Home / জাতীয় / সিপিএ সম্মেলন শুরু, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফিংয়ের সিদ্ধান্ত

সিপিএ সম্মেলন শুরু, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্রিফিংয়ের সিদ্ধান্ত

নিউজ ডেস্ক: কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলনে  রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য কোনও নির্ধারিত এজেন্ডা ছিল না। কিন্তু বিশ্ববাসীকে বিষয়টি জানাতে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ৩টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে সম্মেলনস্থলে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সম্মেলনের কোনও নির্ধারিত এজেন্ডা ছিল না। কিন্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসার আগেই এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। অধিকাংশ প্রতিনিধিরই এ বিষয়ে জানার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এ কারণে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে। ‌এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকরা প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আজ বুধবার বিকেলে সংসদ ভবনে স্পিকারের দপ্তরে সিপিএ চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল মি. আকবর খান বৈঠক করেন।

সেখানে সম্মেলনের কার্যসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ব্রিফিংয়ের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়। সম্মেলনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আনুষ্ঠাঙ্গিক অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।এ বিষয়ে সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেল মি. আকবর খান বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক বিষয়। আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে খুবই কৌতুহলী। এখানে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না। আমাদের এজেন্ডায় এ ইস্যুটি নেই। আমি মনে করি, সিপিএ চেয়ারপারসন ও স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গাদের বিষয়টি তুলে ধরবেন। এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরতে পারেন। এর বাইরে বিষয়টি জানার ও প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ থাকবে।”

এদিকে, সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার চিত্র তুলে ধরা হবে। ভিডিওচিত্রে গণহত্যার একটি দৃশ্যও দেখানো হবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চসহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিরীহ বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বরতার চিত্র সংসদীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করবেন। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র থাকবে।

সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন’র  (আইপিইউ) সম্মেলনে পাকিস্তান আসেনি। সিপিএ সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী পাকিস্তান প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। আগামী শনিবার দলটির ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাকিস্তানের সাতজন সংসদ সদস্য এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের জন্য বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ড. শিরীন শারমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, “আমরা স্বাগতিক দেশ। আমরা চাইবো সকল দেশ আমাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করুক। ” আর পাকিস্তানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারলে সেটা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি মনে করেন।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই

নানা ভয় ও শঙ্কা শেষে সিপিএ সম্মেলন শুরু করতে পারায় অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, “এতবড় একটি সম্মেলনের আয়োজন করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। ”  তিনি বলেন, “সমগ্র বিশ্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ নিউ ইয়ার্কেও হামলা হয়েছে। সেখানে আমরা সুষ্ঠুভাবে সম্মেলন শুরু করতে পেরেছি। আশাকরি শেষ করতে পারবো। ”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি। এই সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আইপিইউ’র মতো আবারও প্রমাণিত হলো বাংলাদেশ সক্ষম।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সম্মেলনকে সামনে রেখে পুরো রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে। সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সম্মেলন চলাকালে সংসদ ভবনে দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরেও দর্শনার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্মেলন চলাকালে রাজধানীর কয়েকটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো বর্ণিল সাজে সাজানোর পাশাপাশি আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ

গত দুই দিনে অনেক প্রতিনিধিই ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড ও মাল্টাসহ কয়েকটি দেশের স্পিকার রয়েছেন। আজ বুধবার শতাধিক প্রতিনিধির আসার কথা রয়েছে। শনিবারের মধ্যে সব প্রতিনিধি উপস্থিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, আজ সকাল ১০টায় হোটেল রেডিসনে ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর কন্ফারেন্স উদ্বোধন করা হবে। সিপিএ চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ কনফারেন্স উদ্বোধন করবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এই দেশগুলোকে নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে চায় সিপিএ। টানা তিন দিনের বিশেষ কন্ফারেন্সে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সমস্যাগুলো ভিন্ন। তাদের সংকটও বেশি। এ কারণে তাদের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এসব বিষয়গুলো সম্মেলনের গুরুত্ব পাবে। তিনি জানান, এই কন্ফারেন্সে গৃহীত প্রস্তাবগুলো মূল সম্মেলনে উত্থাপন করা হবে। এ ছাড়া নারী সংসদ সদস্যদের বৈঠকসহ আরও কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। সম্মেলন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই পৃথক পৃথক বৈঠকে আগামী দিনের কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। সম্মেলনের আটটি কর্মশালাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তরুণ সমাজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে

সিপিএ সম্মেলনে তরুণ সমাজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেল মি. আকবর খান। আজ বুধবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং-এ তিনি বলেন, সিপিএভুক্ত ৫২টি দেশের ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার ৬০ শতাংশই তরুণ। এই জনগোষ্ঠীর নানাবিধি সমস্যা (লিঙ্গ বৈষম্য, মানবাধিকার ও মূল্যবোধ) নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৬৩তম সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে। পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

সিপিএ সেক্রেটারি আরও বলেন, “তরুণ সমাজের মধ্যে যাদের বয়স ২৯ বছরের নিচে তাদের নানাবিধ উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো এই সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। জাতীয় সংসদে যারা প্রতিনিধিত্ব করেন তাদেরকে এসব তরুণ-তরুণীদের মূল্যবান কথা শুনতে হবে। কারণ তারাই আগামী দিনের নেতা। তাই সম্মান, মূল্যবোধ, আইনের শাসন, লিঙ্গ-সমতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং মানবাধিকারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে। সিপিএ চেয়ারপারসন নিজেও যুবকদের একটি গোলটেবিলের নেতৃত্ব দিবেন বলে জানান তিনি।

সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এই সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আকবর খান বলেন, এই সংস্থার সদস্য সংখ্যা রয়েছে ১৭ হাজার। কমনওয়েলভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসবেন। তিনি বলেন, “সংসদে নারী-পুরুষের সমতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা চাই সংসদে সংখ্যালঘুসহ অন্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হোক। বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। সম্মেলনে প্রতিবন্ধীদের কীভাবে মূলস্রোত ধারায় নিয়ে আসা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন তিনি।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: