Home / অর্থনীতি / ‘রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনশীলতা আরো বাড়াতে হবে’

‘রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনশীলতা আরো বাড়াতে হবে’

নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশের উৎপাদনশীলতা আরো বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতায় দেশের সক্ষমতা ৭০ ভাগ, এটা নব্বই ভাগ হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরো কাজ করতে হবে।

তোফায়েল বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণের জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশ ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে পেপারলেস ট্রেডের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তোফায়েল আহমেদ আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গনাইজেশন (এনপিও)’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘ টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এনপিওকে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব বাণিজ্যে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের হিসেবে ব্যবসা ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সূচকে ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সাত ধাপ এগিয়ে ১০৬তম অবস্থান থেকে ৯৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে এমডিজি অর্জন করেছে। এসডিজিও যথাসময়ে সফলভাবে অর্জন করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতি একসময় কৃষিনির্ভর ছিল বলে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২-’৭৩ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল প্রায় ৭৮ ভাগ, এখন তা হয়েছে ১৫ ভাগ। শিল্পখাতে অবদান ছিল খুবই সামান্য আজ শিল্পখাতের অবদান ৩২ ভাগ।তিনি বলেন, একসময় আমাদের জাতীয় বাজেট বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভর ছিল ৯০ ভাগ। আজ নিজের অর্থেই বাজেট ঘোষণা করা হয়।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকার ও রপ্তানিকারকদের বিশেষ উদ্যোগে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি হিসেবে গড়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধানের পর সর্বোচ্চ পয়েন্টের ভিত্তিতে বিশ্বের ১০টি তৈরি পোশাক কারখানাকে এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, এবছর ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল যে ১০টি তৈরি পোশাক কারখানাকে এলইইডি সার্টিফিকেট দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ৭টি। অপ্রত্যাশিতভাবে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরিতে পরিণত হয়েছে। এখন শ্রমিকরা নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। বাংলাদেশ এখন চলমান রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে ডিউটি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বেড়েই চলছে। গত অর্থ বছর পণ্য ও সেবা রপ্তানি হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে রপ্তানির পরিমাণ হবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। একান্তই মানবিক কারণে সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর প্রশংসা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে বলা হচ্ছে, ‘মানবতার মা’। শুধু বিএনপি সমালোচনা করছে। কিন্তু বিএনপি নেত্রী বিদেশে অবস্থান করছেন, দুঃখী রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াননি।
সেমিনারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: