Home / কৃষকের মাঠ / ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের কিছু কথা (পর্ব-১)

ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের কিছু কথা (পর্ব-১)

ডা: আবদুল্লাহ আল মাসুদ: ১০০ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের খামার নিয়ে কাজ করার সুবাদে ছাগলের খামার সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি।

অন্যান্য জাতের তুলনায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের সুবিধা হল এটার বহুল বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা, দামি চামড়া আর রোগবালাই কম হওয়া। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল এর কান খাড়া থাকে তবে এখন ক্রস হয়ে এটা ঝুলে গেছে। অনিয়ন্ত্রিত যমুনাপাড়ির সাথে ক্রস না করে এই পাঠীকে ব্ল্যাক বেঙ্গল পাঠা দিয়ে পাল দেওয়া উচিত। এতে বংশ কৌলিন্য ভাল থাকে। এদের পি পি আর টিকা ৪ মাস বয়সে ১ সি সি চামড়ার নিচে দিলে মৃত্যু কঠিন ঝুকি হ্রাস পাই। একবছর পর বুস্টার করতে বলা আছে কিন্তু প্রতি ৬ মাস অন্তর করা উচিত।

কারণ, দেখা যায় ভ্যাক্সিন এর ইমুউনিটি ১ বছর থাকে না। পাঠাকে অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য, কাঠাল পাতা আর ক্যালশিয়াম দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে পাঠার মূত্রনালিতে পাথর জমলে কসাইয়ের কাছে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা। পাহাড়ী অঞ্চলে ছাগল মারা যায়, চামড়ায় ক্ষত হয়ে এর গুণগত মান কমে যায়, এর কারণ হল আটালি আর মাইটস, সুতীব্র রক্তশূন্যতায় ভোগে, বন বাদাড় পাহাড়ে গ্রামে এই পোকাগুলি বেশি, যদি ১০০ বহি:পরজীবী ১ ফোটা/এম এল করে রক্ত খায়, তাহলে প্রতিদিন ১০০ এম এল রক্ত নাই, বাচ্চারা বেশি মরে, এই সব অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রতি ৭ দিন পর পর ডিপিং করালে ভাল ফল পাওয়া যায়।

কাজ করতে গিয়ে অনেক হোচট খেয়েছি, এর পরেও কোন কারণ ছাড়া বাচ্চা মারা যেতো। পরে খেয়াল করলাম মানুষের মত এদের সাইকোলজি। একটার বাচ্চা অন্যটা সহ্য করেনা, বাচ্চাগুলি ছোট হওয়ায় মা চিনে না। তাই, অন্য ছাগীদের লাথি খেতে খেতে বাচ্চাগুলি মারা পড়ে। তাই ফার্মে গর্ভবতী ছাগীদের জন্য বেড়া দিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ করে দিলাম। বাচ্চা দেওয়ার ১৫ দিন আগে ছাগীকে সেখানে ঢুকিয়ে দিতাম, বাচ্চা হবার পরে মাকে সেখানে বেধে রেখে ১ মাস বাচ্চাগুলি মার সাথে থাকত আর দুধ খেত, ওদের মা চিনতে অসুবিধা হত না। ফলে, ৯৮% বাচ্চা টিকে গেল, ঘুরে দাড়ালাম। ১০/১২ দিন বয়স হলে খাসী করাটা ভাল।

ওপেন মেথড, এসময় খুব ব্লিডিং হয় না, ব্লাড ভেসেল ডেভেলপ হয় না টেস্টিসে, তাই নতুন ব্লেড দিয়ে কাজ সাড়া যায়, লিডোকেইন ব্যবহার করাটা উত্তম। ঘাস যেমন নেপিয়ার, জার্মান চপিং করে দিয়ে অভ্যাস করাতে হয়। ওরা চড়ে খেতে পছন্দ করে। তবে, স্টল ফিডিং অভ্যাস করালে সবি সম্ভব। বৃষ্টির দিনে ছাড়া উচিত, এরা ভিজলে পি পি আর রোগ চলে আসে। বাইরে থেকে কিনলে খামার থেকে কিনা উচিত, বাজারের ছাগল অসুস্থ।

ছাগল কেনার পর ৭ দিন কোয়ারান্টাইন করে পিপি আর ভ্যাক্সিন দিয়ে ফার্মে ঢুকাতে হবে। ছাগল কিনলে অনেক সময় বুঝা যায় না, পেটে বাচ্চা আছে কিনা, কোন ছাগল অসুস্থ মনে হলে, একচুয়ালি হয় যেহেতু আপনি বুঝতে পারছেন না তাই ছাগীকে প্রেগন্যান্সি সেইফ এন্টিবায়োটিক দিয়ে ৩/৫ দিনে প্রথম কোর্স করান।যেমন, Amoxycillin, ampicillin like amcox, moxacil vet, biipillin ds কিন্তু ভুলেও Renamycin না এবরসন করে দিবে, সহজে কন্সিভ করবেনা। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগী বছরে ২ বার বাচ্চা দিবেই প্রতিবারে ২/৩ টা বছরে ৪/৬ টা। প্রেগন্যান্সি পিরিয়ড প্রায় ৫ মাস। কোন পাঠা দিয়ে কোন ছাগীকে বীজ দিলেন রেজিস্টার এ লিখুন তারিখ, সময়, প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ। নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়ান।

সাবির্ক বিষয়ে জানার জন্য আমার আগের কর্মস্থল আই ডি এফ ও পি কে এস এফ কতৃপক্ষের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

ডা: আবদুল্লাহ আল মাসুদ (সাগর) 
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, দুমকি, পটুয়াখালী

“ব্রয়লার খামার স্থাপন লাখো বেকারের উন্নয়ন” (পর্ব-১) পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন…..

“ব্রয়লার খামার স্থাপন লাখো বেকারের উন্নয়ন” (পর্ব-১)

Check Also

“ব্রয়লার খামার স্থাপন, লাখো বেকারের উন্নয়ন” (পর্ব-৩)

ডাঃ সুদেব সরকার: এর আগে দুই পর্বে বয়লার মুরগীর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে আজকের …