Home / দেশজুড়ে / ঢাকা / মানবতায় অক্সিজেন

মানবতায় অক্সিজেন

নিউজ ডেস্ক : কিছু মহাপ্রান মানুষ আমাদের সমাজে বিদ্যমান, যাদের সংস্পর্শে অসাধ্য প্রচেষ্টাও সরল ও সফল হয়। স্বপ্ন দেখা ও বাস্তবায়নে যে বিস্তর পথ-পরিক্রমা, সেই বন্ধুর পথে এই মানুষগুলো হয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক। এমনই একজন মানুষ হল ইমতিয়াজ চৌধুরী, আত্মিক ভাবে মানবসেবক, শখের বশে, লেখক, সম্পাদক আর পেশায় সহযোগী গবেষক, ভূগর্ভস্থ পানি বিষয়ক প্রকল্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

“দু’বর্ণ গল্প (বইমেলা ২০১৯)” “দু’বর্ণ গল্প ২ (বইমেলা ২০২০)” নামে “ইমতিয়াজ চৌধুরী” সম্পাদিত দুটি প্রকাশিত সংকলিত সফল গ্রন্থও আছে ওনার। বাংলাদেশে যখন সাধারন ছুটির আওতায় সবকিছু স্থবির তখন উনি সরব হলেন আর্ত মানবতার সেবায়।

সেই এপ্রিল ২০২০ এর একেবারে গোঁড়া থেকেই সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষ, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার, এতিমখানা, কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। উনি নিজের পরিবার ছাড়াও, পরিচিত মানুষদের কাছ থেকে, নিজের সময় ও শ্রম দিয়ে, অর্থ সংগ্রহ করেছেন শুধুমাত্র মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য।

“কোভিড ১৯ আক্রান্ত মানুষদের মাঝে যারা একটু Advance Stage এ চলে যান, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে নির্দিষ্ট মাত্রায় অক্সিজেন নিতে হয় আর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া অনেকেরই সামর্থ্য ও ক্ষমতার বাহিরে। তাই বলে কি তারা চিকিৎসা পাবে না?

শুধুমাত্র অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুমুখে পতিত হবে? এই ভাবনায়, অনেকদিন ধরেই ভাবছিলেন, কিভাবে কোভিড ১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের (Advance Stage) বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দেওয়া যায়! জুন ২০২০ এর শুরুর দিকে যখন দেশে করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় অক্সিজেনের ব্যবহার বেড়ে গেল এবং তা সাধারন মানুষের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছিল দিনে দিনে, তখন এই মহাপ্রান মানুষটি আর শান্ত থাকতে পারলেন না, সিন্ধান্ত নিলেন অন্তত কিছু মানুষকে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবাটি দেবেন! ব্যাস যে ভাবা সে কাজ, শুরু করে দিলেন ওনার “মানবতায় অক্সিজেন” কার্যক্রমটি।

নিবেদিত প্রান, ইমতিয়াজ চৌধুরী কে ওনার “মানবতায় অক্সিজেন” কার্যক্রমটির সময়যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উনি বলেন, মহান আল্লাহর অসীম দয়ায়, রহমতে এবং প্রিয় মানুষদের ভালবাসায়, উৎসাহে বিগত এক, দেড় মাসে দুই লক্ষ টাকারও কিছু বেশী অর্থ সংগ্রহ করেন, তা দিয়ে ৭ টা অক্সিজেন সিলিন্ডার Spectra Oxygen Ltd. থেকে ক্রয় করলেন, সাথে বেশ কিছু পালস অক্সিমিটার ও মাস্কও ক্রয় করলেন এবং ওনার এই কার্যক্রম আগামী ৬ মাস পর্যন্ত চালানোর জন্য কিছু অর্থও গচ্ছিত রেখেছেন।

এরজন্যে ওনাকে সামরিক, সরকারী, স্বায়ত্ত শাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সুপারিশ-নামা যোগাড়ও করতে হয়েছে, বিনম্রচিত্তে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সেইসব উদারমনা কর্মকর্তাদের প্রতি। অক্সিজেন সিলিন্ডার ও গ্যাসের মান বিবেচনায়, ওনাকে এই ৭ টা অক্সিজেন সিলিন্ডার ও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুলতা নিয়ে প্রশ্ন করায়, অকপটে বলে ফেললেন “ভাই আমি ক্ষুদ্র একজন মানুষ, নগণ্য আমার সামর্থ্য।

আমি দেশ ও জাতিতে বাঁচাতে আসি নাই, আমি মহান আল্লাহর রহমতে ও দয়ায় মাত্র ৭ জন বা তার কিছু বেশী মানুষকে সাহায্য করার জন্য এসেছি, ব্যাস এইটুকুতেই আমি খুশি এবং আলহামদুলিল্লাহ্‌”।

উনি ওনার “মানবতায় অক্সিজেন” কার্যক্রমকে আরও গতিময় করার জন্য বর্তমানে “সংযোগ-Connecting People” নামক সামাজিক সংগঠনের সাথে একসাথে কাজ করছেন এবং ওনার মতে, এর মাধ্যমে একটা সুন্দর Doctors, Paramedics, O2 Transportation, O2 Distribution, Oxygen Cylinder Refill, Check & Balance এবং এক-ঝাঁক নিবেদিত প্রাণের এক চমৎকার মেলবন্ধনের মাধ্যমে কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত বিশাল তালিকার মাঝে অন্তত কিছু মানুষকে ইনশাআল্লাহ্‌ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ভাবে অক্সিজেন সংক্রান্ত সেবা দেওয়া সম্ভবপর হয়ে উঠবে।

ওনার পক্ষ থেকে অক্সিজেন সেবা পাওয়ার তালিকায় ১ম স্থানে থাকবে শিশুরা, ২য় স্থানে, সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র মানুষ এবং ৩য় স্থানে, সকলে।

এই করোনা পরিস্থিতিতে যারা শ্বাসকষ্ট মতো রোগে ভুগছেন অথবা অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাচ্ছে কিন্তুু আর্থিক সংকটের কারণে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না তারা যোগাযোগ করুন “সংযোগ-Connecting People ” নামক ফেসবুকভিত্তিক সামাজিক সংগঠনের সাথে।

সেবা পেতে লাগবে, রোগীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি/স্ক্যান (শিশুদের ক্ষেত্রে বাবা/মা এর) কপি, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও বর্তমান ঠিকানা। ইনশাআল্লাহ্‌ বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে যাবে তাদের ঠিকানায়।

Check Also

এই সৌদি প্রবাসীদের কী হবে?

নিউজ ডেস্ক  : সৌদি আরবে নতুন করে বাংলাদেশ বিমানের ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না মেলায় জটিলতা কাটছে …

%d bloggers like this: