Home / জাতীয় / ভেতরেই মির্জা ফখরুলের সমালোচনা

ভেতরেই মির্জা ফখরুলের সমালোচনা

জাতীয় ডেস্ক:  বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়া না নেয়া নিয়ে নানামুখী বক্তব্য রাখেন দলটির মহাসচিব। এরপরই দলে এবং দলের বাইরে সমালোচনার স্বীকার হন তিনি। এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সংযত হয়ে বক্তব্য রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতাদের কয়েকজন। দলীয় এমপিদের শপথ নিয়ে তার নানামুখী বক্তব্যে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। সেই সঙ্গে, বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা। ডিবিসি

বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেয়ার আগে মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, আমরা শপথ নিচ্ছি না। মহাসচিবের এ ঘোষণার পর, বিএনপির জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ নিলে দল থেকে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কারের ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু এরপর তিনিই আবার জানান দলীয় কৌশল হিসেবে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা।

তবে, এ সময় কৌশলগত কারণেই তিনি শপথ নেননি বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আবার কয়েকদিন পরেই বক্তব্য ও দলের আগের অবস্থান ভুল ছিলো মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অতীতে যে বলেছিলাম আমরা সংসদে যাব না সেই সিদ্ধান্তটা আমাদের ওই মুহূর্তে ভুল ছিলো। বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে দলটির মহাসচিবের একেক সময় একেক বক্তব্যকে সহজভাবে নিচ্ছেন না দলের সিনিয়র নেতারা।

এ বিষয়ে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই এসব বিষয়ে কথা বলা উচিত ছিলো। কিন্তু, এখন বলা হবে আমাদের অনেক কিছুই ভুল ছিলো। তিনি পার্টির মহাসচিব দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই এ ধরনের বক্তব্য দেয়া তার সঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। মহাসচিবের এমন বক্তব্যে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে বলেও দাবি করেন দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, দুই দিন আগে একরকম কথা বলে, দুদিন পর আবার আরেক রকম কথা। এই দোদুল্যমানতা কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। এতে দলের ও কর্মীদের ক্ষতি হয় এবং নেতাদের মধ্যে যারা আমাদের সমর্থক তাদের জন্য ক্ষতি হয়। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি থাকবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর। সেই সঙ্গে বক্তব্যের সঠিক ব্যাখা দিতে না পারলে দলে বিদ্রোহের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। বিএনপি এখন গুমোট অবস্থায় আছে মন্তব্য করে এসব বিষয়ে দ্রæত বেগম জিয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর। তবে এসব বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন এমন প্রশ্নে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এসব বিষয়ে তারেক সাহেব কি করে তা জানি না। তিনি কার সঙ্গে দেখা করেন আর কাদের সঙ্গে কথা বলেন তাও জানিনা। তবে তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ খুব একটা করেন না। তিনি আরো বলেন, আপনি একজন বড় নেতা সে অবস্থান থেকে আপনি আজ এক কথা বলবেন কাল আপনার বিরুদ্ধে আরেক নেতা অন্য কথা বলবে এ অবস্থায় নিজেদের গুটিয়ে নেয়া বা বিদ্রোহ করা ছাড়া কি আছে।

এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমি মনে করি একটা দলের মহাসচিবকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং তাকে যে কোনো গ্রুপিং এর ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে হবে। বর্তমানে দলের সমস্ত দায় দায়িত্ব মহাসচিবের ওপর উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির নীতিনির্ধারক যারা আছেন তাদের এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রথমে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে জাহিদুর রহমান জাহিদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় বহিস্কার করা হয়। তারপর দলের সিদ্ধান্তে আরো চারজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি মহাসচিব শপথ নেননি।

Check Also

উপাচার্য সরবেন কি?

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী? প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জানতে না পারলেও মেয়েটি গত …

%d bloggers like this: