Home / বিনোদন / টেলিভিশন / বাঁধন বিয়ে করেছিল সম্পদের জন্য : সনেট

বাঁধন বিয়ে করেছিল সম্পদের জন্য : সনেট

বিনোদন ডেস্ক: লাক্স তারকা আজমেরি ইসলাম বাঁধন ও মাশরুর সিদ্দিকী সনেটের ডিভোর্স হয়েছে তিন বছর হয়ে গেছে। সম্প্রতি বিষয়টি বাঁধনের কল্যাণেই সামনে আসে। এরপর থেকে মেয়েকে নিজের কাছে রাখার জন্য সনেটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন গণমাধ্যমে। সেসব অভিযোগ সম্পর্কে কথা হয় সনেটের সাথে।

মেয়ে সায়রার বিষয় নিয়ে কথা বলতেই সনেট বলেন, সে (বাঁধন) মেয়েকে সময়ই দেয় না, মেয়েকে রাখত কাজের মেয়ের কাছে। হঠাৎ করে এখন সে ‘মা’ হয়ে গেল? সে আমাকে নির্যাতন করেছে, বাবা তুলে গালি দিয়েছে। আপনি তো একজন পুরুষ, পারবেন আপনার মৃত বাবা-মাকে ডার্টি ল্যাঙ্গুয়েজে গালি দিলে তা সহ্য করতে? এ দেশে নারী নির্যাতনের কথা হয় কখনোই পুরুষ নির্যাতনের কথা হয় না।

সনেট বলেন, দেখেন আমি তো মিডিয়ার লোক না। ডিভোর্স হয়েছে ৩ বছর আগে। হুট করে সেটা এখন কেন আলোচনায়? সে বলেছে মেয়েকে নিয়ে আমি কানাডায় চলে যাব। তার মানে কী কোনো আইন-কানুন নেই? আমি চাইলাম আর কোনো প্রসিডিউর ছাড়াই মেয়েকে নিয়ে পালি গেলাম? বিষয়টা কী এমন?

সে আমার বিরুদ্ধে নির্যাতনের কথা বলেছে, তাঁকে মানসিক নির্যাতন করেছি, কীভাবে মানসিক নির্যাতন করতে হয়? কাজের মেয়েকে সে কীভাবে নির্যাতন করত তা যদি আপনারা দেখতেন, যদি একটা ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেত তাহলে সারা বাংলাদেশ তোলপাড় হয়ে যেত। সত্য মিথ্যা শুধু বললেই তো হবে না। আমি তো তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ করতে পারি না, যেগুলো ডকুমেন্টেড না।

মাশরুর সিদ্দিকী বলেন, সে আমার কাছে এমন অনেক কাণ্ড করেছে যেগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। সে চেয়েছে মূলত আমাকে নিঃস্ব করতে। আমার কাছে শুধু তার চাওয়া ছিল অর্থ সম্পদ, অন্যকিছু না। সে তো আমাকে স্বামী মনে করত না। যে বাসা আমি সোয়া দুই কোটি টাকা দিয়ে নির্মাণ করে দিয়েছি সেটা ছেড়ে এক কাপড়ে চলে এসেছি। জমি তার মায়ের নামে কিন্তু চারতলার ওপর থেকে সাড়ে ৩ হাজার স্কয়ার ফিট ফ্ল্যাট করে তার ওপর সুইমিং পুল, বারবিকিউ স্পেস, গার্ডেন আনুষাঙ্গিক বিনোদনের বিষয় আমার টাকায় নির্মিত হয়েছে। গেলেই দেখতে পারবেন।

সনেট বলেন, আমি তো মুখের কথা বলি না। এসব ডকুমেন্ট আছে আমার কাছে। অথচ সে সাংবাদিকদের বলে বেড়ায় তার বাবা বাড়ি করে দিয়েছে। আমাকে মধ্যরাতে নোটিশ দিয়ে বলা হয় এটা আমার বাসা সকাল হলেই চলে যাবা। আমি কিচ্ছু আনিনি, সকালেই এক কাপড়ে চলে এসেছি। আমার সব জিনিস পড়ে রয়েছে।

চলে আসার কারণ হিসেবে সনেট বলেন, আসলে কতদিন আর এভাবে থাকা যায়। তার মধ্যে প্রচুর লোভ কাজ করত। আমার সমস্ত সম্পদ মেয়ের নামে লিখে দিতে বলত। আমার সম্পদ তো মেয়েরই হবে, কার হবে? আর লিখে দেওয়ার প্রশ্ন এখন কেন? সেটার তো সময় আছে। সে এই নিয়ে ক্রমাগত ঝামেলা পাকিয়ে ফেলল। মনে হয় সে এ জন্যই শুধু আমাকে বিয়ে করেছে। প্রতিমাসে তার এক লাখ টাকা হাত খরচ লাগত, চেক দিতে চাইলে নিত না, ক্যাশ টাকা চাই। তারপরও কিছু ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি।

মাশরুর সিদ্দিকী সনেট বলেন, আজ আমার মন খারাপ কাল আমার বাচ্চার জন্মদিন। ৬ অক্টোবর এলেই মন খারাপ হয়ে যায়। বাচ্চাকে সে আমার কাছে দেয় না। আমি একঘণ্টার জন্য আমার মেয়েকে কাল চেয়েছি, সে বলল ইনসিকিওর্ড। একটা সন্তান যদি বাবার কাছে ইনসিকিওর্ড হয় তাহলে আমার বলার কিচ্ছু নেই। আর বাচ্চার বিষয়ে মামলা করেছে সে। সমস্যা নেই, আমি তো আইনের বাইরে যেতে চাই না। বাচ্চা আগে আমার কাছে আসলে আর মায়ের কাছে যেতে চাইত না।

ফের বিয়ে প্রসঙ্গে সনেট বলেন, আমাদের ডিভোর্স হয়েছে ৩ বছর আগে। এরপর দীর্ঘদিন আমি একা ছিলাম। আমার বন্ধু-বান্ধবরা উদ্যোগী হয়ে আমাকে বিয়ে দিয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সে আমার স্ত্রীকে ফোন করে একটানা ‘বাংলা গালি’ দিত। মেইলে প্রচুর বাজে কথা লিখে পাঠাত। এসবের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সনেট বলেন, সে আমার স্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিল আমি খারাপ, সে আমাকে যাতে ডিভোর্স দেয় এই চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমার স্ত্রী কানাডায় থাকে সে যথেষ্ট ম্যাচিওর্ড। তাঁকে তো এসব বুঝিয়ে লাভ নেই। সে বোঝে এসব। সে আমার লাইফে ফিরে আসতে চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমাদের তো সব মিটে গেছে বহু আগে। এখন নিশ্চই নতুন করে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়ে আসতে চাইছে।

২০০৮ সালে পরিচয় হয় বাঁধনের সঙ্গে সনেটের। এ আইইউবিতে পড়াকালীন প্রেম, এরপর ২০১০ সালে বিয়ে। কলহ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর ডিভোর্স হয় বাঁধন ও সনেটের। মাশরুর সিদ্দিকী একটি ইন্টেরিয়র প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়াও নিজের কিছু ব্যবসা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে সনেটের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাঁধনের ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

Check Also

তামাকের বিরুদ্ধে “সিগারেট”

নাসিফ শুভ: স্লো পয়জন হিসেবে সিগারেট সারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ধূমপানে একদিকে যেমন নিজের ক্ষতি হয়, …

%d bloggers like this: