Home / আর্ন্তজাতিক / মোদির ভাষণে খুশি চিকিৎসকরা, বিরোধীরা চান দুস্থদের প্যাকেজ

মোদির ভাষণে খুশি চিকিৎসকরা, বিরোধীরা চান দুস্থদের প্যাকেজ

নিউজ ডেস্কঃ ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেলো। মোট আক্রান্ত ১০ হাজার ৩৬৩, মৃত্যের সংখ্যা ৩৩৯। করোনমুক্ত হলো ১ হাজার ৬৩ জন। দেশের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লকডাউনের সময়সীমা জড়িয়ে দিলেন। আগামী ৩ মে পর্যন্ত ভারতে লকডাউন বহাল থাকবে। যদিও এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স শেষে পশ্চিমবঙ্গসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য লকডাউনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এদিকে, মোদির এই ভাষণকে দেশের চিকিৎসকরা সাধুবাদ জানালেও সরকারবিরোধীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, এই ভাষণে গরিব-দুস্থদের জন্য কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। মোদি কেবল দায়সারা বক্তব্যে পুরনো কথাই  বলে গেলেন।

এদিকে, নরেন্দ্র মোদি তার ভাষণে দেশবাসীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘দেশের স্বার্থে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেন নতুন করে হটস্পট এলাকার সৃষ্টি না হয। দ্বিতীয় দফার লকডাউন হবে কঠিন ও কঠোর। আগামীকাল (১৫ এপ্রিল) সরকারিভাবে এর গাইডলাইন প্রকাশিত হবে।’

মোদি তার ভাষণে ৭ দফা ঘোষণা করেছেন। এই ৭ দফা ঘোষণার মধ্যে তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় দফার লকডাউন কালে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রত্যেক জেলা ও মহল্লায় নজরদারি কড়া হবে। যারা এই লকডাউনে সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ মেনে পালন করবে, তাদরে বিশেষ পুরস্কারের ভূষিত করা হবে। ২০ এপ্রিল থেকে করোনা অধ্যুষিত এলাকাগুলো বাদ দিয়ে বাকি এলাকাগুলোতে শর্তসাপেক্ষে যাতায়াতের ছাড় দেওয়া হবে।

বয়স্কদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার আহ্বান জানান মোদি। একইসঙ্গে প্রাইভেট ও করপোরেট সেক্টরগুলোকে অনুরোধ করে বলেন, তারা যেন সবাই চাকরিতে বহাল থাকে। ডাক্তার নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ বাহিনীন সদস্যদের বিশেষ সম্মান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তার নিজস্ব অ্যাপস ‘আরোগ্য সেতু’র গাইডলাইন মেনে চলারও আহ্বান জানান।

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ ও লকিডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধিতে খুশি চিকিৎসক মহল। তাদের বক্তব্য, মোদি ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এই সময় লকডাউন তুলে নেওয়ার অর্থ দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া। বরং এই দুই সপ্তাহ দেশকে নজরদারির মধ্যে রেখে করোনার সমীক্ষা করা সহজ হবে। আগে জীবন, এরপর জীবিকা।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পর দেশে উঠেছে এক বিতর্কের হাওয়া। তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখার্জি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নতুন তো কোনো কথাই বললেন না। লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়া তিনি যে কথাগুলো বললেন, সেগুলো তো আমাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রতিদিনই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বলছেন। টানা লকডাউনে দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের প্যাকেজ কোথায়? দিনমজুর, দুস্থ, সাধারণ মানুষের মুখে দুবেলা অন্নসংস্থানের প্যাকেজ কোথায়? তার ভাষণ শুনে বড়ই আশাহত হলাম।’

এক কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, ‘আমি জানি মোদি সুবক্তা। কিন্তু সবসময় ব্যায়াম করে মানুষের পেট ভরবে না। টানা লকডাউনে দেশে যে খাদ্যের হাহাকার শুরু হয়েছে, তা নিবারণের উপায় কী? প্রধানমন্ত্রী তো কিছুই বললেন না। সাধারণ ভাষণ দিয়ে গা বাঁচিয়ে বেরিয়ে গেলেন।’

বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডন করে বিজেপির জেলা সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, বিরোধীদের কাজই হলো, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর খুঁত বের করা। তার ভাষণ কেউ মনোযোগ সহকারে শোনেনইনি। যেকোনো ইস্যু চিৎকার করলেই হয়ে গেলো?’

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: