Home / জাতীয় / বগুড়ার পুনঃনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

বগুড়ার পুনঃনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

জাতীয় ডেস্ক: সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ আসনে পুনঃনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসন হিসেবে পরিচিত বগুড়ার এ আসনে পুনঃনির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিবাচক। কালের কন্ঠ

তবে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, পুনঃনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই। এমনও হতে পারে, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু শপথ না নেওয়ায় আসনটি গত ৩০ এপ্রিল শূন্য ঘোষণা করা হয়। নানা নাটকীয়তার পর দলের অন্য পাঁচ সংসদ সদস্য শপথ নেন।

সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ার পর ফখরুল দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। নিজের জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তিনি হারলেও বিজয়ী হন দলের প্রধান খালেদা জিয়ার আসন বগুড়া-৬-এ। এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে। সেই সঙ্গে ঘোষণা দেয়, তাদের জোট থেকে বিজয়ীরা শপথ নেবেন না। কিন্তু কিছুদিন পর ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিজয়ী গণফোরামের দুজন শপথ নেন। গত ২৫ এপ্রিল বিএনপির একজন শপথ নিলেও আগের সিদ্ধান্তেই থাকার কথা জানিয়েছিল দলটি। কিন্তু ২৯ এপ্রিল আরো চারজন শপথ নেওয়ার পর ফখরুল বলেছিলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাঁরা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পরদিন ফখরুলের আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

গত ৫ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে ফখরুল বলেছেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে লড়াই করতে হবে। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘এটা (সংসদে চার সদস্য শপথ নেওয়া) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা অতীতে যে বলেছিলাম আমরা যাব না, সেই সময়ে তাত্ক্ষণিকভাবে সেই সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল বলে মনে হয় না। এটা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেওয়ার পর একটি আসনের উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে আর যুক্তি থাকে না। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতাই মনে করছেন। তবে এমন পরিস্থিতিতেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কী সিদ্ধান্ত নেবেন—সেটা একান্তই তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে বিএনপির ওই সূত্রগুলো বলছে।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘যেহেতু এটি জাতীয় নির্বাচন এবং বিএনপি সংসদে রয়েছে, তাই এ পুনঃনির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে এটি ধরে নেওয়া যায়। তবে প্রার্থী ফখরুলই হবেন নাকি অন্য কেউ সেটি আলোচনার বিষয়।’ ওই নেতা আরো বলেন, ‘যদি ফখরুল নিজে রাজি থাকেন তাহলে তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আর যদি তিনি রাজি না হন, সে ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী সন্ধান করা হবে।’

বিএনপির আরেকটি সূত্র বলছে, রাজনীতির গতিবিধির ওপর নির্ভর করছে সব কিছু। যেমন—এই সময়ের মধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত হলে সিদ্ধান্ত আসবে তাঁর কাছে থেকে।

উপনির্বাচনের তফসিল অনুষায়ী, ২৩ মে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। ভোট ২৪ জুন।

জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। সময় তো আছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এজেন্ডা আসলে নেতারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Check Also

ভারত দিচ্ছে ২০টি রেল ইঞ্জিন

নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে ২০টি লোকোমেটিভ আগামী অক্টোবরে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম …

%d bloggers like this: