Home / বিনোদন / চলচ্চিত্র / বাংলাদেশের ছবিতে আমি ড্রয়িংরুম দেখতে চাই না : তৌকীর

বাংলাদেশের ছবিতে আমি ড্রয়িংরুম দেখতে চাই না : তৌকীর

বিনোদন ডেস্ক : অজ্ঞাতনামা’ আপনার জন্য অম্ল-মধুর স্মৃতি। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর মানুষ দেখতে যায়নি। সেই সিনেমাই আবার ইউটিউবে দেখার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়!

যে ধরনের প্রচারণার মধ্য দিয়ে ছবিটি মুক্তি পাওয়া উচিত ছিল সেটা হয়নি। হয় প্রযোজকের কারণে কিংবা পরিবেশক বা উভয়ের কারণেই। পরিবেশকরা সিনেমাটিকে যথেষ্ট বাণিজ্যিক মনে করেননি। সে কারণে ১০-১৫টা হলে ধরেছিল মাত্র, তাও যে খুব দর্শক পেয়েছিল, তা না। পরে যখন অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করল তখন আমার একদিকে ভালোই লাগল। লক্ষ্য তো দর্শককে দেখানো, ইউটিউবের হিসাবে ৬০-৭০ লাখ লোক ছবিটি দেখেছে।

‘হালদা’র বিষয়বস্তু নদী ও নারী।
আপনি চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কিভাবে ঠিক করেন? ‘অজ্ঞাতনামা’র সময় বলেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের সময় খবরের কাগজের একটি খবর দেখে বিষয়টি ভেবেছিলেন।

আমাকে যে বিষয়টি ভাবায় বা টানে এবং আমার মনে হয় যেটা মানুষের সামনে তুলে ধরা দরকার সেটাই করি। আমাদের এ রকম একটা নদী আছে অথচ আমরা জানি না, নদীটা আবার বিপন্ন হচ্ছে মানুষেরই কারণে, সেটাও খেয়াল করছি না। সেখান থেকে মনে হয়েছিল, এই নদীটাকে অন্তত পরিচিত করে দেওয়া যায় সারা দেশের মানুষের কাছে, হয়তো সবাই নদীগুলোর প্রতি যত্নশীল হবে।

নদী নিয়ে কি আপনার আলাদা আগ্রহ? ‘জয়যাত্রা’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘হালদা’- আপনার সিনেমায় নদী এসেছে বারবার।

নদী ছাড়া বাংলাদেশকে চিন্তা করা যাবে? বাংলাদেশটা তো একটা ব-দ্বীপ। জালের মতো নদী বিছিয়ে আছে দেশের মধ্যে, বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। প্রতিটি সংস্কৃতির বড় জিনিস হচ্ছে তার ল্যান্ডস্কেপ বা ভৌগোলিক অবস্থা। যেমন নেপাল-ভুটানের ছবিতে আমরা কী দেখি? পাহাড়। তেমনই বাংলাদেশের ছবিতে আমি ড্রয়িংরুম দেখতে চাই না। মাঠ, নদী, ফসলের ক্ষেত চাই। আমি ইনডোরের চেয়ে ল্যান্ডস্কেপ ও প্রকৃতির মধ্যে শুট করতে বেশি পছন্দ করি।

সিনেমার শিল্পী নির্বাচন করেন কিভাবে? চরিত্র অনুযায়ী নাকি ভালো অভিনেতা দেখে?

যে যেটা পারবে বা মানাবে তাকে দেই। সে কারণেই আমার ছবিতে ভিন্ন ধরনের অভিনেতারা এসেছেন, যেখানে যাঁকে যেমন দরকার। দু-একজন হয়তো কমন থাকেন, যেমন মোশারফ করিম আমার সব ছবিতেই আছেন, জাহিদ এবারই প্রথম। আগে সেলিম ভাই করেছেন, চঞ্চল করেছেন, মাহফুজ করেছেন।

আপনার সিনেমার সবাই প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা-অভিনেত্রী, কিন্তু ছোট পর্দার। প্রতিদিনই দর্শক যাঁদের টিভিতে দেখতে পায়। টিকিট কেটে তাঁদের প্রেক্ষাগৃহে দেখতে কতটা আগ্রহী হবে দর্শক?

আমি সব সময়ই মনে করেছি আমাদের দেশের টেলিভিশনের অভিনয়ের মানটা অনেক ভালো, অনেক ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের চেয়েও ভালো। বড় কারণটা হচ্ছে, তাঁরা সবাই মঞ্চে দীর্ঘদিন অনুশীলন করে তারপর এসেছেন। দর্শকের সামনে যদি ধারাবাহিকভাবে ভালো জিনিসটা তুলে ধরা যায় তাহলেই তার রুচিটাকে ঊর্ধ্বমুখী করা যাবে।

‘হালদা’র চরিত্রগুলো সম্পর্কে যদি ধারণা দেন…

এখন বলতে চাচ্ছি না। ‘হালদা’য় আমরা জনপদের গল্প বলতে চেয়েছি। এখানে যেমন জেলে পরিবারের মানুষও আছে, খেটে খাওয়া মানুষ আছে, যারা ওখানে সুবিধাভোগী সে রকম মানুষও আছে।

শোনা যাচ্ছে, জাহিদ হাসানের চরিত্রটা নেতিবাচক?

হ্যাঁ, সে এখানে উচ্চবিত্তের সুবিধাভোগী লোক।

‘অজ্ঞাতনামা’র সময় প্রেক্ষাগৃহ পেতে যেখানে যুদ্ধ করেতে হয়েছিল সেখানে পরের ছবি ‘হালদা’ মুক্তি পাচ্ছে ১০০টি হলে!

বিষয়টা আনন্দের, তবে একই সঙ্গে বিপদেরও। মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে না মিললে মানে প্রত্যাশা বেশি হয়ে গেলে সেটাও একটা চাপ কিন্তু। তবে এটা আমার কৃতিত্ব না। ১০০ হলে যখন আমাদের ছবি যায় তখন বুঝতে হবে দর্শক অনেকখানি এগিয়েছে, পরিবেশকরা তাদের অবস্থান অনেকখানি বদলেছেন, সেটাই আনন্দের খবর। এই ছবি যদি লগ্নি করা অর্থ ফেরত আনতে পারে তাহলে ইনডিপেনডেন্ট ছবির সংখ্যা বাড়বে।

ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই এই সিনেমার ভাষা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। চট্টগ্রামের ভাষা এমনিতেই কঠিন, সারা দেশের মানুষ কতটা বুঝতে পারবে?

এটা নির্দিষ্ট একটা জনপদের গল্প, নির্দিষ্ট সংস্কৃতির গল্প। তাদের সংস্কৃতির উপাদান এখানে এসেছে যেমন নৌকাবাইচ, বলিখেলা, মাইজভাণ্ডারি গান, তেমনি ভাষাটাতেও যদি তাদের অঞ্চলের ছোঁয়া রাখা যায় তাহলে সেটা আরো বিশ্বাসযোগ্য হবে। আমরা ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই সচেতন ছিলাম। কারণ আমি অথেনটিক করলাম কিন্তু বোঝা গেল না, তাহলে তো ব্যর্থ হবে জিনিসটা। সুতরাং কঠিন শব্দগুলো বাদ দিয়ে শুধু ওই অঞ্চলের ফ্লেভারটাই রাখার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় না বুঝতে কোনো অসুবিধা হবে। যদি কারো হয় সে জন্য ইংরেজি সাবটাইটেলও থাকবে।

‘হালদা’র পর কী? শোনা গিয়েছিল জীবনানন্দকে নিয়ে সিনেমা করবেন?

জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে সিনেমা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আসলে এ ধরনের সিনেমার জন্য অর্থ পাওয়া যায় না সেভাবে। এই কাজটা করতে গেলে আমাকে কমপক্ষে বরিশাল, কলকাতা, দিল্লি, ওড়িশা এই চার শহরে শুটিং করতেই হবে। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, অর্থ জোগাড় না হওয়া পর্যন্ত এটা বানানো কঠিন হবে।

Check Also

তামাকের বিরুদ্ধে “সিগারেট”

নাসিফ শুভ: স্লো পয়জন হিসেবে সিগারেট সারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ধূমপানে একদিকে যেমন নিজের ক্ষতি হয়, …

%d bloggers like this: