Home / দেশজুড়ে / ব্যবসা কেন্দ্রেই সময় কাটে ঝালকাঠির সাবেক ৩ পৌর পিতার

ব্যবসা কেন্দ্রেই সময় কাটে ঝালকাঠির সাবেক ৩ পৌর পিতার

মোঃ আল-আমিন: ঝালকাঠি পৌর সভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে। তখন থেকেই যারা পৌর পিতার দায়িত্ব পালন করে সাবেক হয়েছেন তাঁদের মধ্যে জীবিত আছেন ৩ জন। তারা ৩ জনেই সাবেক হয়ে বর্তমানে নিজ ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে সময় পার করছেন। জানা গেছে, পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হবার পৌর পিতার আসনে অধিষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ীকে চেয়ারম্যান নামে অভিহিত করা হয়। ২০০৭ সালে চেয়ারম্যানের পদটিকে মেয়র হিসেবে আইন পাশ করা হয়। তখন ঝালকাঠি পৌর মেয়র হিসেবে অধিষ্ঠিত হন আব্দুল হালিম গাজী। তিনি ১৯৮৯ সালের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে পৌর পিতার আসনে বসে ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ঘড়ি প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় বারে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে মোঃ বেলায়েত হোসেন একাধিকবার পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী পালাক্রমে ২০০৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আব্দুল হালিম গাজী মোমবাতি প্রতিকে তৃতীয় বারের মতো বিজয়ী হলেও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০০৫ সালে পৌর পিতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

তিনি নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্ব ও পৌর এলাকার সীমানা নির্ধারন সংক্রান্ত উচ্চ আদালতে চলমান মামলার কারণে ২০১১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নিজ ব্যবসা ও সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সময় পার করছেন। একান্ত আলাপকালে সাবেক জনপ্রতিনিধি আব্দুল হালিম গাজী জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই নির্বাচিত হয়েছি। পৌরসভার যে কোন কাজ পৌর পরিষদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে করতাম। এজন্য রাজনৈতিক চাপ থাকলেও তা উপেক্ষা করেই জনসাধারণের কল্যানার্থে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতাম। বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবার প্রয়োজন নেই। সরকার দলীয় নেতা দলীয় মনোনয়ন পেলেই তিনি নির্বাচিত হচ্ছেন। তাই বর্তমানে পৌরসভার নির্বাচনের পুরো বিষয়টিই মাথা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এখন আল্লাহর পথে আছি, নামাজ-রোজা করছি সেই সাথে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়েই সময় পার করছি।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে নির্বাচিত মেয়র হালিম গাজীকে অপসারণ করা হয়। এসময়ে পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আইউব আলী তালুকদার। ইতিমধ্যে সকল পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদকে মেয়র হিসেবে অভিহিত করা হয়। তারপর থেকে মেয়র হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন আইউব আলী তালুকদার। দায়িত্বপালনকালিন উন্নয়ন কাজের বিবরণ দিয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রথম মেয়র আইউব আলী তালুকদার জানান, সেনাসমর্থিত সরকারের শুরুর দিক থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড় সিডরের সময় সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে, ঝালকাঠি সিটি পার্ককে বিলুপ্তির পথ থেকে আধুনিকায়ন করে পৌর সিটি পার্ক নামকরণ করা হয়। ভাঙা শহীদ মিনারকে সংস্কার করে দৃষ্টি নন্দন ও সময়োপযোগী করা হয়। শহরের বৈদ্যুতিক লাইটপোস্টের বাল্ব পরিবর্তন করে টিউব লাইট স্থাপন করা হয়, যা এখনও আছে। পুরাতন গোরস্থানে স্থান সংকুচিত হবার ফলে ডায়াবেটিক সমিতির পিছনে নতুন গোরস্থান স্থাপন করা হয়েছে। ঈদগাহের আধুনিকায়ন করে মুসল্লিদের ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে জন্মনিবন্ধন সনদপত্র ফ্রি বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে কিভাবে দিন কাটাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঠিকাদারী ব্যবসা, নিজ বাসভবন দেখাশুনা ও সামাজ সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমেই দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

২০১১ সালের মার্চ মাসের নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আফজাল হোসেন। ৫ বছর মেয়াদ অতিক্রম করে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি তার ব্যবসা পরিচালনা ও তত্ত্বাবধায়ন করে সময় পার করছেন। এসময়ে তার উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড ও বর্তমান সময় কিভাবে অতিবাহিত হচ্ছে এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় সাবেক মেয়র আফজাল হোসেনের। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অফিস হিসেবে আমার পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা হয়। আমরা স্বপরিবারেই আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকের দায়িত্ব পালন করছি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমার পিতা মোঃ ইউসুফ আলী হাওলাদার ও বড়ভাই জাহাঙ্গির হোসেন বাবুল মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পরে ৭২ সালের নির্বাচনে আমার পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই আওয়ামীলীগের অফিস হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উন্নয়নের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হবার পরে শহরের পয়োনিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু ও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ ইউজিপ প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ ৪৭ টি বড় রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও পৌরসভার নিজস্ব তহবিলে ১৬৮ টি মাঝারি ও ছোট রাস্তা-কালভার্ট নির্মাণ এবং পৌরবাসীর বিনোদনের জন্য পৌর মিনিপার্ক স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা-চিকিৎসা-সাংস্কৃতিক ও দুঃস্থ-অসহায়দের মাঝে ১ কোটি টাকারও বেশি সাহায্য-অনুদান দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে ১৩ বছর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন, পরবর্তিতে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, জেলা আওয়ামীলীগের সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সৈনিক হিসেবে দেশ ও আওয়ামীলীগের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি নব্য আওয়ামীলীগার হাইব্রিডদের কারণে ত্যাগীরা কোণঠাসা ও উপেক্ষিত রয়েছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ত্যাগী নেতারা না থাকায় যেন খুশি তেমন দল চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Check Also

এই সৌদি প্রবাসীদের কী হবে?

নিউজ ডেস্ক  : সৌদি আরবে নতুন করে বাংলাদেশ বিমানের ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না মেলায় জটিলতা কাটছে …

%d bloggers like this: