Home / দেশজুড়ে / ব্যস্ত সময় কাটছে ঝালকাঠির কামারদের

ব্যস্ত সময় কাটছে ঝালকাঠির কামারদের

মোঃ আল-আমিন : ঝালকাঠির বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কামারের দোকানগুলো টুংটাং শব্দে সরগরম হয়ে উঠেছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন কামাররা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে অবিরাম কাজ করছেন তারা। আগুনের শিখায় লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা এসব ছুরি, দা, বঁটি, চাপাতি দিয়ে পশু কোরবানির পাশাপাশি মাংস কাটার জন্য। এসব কিনতে এখন কামারের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এ বছর এসব সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামাররা এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বন্যার কারণে কয়লার সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটায় শব্দ। লোহায় হাতুড়ি পেটায় ছড়াচ্ছে স্ফুলিঙ্গ। সেখানে যেন নেই কোনো দিন-রাত; অবিরাম চলছে কাজ আর কাজ। কামাররা জানান, বছরের ১১ মাসে তাদের ব্যবসা হয় একরকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। কয়েকজন কামারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়াও ব্যবহার করা হয় এঙ্গেল, রড, স্টিং, রেললাইনের লোহা, গাড়ির পাত ইত্যাদি। অনেকে লোহা কামারদের কাছে এনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে। এর মজুরিও লোহাভেদে নির্ধারণ করা হয়। আর বেশিরভাগ কামারদের কাছ থেকেই লোহা কিনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে বা রেডিমেট বানানো জিনিস নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, লোহার মানভেদে একটি দা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা (পাকা লোহা), আর কাঁচা লোহার দা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১০০ থেকে ৩৫০, পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরি ৫০০ থেকে ৩ হাজার, কুড়াল ৬০০ থেকে ১১শ, বঁটি ৩০০ থেকে ৮০০, চাপাতি ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশীয় এসব দা-বঁটির পাশাপাশি চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন মান ও আকারের ছুরি-চাপাতিও বিক্রি হয় এখানে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতি সিপ ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, চাপাতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, মাঝারি আকারের ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকায় এবং বঁটি ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

কামার নিখিল কর্মকার জানান, এ বছর প্রধান কাঁচামাল কয়লার সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল না পাওয়ায় উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে খরচও বেশি হচ্ছে। কোরবানি ঈদের আগে প্রত্যেক কামারশালায় ২০থেকে ৫০ হাজার টাকার মতো অর্ডার আসে। তবে আরও দু-একদিন গেলে বুঝতে পারব বাজার কেমন যাবে।

ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, কয়লার দাম বাড়ায় অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী মাল তৈরি করতে পারছি না। বন্যার কারণে ঠিকমতো কয়লার সরবরাহ হচ্ছে না। তিনি জানান, গত বছর প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। সেখানে এ বছর প্রতি বস্তা কয়লার দাম পড়ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তাই লোহার এসব সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ী মান্নান কামার বলেন, আশা করি গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রি বেশি হবে। দা, বঁটি, ছুরি ও চাইনিজ কুড়াল এগুলো ঈদ এলে বেশি বিক্রি হয়। তবে ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। এখন একটু কম বিক্রি হচ্ছে, কারণ এখন শুধু অর্ডার আসে কয়েকদিন পর ডেলিভারি দেয়া শুরুকরলেই বিক্রি বেড়ে যাবে। তবে এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে বঁটি।

দা-বঁটি কিনতে আসা ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসলে ঈদ কাছাকাছি চলে এলে ভিড় বেড়ে যাবে আর তখন কামাররা যন্ত্রপাতি ভালোভাবে না বানিয়ে কোনোমতে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়। তাই একটু আগেই এসেছি, বসে থেকে ভালোভাবে বানিয়ে নেয়ার জন্য। দাম বেশি নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম বেশি না কম তা বলতে পারি না, কামাররা যে দাম বলে সে দামেই কিনতে হচ্ছে; আমাদের তো আর কিছু করার নেই।

Check Also

এই সৌদি প্রবাসীদের কী হবে?

নিউজ ডেস্ক  : সৌদি আরবে নতুন করে বাংলাদেশ বিমানের ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না মেলায় জটিলতা কাটছে …

%d bloggers like this: