Home / জাতীয় / ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১৮৫

১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ১৮৫

নিউজ ডেস্ক : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আংশিক আপিল গ্রহণ করে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ আসামি মারা গেছেন এবং ২৮ জন আসামির কেউই কোনো আপিল করেননি।

অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে, নিম্ন আদালতের দেয়া দণ্ড থেকে খালাস দেয়া হয়েছে ৪৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে দেয়া দণ্ডের মধ্যে ১৩ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে দুজনকে, ১০ বছর ১৮২ জন, সাত বছর ১২ জন, তিন বছরের সাজা দেয়া হয়েছে চারজনকে। আদালতের রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে রোববার ও সোমবার পরপর দুদিনে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার ছিল মূল রায়ে দণ্ড ঘোষণা করার নির্ধারিত শেষ দিন। হাইকোর্টের বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আংশিক গ্রহণ করে আদালত এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। বিডিআর বিদ্রোহের মতো এমন জঘন্য ঘটনা ভবিষ্যতে এড়ানোর জন্য রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। তারপর বেলা ২টা ৩৫ মিনিট থেকে আসামিদের দণ্ড ঘোষণা শুরু হয়। প্রথম দফায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের রায় দেন বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। তারপর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন অপর সদস্য বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

সর্বশেষ সব আসামির দণ্ড ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম শাহজাহান রায়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে বুঝে নেন। তারা জানতে চান কাকে কত বছরের দণ্ড দেয়া হয়েছে। এ সময় আদালত এক এক করে অভিযুক্তদের নাম ও সাজার দণ্ড ঘোষণা করার বিষয়টি আইনজীবীদের বুঝিয়ে দেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের প্রাণহানির আলোচিত এ মামলায় ৮৫০ আসামির মধ্যে ৫৬৮ জনকে সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন (প্যানেল কোর্ট) আদালত।

তাদের মধ্যে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। সে সময় খালাস পেয়েছিলেন ২৭৭ জন।

মাহবুবে আলম বলেন, আজ হাইকোর্টের দেয়া রায়ে নিম্ন আদালতের দেয়া ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৮৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। পরে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির সময় আরো ৬ আসাসি মারা যায়। এ নিয়ে মোট ১০ জন আসামি মারা গেছেন। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা।

আদালত এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে। সোমবার হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হলো। হাইকোর্টে কোনো রায় পড়তে দুদিন সময় লাগার বিয়ষটি অনেক আইনজীবীই নজিরবিহীন বলেছেন। এ মামলায় আদালত এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সম্পূর্ণ রায় প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার মতো শোনা গেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: