Home / জাতীয় / জোটের নির্বাচিতদের আবারও সংসদে ডাকলেন শেখ হাসিনা

জোটের নির্বাচিতদের আবারও সংসদে ডাকলেন শেখ হাসিনা

জাতীয় ডেস্ক: শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে ওঠার প্রত্যাশা জানিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিজোটের নির্বাচিতদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের পার্লামেন্টে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠুক। আমি আশা করি, যারা জনগণের ভোট পেয়েছে তারা সংসদে আসুক।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও শপথ নিয়েছেন শুধু গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। বাকিরা শপথ নেবেন না বলে তাদের দল থেকে জানানো হয়েছে।

সংসদে আসায় সুলতান মনসুরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণ ভোট দিয়েছে। জনগণের ভোটের মর্যাদাটা রক্ষা করে তিনি (সুলতান) সংসদে এসে বসেছেন। আশা করি, বাকিরাও আসবেন।

“আমি আশা করি, যারা অন্তত জনগণের ভোট পেয়েছেন তারা সংসদে এসে জনগণের কথা বলুক। আমাদের বিরুদ্ধে যা যা বলার তা বলুক। কখনোই আমরা বাধা দেব না।”

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মধ্যে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি এগুলো দেশের মধ্যে থাকতে পারবে না।

“এর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”

নৌকায় ভোট দিয়ে পুনরায় বিজয়ী করায় তরুণ ভোটার ও নারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দশ বছর ক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়ন করেছি, যে উন্নয়নের ছোয়াটা একেবারে তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছেছে তারই ফলে একটা আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।

“সাধারণত ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু আমরা পরপর দুবার ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের সেবক হিসেবে করার যে ঘোষণা দিয়েছিলাম সেই সেবাটা জনগণ পেয়েছে বলেই এই বিশ্বাস ও আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা ব্যাপকভাবে আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। এত ব্যাপক সমর্থন আমরা পেয়েছি যে, সেটা অনেকে চিন্তাই করতে পারেনি।”

সমাপনী বক্তব্যে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, বৈদেশিক নীতি, কওমি মাদ্রাসা ও সিপিডি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌদি আরবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা যদি কোনও দেশে যুদ্ধ করে আমাদের সামরিক বাহিনী সেই যুদ্ধে লিপ্ত হবে না। যুদ্ধে আমরা অংশগ্রহণ করব না। একমাত্র শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অধীনে যদি হয় তখন আমরা যাব।”

‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বাংলাদেশের এই পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দশ বছর একটানা আমরা সরকারে। আজ পর্যন্ত কোন দেশ বলতে পারেনি যে, বাংলাদেশের সঙ্গে তার বৈরী সম্পর্ক। সকলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।”

কওমি সনদের স্বীকৃতি

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা কোনো অন্যায় কাজ আমরা করিনি। শিক্ষা নীতিমালার মধ্যে এনে তাদেরকেও আমরা ধর্মীয় শিক্ষার সাথে সাথে পার্থিব শিক্ষা দিয়ে জীবন-জীবিকার পথ আমরা করে দিচ্ছি। যাতে অন্য কেউ তাদের ব্যবহার করতে না পারে।

“এখানে কেউ কেউ বলবেন, মাদ্রাসা কিন্তু সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির কারখানা। এটা কিন্তু সঠিক নয়। আমরা সম্পূর্ণ একমত না।”

একমত না হওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিসহ কয়েকটি জায়গায় জঙ্গি হামলায় জড়িতদের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

“তাহলে এখানে শুধু মাদ্রাসার ছাত্রদের দোষ দিলে তো হবে না।”

শেখ হাসিনা বলেন, “মাদ্রাসাটাকে আমরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারি না। তারা আমাদের সমাজের একটা অংশ। আমরা যে শিক্ষা নীতিমালা নিয়েছি, সেই নীতিমালায় কী বলা আছে? একটা ইনক্লুসিভ এডুকেশন। অর্থাৎ সকলকে নিয়ে সম্মিলিত শিক্ষা ব্যবস্থা।

“বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা কেন প্রযুক্তি দিয়ে শিক্ষা দিচ্ছি, তাহলে এরা কেন সেই সুযোগ পাবে না? ওখানে কিন্তু অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীও আছে। অনেক মাদ্রাসায় কম্পিউটার শিক্ষাও দেওয়া হয়। তারা যথেষ্ট মেধাবী। তাদের মেধাটা কেন আমরা দেশের কাজে লাগাব না?”

সমালোচনা

বক্তব্যে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “কিছু লোক আমাদের দেশে আছে। যেটা আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মতিয়া আপা সব সময় বলে থাকেন, তার নামের সাথে তিনি যুক্ত করে দিয়েছেন সেনাপ্রিয়। তার নাম দেবপ্রিয় কিন্তু তিনি হলেন সেনাপ্রিয়। সিপিডির মুখপাত্র হয়ে কথা বলেন।

“ওয়ান ইলেভেনের সময় তাদের সুদিন। একটা অ্যাবনরমাল সিচুয়েশন যদি হয় বা একটা অসাংবিধানিক সরকার যদি হয় তখন খুব ভালো থাকে। তখন তাদের খুব সুবিধা। তখন তাদের মূল্য বাড়ে।

শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক এডিটররাও আছে। বারবার আমি ক্ষমতায় আসি আর তারা বিছানায় শুয়ে হা-হুতাশ করে যে, কী হল? তারপর নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। কিছু্ খুঁজে পায় না। কোথায় একটা নোক্তা দেবে। কোথায় একটা কিন্তু দেবে। ওই নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকে।

“তারা ব্যস্ত থাকুক। ওটা আমি কেয়ার করি না। আমি কেয়ার করি জনগণকে।”

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্রও তুলে ধরেন।

Check Also

না গিয়েও বেতন তুলছেন আ.লীগ নেতার স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: বিদ্যালয়ে না গিয়েও মাসের পর মাস বেতন তুলছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের …

%d bloggers like this: