Home / বিনোদন / চলচ্চিত্র / মাহি পা তুলে পরিচালকদের সাথে কথা বলে: জেমী

মাহি পা তুলে পরিচালকদের সাথে কথা বলে: জেমী

বিনোদন ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ হোসেন জেমী। দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে তিনি জড়িত। পাশাপাশি একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমান চলচ্চিত্রের শিল্পীদের ব্যবহার ও আচরণ নিয়ে বেজায় কষ্ট পেয়েছেন এই নির্মাতা। সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে এই নিয়ে লিখেছেন। পাঠকদের জন্য পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

অামি ক্যামেরার পিছনের মানুষ। অামার উপর অালোর ঝলকানি নেই। তারকা খ্যাতি নেই। দর্শকের ভিড়ে অামাদের ধাক্কা দিয়ে ভক্তরা ছুটে যায় তাদের প্রিয় তারকাদের সান্নিধ্য পেতে, অটোগ্রাফ নিতে।

যখন সিনেমার গল্প লিখি, পরিচালনা করি তখন নায়কের চরিত্রের মধ্যে গেঁথে দেই নিজের অাচরন, স্বভাব অার নীতিবোধ। দর্শক জানেও না তাদের প্রিয় নায়কের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলীর উৎস কোথায়!

এদেশের বর্তমান নির্মাতারা বেশীরভাগ সময়ই শুধু অবহেলিত নয়, তথাকথিত শিল্পীদের কাছে ভোগের উচ্ছিষ্টও।

এ নিয়ে অামার দুঃখ বোধ নেই। অামাদের দেশের মানুষগুলো এমনই। তারা যাকে পর্দায় দেখে তাকেই কাছে টানে। তাদের মুখের সংলাপ দর্শকদের কাছে অমিয় বানী। কিন্তু সেই সংলাপ লেখে একজন লেখক।

এখনকার বাপ্পি সাহা একজন পরিচালককে ধাক্কা দিয়ে অার একজনের সাথে কথা বলতে এগিয়ে যায়, সেদিনের পরিমনি এবং ১৮টি ছবির ফ্লপ নায়িকা মহরত অনুষ্ঠানে বয়োজ্যেষ্ঠ পরিচালকদের চেয়ার ছেড়ে দিয়ে সম্মান দেখায় না, ফোন করলে ফোন ধরে না, ফোন ধরায় কাজের লোক দিয়ে।

অপু, সাহারা এবং কিছু অশ্লীল ছবির নায়িকারাও একসময় এটা কোরতো। অাজ তারা সেই পরিচালদেরই কৃপার অপেক্ষায় অাছে একটা ছবি পাবার জন্য।

মৌমুমীও একবার তার ড্রাইভারকে দিয়ে অামার ফোন ধরিয়েছিলো। সেদিন সুটিংএ অামি তাকে বলেছিলাম-অামার নাম্বার দেখার পরও যদি সানি ভাই বাদে অন্য কোন চাকর-বাকর ফোন ধরে, তাহলে ঐ দিনই অামি অাপনার সাথে সুটিং বন্ধ করে দেব। তাতে অামার যত ক্ষতি হয়।

মাহিয়া মাহি মেকাপ রুমে চেয়ারে পা তুলে পরিচালকদের সাথে কথা বলে। অথচ সে কে, কোথা থেকে এসেছে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক পরিচয় গোটা চলচ্চিত্র পরিবারের সবাই জানে!
বড় দুঃখজনক!

তাহলে কি শাবানা অাপা, ববিতা অাপা, অালমগীর ভাই, ফারুক ভাই, প্রবীর দা, ওয়াসিম ভাইদের রেখে যাওয়া শিষ্ঠাচার অচল হয়ে গেছে? প্রযোজক, পরিচালকদের প্রতি এই ধৃষ্ঠতা মূলক অাচরনই কি এখন ইন্ডাস্ট্রিকে গিলতে হবে?

বেলা শেষে এসব ভাবনা অামাকে অাচ্ছন্ন করে। ওদের মত অর্থ অামরা পাইনা, খ্যাতি পাইনা, শুধু একটু সম্মানও কি অামাদের প্রাপ্য না?

তাইতো অনেক ক্ষোভ অার ব্যাথা নিয়ে বলিউডের দিকে হাত বাড়িয়েছি। ওখানে অন্তত সম্মানটা পাচ্ছি। ওখানে কোন মাহি অামার সামনে পা তুলে বসে মেকাপ করবে না। কোন পরী মনি পাশের খালি চেয়ারটায় তার ব্যাগ রেখে ঘ্যাট দিয়ে বসে থাকবে না।

বলিউডে একজন মিস ইন্ডিয়া, একজন মিস টিন ইউনিভার্স-2017, হিট ছবি পেয়ার কি পঞ্চনামার নায়িকা দাড়িয়ে সম্মান দিয়ে শুরুতে স্যার বলে সম্মোধন করে যে মর্যদা অামাকে দেখালো, তাতে মনে হোল-ক্যামেরার সামনে না থাকিতো কি হয়েছে, ক্যামেরার সামনের তারকারা অামাদের সম্মান দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে-একজন পরিচালকই ক্যাপ্টেন। তিনিই পারেন জাহাজকে সঠিক বন্দরে পৌছতে। জাহাজের বাকি সব তার যাত্রী।

ক্যাপ্টেনকে সম্মান করতে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই তাদের শিখিয়েছে।

অন্ধকারের মাঝে অালোর উদাহরনও অাছে। মিশা সওদাগর, পপি, জায়েদ খান, রিয়াজ, সাদেক বাচ্চু, শিমুল খান, সায়মন, রোজিনা অাপা, অঞ্জনা অাপা, দিলারা অাপা, জ্যাকি অালমগীরসহ অারও অনেক শিল্পি অাছেন যাদের ব্যবহার ও শিষ্ঠাচার তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রমান করে।

অার একদল অাছে, যারা তাদের বয়সের বেড়াজালে অাটকে পড়ে, এখন অার নায়িকা হবার ডাক না পাওয়ায়, তাদের সকল ক্ষোভ, জ্বালার বর্হিপ্রকাশ ঘটান অামাদের মত মধ্যবয়স্ক পরিচালকদের সাথে চিড়তা পানির মত ব্যবহার করে। যেমন-শিমলা, পূর্ণিমা, শাহনূরনা। এরা অাপন জ্বালায় জ্বলছে তবে মাহি, পরীদের মত অশোভন না।

নিঝুম রুবিনা, শারমীন শিলা, মিষ্টি জান্নাতসহ অারও কিছু জান্নাতী নায়িকা অাছে, যাদের পিছনে কিছু বটবৃক্ষ ‘ভাইয়া’ অাছে। যাদের ছায়াতলে এরা বেশীর ভাগ সময় শীতল থাকে বলে-পরিচালকদের সম্মান বা মর্যদা দেবার প্রয়োজন এরা বোধ করে না। তবে মাঝে মধ্যে ছায়া সরে গেলে এরা মধ্যবয়স্ক থেকে তরুন পরিচালকদের কারনে-অকারনে ঘন ঘন হাগ দেয়, সুইট হার্ট বলে ডাকে। এরা কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি।


মোদ্দাকথা, চলচ্চিত্রের এই দারুন খড়ায়, এখনও কিছু প্রযোজক অাত্মঘাতী বিনিয়োগে ছবি নির্মান করেন। তাদের পায়ের নীচে বিশ্বাসের গালিচা বিছিয়ে নিয়ে অাসেন একমাত্র পরিচালকরাই। যে পরিচালকরা তাদের মেধার সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ ঘটিয়ে ছবি নির্মান করেন। বেলা শেষে শিল্পীসহ সবাই সবাইর পাওনাটা বুঝে নিয়ে বাড়ী ফেরেন। শুধু বাকি থাকে মেধা বিক্রেতা পরিচালকের টাকাটা। ছবি ফ্লপ গেলে সেই টাকাটাও সব সময় পাওয়া যায় না। টাকা না হয় বুড়িগঙ্গার পানিতে বিসর্জন গেল, তবু তাদের অতৃপ্ত অাত্মা যেন উল্লেখিত নায়ক-নায়িকাদের ব্যবহার ও সম্মান দেখানোর মাধ্যমে কিছুটা হলেও তৃপ্ত হয় সেদিকে দৃষ্টি দেবার জন্য বিশেষ অনুরোধ থাকলো। চলচ্চিত্রের জয় হোক।

Check Also

বিয়েতে সেঞ্চুরি করতে চাই : সিমলা

বিনোদন ডেস্ক: ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত নায়িকা সিমলা। অনেকদিন ধরেই চলচ্চিত্রে নেই তিনি। তবে কিছুদিন আগে …

%d bloggers like this: