Home / জাতীয় / ৩ মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১৮ রোহিঙ্গা নিহত

৩ মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১৮ রোহিঙ্গা নিহত

জাতীয় ডেস্ক: মিয়ারমান থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া কিছু রোহিঙ্গা মাদক ও চোরাচালান ব্যবসার জড়িয়েছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খালা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে কয়েকবার। গত ৩ মাসে বন্দুকযুদ্ধে ১৮ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

১৩ মে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা মানবপাচারকারী নিহত হয়েছেন। সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাপলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহতেরা হলেন- টেকনাফ শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুর রহিমের ছেলে আজিম উল্লাহ (২২) ও উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত রহিম আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫২)।

৬ মে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। হ্নীলার লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহতরা হলেন- নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাচা মিয়ার ছেলে মুহাম্মদ আলম (৩৫) ও জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আলী হোসেনের ছেলে মুহাম্মদ রফিক (২০)। পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

২৩ এপ্রিল কক্সবাজারের উখিয়ায় বিজিবির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। উখিয়ার নিকটবর্তী টেকনাফের ১নং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পালংখালী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত দুই রোহিঙ্গা হলেন- থাইংখালী ১৯নং ক্যাম্পের বি-১ বøকের নবী হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন (২৩) ও থাইংখালী ১৩নং ক্যাম্পের বি-বøকের সুমন মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৫)। এ দুজন মাদক পাচারকারী বলে জানিয়েছে বিজিবি।

৬ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারটি দেশীয় অস্ত্র ও সাতটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উপজেলার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা হলেন-টেকনাফ নয়াপাড়া মোছনি শরণার্থী ক্যাম্পের বি-বøকের আমির হোসেনের ছেলে নুরুল আলম (২৩), এইচ বøকের ইউনুছের ছেলে মো. জুবাইর (২০) এবং একই বøকের ইমাম হোসেনের ছেলে হামিদ উল্লাহ (২০)।

৩১ মার্চ কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের পৃথক বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, নিহতরা ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতরা হলেন- উপজেলার হ্নীলা আলী আকবরপাড়ার মিয়া হোসেনের ছেলে মাহমুদুর রহমান (২৮) ও পশ্চিম সিকদারপাড়া মইন্যাজুমের নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আবছার (২৫) এবং রোহিঙ্গা নারী মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মÐ থানার রাইম্যাবিলের বদরুল ইসলামের স্ত্রী রুমানা আক্তার। টেকনাফের দমদমিয়া ও হোয়াইক্যং এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

২৭ মার্চ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মিয়ানমারের দুই রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত দুই ব্যক্তি হলেন, মিয়ানমারের জিবিংচংওয়ার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক মিয়া (১৯), একই এলাকার মোহাম্মদ আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াছ (১৮)। তারা দুজনই কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন।

১৪ মার্চ অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তের গুলিতে আরেক রোহিঙ্গা যুবক নিহত ও অপরজন আহত হয়েছে। টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের এইচ বøকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাÐ ঘটে। নিহতের নাম মোহাম্মদ হোসেন। বাবার নাম আজিম উল্লাহ। এইচ বøকের ৬৪০নং শেড, ৬নং কক্ষে থাকত। শরণার্থী নং (এমআরসি) ৬১০০১।

১২ মার্চ টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গাদের গুলিতে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত হোছন প্রকাশ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের আজিম উল্লাহ ছেলে ও এইচ ব্লকের ৬৪৪ সেডের ৬ নম্বর রুমের বাসিন্দা। তার এমআরসি নম্বর ৬১০০১।

২২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল আলম (৩৫)। র‌্যাব জানিয়েছে, নিহত নুরুল আলম ‘রোহিঙ্গা ডাকাত’। নুরুল টেকনাফের নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্প লুট ও আনসার কমান্ডার হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ২০ ফেব্রæয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. জাফর আলম (২৬) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর সুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

Check Also

জলবায়ু খাতে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় টিআইবি

জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত খাতে কমপক্ষে এক হাজার কোটি …

%d bloggers like this: