও সংস্থা ‘এডিআরএ’ ও ‘আল মারকাজুল ইসলামী সংস্থা’ নামে দুটি এনজিও রোহিঙ্গা সমাবেশে টি-শার্ট ও ব্যানার সরবরাহ করেছে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংগঠন ‘এআরএসপিএইচ’-এর উপদেষ্টা পরিষদে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীসহ কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতের একজন পিপি, কক্সবাজার দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক এবং ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশের এক এএসআইয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়।

সরকারের যথাযথ অনুমতি ছাড়া একাধিক সংগঠন নিয়ে কুতুপালংয়ে করা গত ২৫ আগস্টের রোহিঙ্গা সমাবেশ নিয়ে তদন্তে নামে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে গঠিত বিভিন্ন সংগঠন ছাড়াও রোহিঙ্গা সমাবেশের জন্য ইন্ধনদাতা এনজিও সংস্থা এবং সমাবেশে সহায়তাকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে তারা।

তদন্তের এ পর্যায়ে ইতোমধ্যেই রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের নামে গঠিত বেশ কয়েকটি সংগঠন এবং কয়েকটি এনজিও এবং ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী এসব সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন থেকে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর কাছে লিখিত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, ‘বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে।’

Check Also

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের কারসাজি

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার পর থেকে দেশের বাজারে পেঁয়াজের …

%d bloggers like this: