Home / জাতীয় / সেই আবজালকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সাড়া

সেই আবজালকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সাড়া

নিউজ ডেস্কঃ দুর্নীতির ‘বাম্পার ফলনে’ মাত্র ৩০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (মেডিক্যাল এডুকেশন শাখা) বরখাস্ত হওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন।  আর সেই আবজালকে ধরতে প্রস্তুত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

জানা যায়, অধিদপ্তরে লুটপাটের এক পর্যায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ধাওয়া খেয়ে স্ত্রীসহ পালিয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।  যেখানে রয়েছে তাদের দুই লাখ ডলারের কেনা বাড়ি ও ব্যাংকে শত কোটি টাকা।

আবজাল দম্পতিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশনের (ইন্টারপোল) সাহায্য চেয়েছিল দুদক। চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবজালসহ ৮ অর্থ পাচারকারীর একটি তালিকাও ইন্টারপোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে ইন্টারপোল সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও আবজালের বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ফিরতি চিঠি পাঠিয়েছে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে। ইন্টারপোল থেকে সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি এসেছে বলে ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।  যা থেকে ‘আশার আলো’ দেখতে পাচ্ছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি।

নাম প্রকাশ না শর্তে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে তালিকাসহ চিঠি পাঠানোর পর ইন্টারপোল থেকে আংশিক জবাব এসেছে।  সেখানে সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও আবজাল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আদালত থেকে ইস্যু করা ওয়ারেন্টসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে ইন্টারপোল।  যা পাওয়ার পর ইন্টারপোল দুদককে আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

ইন্টারপোল থেকে পাঠানো জবাবের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ‘অবগত নন’ বলে রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন।

যদিও গত ১০ মার্চ ৮ জনের একটি তালিকা পাঠানোর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ইন্টারপোলের কাছে সাত থেকে আটজনের একটি তালিকা আমরা পাঠিয়েছি। আমাদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটা তালিকা আছে।  ওই তালিকা ইন্টারপোলে গেছে। তবে তাদের নাম আমি বলতে চাইছি না, নাম বলতে হয়তে তারা স্থান পরিবর্তন করতে পারে। ইন্টারপোলের সহযোগিতা চেয়ে এভাবে গেছে, অন্যগুলোও যাবে।’

২০১৯ সালের ২৭ জুন প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা পাচার এবং ৩৪ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ও মালামাল সরবরাহের নামে ২৮৪ কোটি ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫৫ টাকা পাচার ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অপর মামলায় স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গোপনসহ মোট ৩১ কোটি ৫১ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং আবজালের বিরুদ্ধে মোট ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই বছর ২৬ এপ্রিল কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে সরকারের সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই দম্পতি ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে সংস্থাটি।

এরই মধ্যে ২৫টি বাড়ি-প্লট ও জমি আদালতের আদেশে ক্রোক করেচে দুদক।

আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানমও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্যবসা করেন। মূলত স্বামী-স্ত্রী মিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য তা রা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।

গত ১০ জানুয়ারি আবজালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।  তবে রুবিনা খানমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও হাজির হননি।  ওই সময় আবজাল ও রুবিনার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।  তবে ধারণা করা হচ্ছে তার অনেক আগেই দেশত্যাগ করেন আবজাল দম্পতি।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: