Home / আইন-আদালত / হাইকোর্টের রায় : বহাল খালাফ হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

হাইকোর্টের রায় : বহাল খালাফ হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্ক:  সৌদি দুতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়েছে। একজনের ফাঁসির আদেশ ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেন। প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল সকালে এই রায় দেন।

রায়ে আসামি সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড, এবং আল আমিন, আকবর আলী লালু ও রফিকুল ইসলাম খোকনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মামুনকে কারা বিধি অনুযায়ী ২১ দিন থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। অবশ্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলে এবং রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করলে মৃত্যুদণ্ড রহিত হতে পারে। খালাফকে হত্যার অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর আসামি সাইফুল ইসলাম মামুন, আল আমিন, রফিকুল ইসলাম খোকন, আকবর আলী লালু ও  সেলিম চৌধুরী ওরফে সেলিম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিচার শেষে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪। এরপর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট সাইফুল ইসলাম মামুনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আল আমিন, রফিকুল ইসলাম খোকন ও আকবর আলী লালুর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পলাতক আসামি সেলিম চৌধুরীকে খালাস দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হয়।

গত মঙ্গলবার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক পুন: শুনানি শেষে গতকাল রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়। এর আগেও একবার যুক্তিতর্ক শুনানি হয়েছিলো। গত ২০ আগস্ট শুনানি শেষে ১০ অক্টোবর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যাওয়ায় রায় প্রস্তুত না হওয়ার কারণে এবং অন্যতম আসামি সাইফুল ইসলামের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওইদিন রায় ঘোষণা না করে পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞার নেতৃত্বের বেঞ্চ।

২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানের কুটনৈতিক এলাকার ১২০ নম্বর রোডের ১৯/বি নম্বর বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন খালাফ। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৪ জুন রাজধানীর দক্ষিণখান থানার গাওয়াইর এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম মামুন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি ও আল আমীন নামের তিনজনেকে একটি রিভলবারসহ গ্রেপ্তার কওে পুলিশ। পরে তারা স্বীকার করে যে, খালাফকে ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ার কারণে ওই রিভলবারের গুলিতে হত্যা করা হয়। পরে খালাফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে তিনজনই। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং আসামি সাইফুলের পক্ষে সিকদার মকবুল হোসেন ও অন্যান্য আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা মামলা পরিচালনা করেন।

Check Also

গংগাচড়ায় দোকান খোলা রাখায় জরিমানা

মোঃ শরীফুজ্জামান: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি আদেশ অমান্য করে প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান খোলা রাখায় …

%d bloggers like this: