Home / আর্ন্তজাতিক / বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বড় বিপাকে সব হাসপাতাল

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বড় বিপাকে সব হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের (ইলেকট্রিসিটি ব্ল্যাকআউট) সপ্তম দিন চলছে। এতে থমকে গেছে জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছে দেশটির সব হাসপাতাল। রোগীদের বাঁচিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো রকমে জেনারেটরের সাহায্যে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্ত হাসপাতালের কর্মকর্তারা খুব ঝামেলায় রয়েছেন।

হাসপাতালে রোগীর ছেলে জানিয়েছেন, কোনো রকমে টর্চ লাইটের সহায়তায় তার ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবার চিকিৎসা চলছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালটির পরিচালক বলেন, চলমান এ সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়েই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ৬৭ বছর বয়সের জীবনে আমি এর আগে কোনো দিনই এ ধরনের সংকট দেখিনি।

হাসপাতালটির বহু রোগীই এখন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে। তারাও ক্ষমতা থেকে মাদুরোর উৎখাতই চায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, মাদুরোর আত্মীয়রাই এখন দেশ ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী দেশ কলোম্বিয়ায় যাওয়া শুরু করেছে।

দেশটিতে খাদ্য এবং পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের জনগণ যেখান থেকে পাচ্ছে, সেখান থেকেই খাদ্য ও পানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

খাদ্য ও পানির জন্য দেশটির অনেক স্থানের বিভিন্ন দোকান-পাটও লুট করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাধ্য হয়ে বিভিন্ন নোংরা স্থান থেকে দূষিত পানি সংগ্রহ করেই পান করা হচ্ছে।

গত ৭ মার্চ থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ইলেকট্রিসিটি ব্ল্যাকআউট) সমস্যায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলাবাসী। ব্ল্যাকআউটের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলীয় ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হুয়ান গুইদো। এসব ‘হত্যায়’ মাদুরোকে ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

তবে এ নাশকতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

কিন্তু এ দায় প্রত্যাখ্যান করে মাইক পম্পেও বলেছেন, আমরা শুধু ভেনেজুয়েলানদের কল্যাণেই আগ্রহী।

সোমবার (১১ মার্চ) ভেনেজুয়েলায় চলমান সংকটের কারণে দেশটি থেকে নিজেদের সব কূটনৈতিক ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও বিরোধী দলের হুয়ান গুইদোর মধ্যে আন্দোলন চলছে। গত ২৩ জানুয়ারি গুইদো নিজেকে ‘অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিলে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ প্রায় ৫০টি দেশ তাকে সমর্থন করে। অন্যদিকে রাশিয়া, চীনসহ কিছু দেশ এখনও পর্যন্ত মাদুরোর পাশেই রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশাল অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে। এর মোকাবিলা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ত্রাণ সহায়তা চাইছেন গুইদো। তবে দেশটিতে কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাদুরো।

Check Also

সবচেয়ে বড় অস্ত্র ব্যবসায়ী হয়ে উঠছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সবচেয়ে বড় অস্ত্র কারবারি হয়ে উঠছে চীন। বহু দেশে শুধু অস্ত্র বিক্রি শুধু নয়, …