Home / দেশজুড়ে / খুলনা / প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে ঈশ্বরদী রেলওয়ে কোয়ার্টার

প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে ঈশ্বরদী রেলওয়ে কোয়ার্টার

দেশজুড়ে ডেস্ক: পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টারের ৮০ ভাগের বেশি স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত ৩৯৬টি ইউনিটও রয়েছে। এ ছাড়া ফাঁকা পড়ে থাকা জমির সবটুকু চলে গেছে অবৈধ দখলে। এর ফলে রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্য হয়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে ওইসব বাড়ির ভাড়া থেকে রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কার্যালয় সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, ২০১৭ সালের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী ঈশ্বরদীতে ৩৪২টি রেলওয়ের আবাসিক ভবন রয়েছে। এসব ভবনে মোট ইউনিট রয়েছে ১২১২টি। তার মধ্যে ৩৯৬টি ইউনিট পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরিত্যক্তসহ অন্য ইউনিটগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি অবৈধ দখলে রয়েছে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত ইউনিটগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন মানুষ। এসব ইউনিটে বসবাসকারীদের বেশির ভাগ মানুষই নিম্ন আয়ের।

স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালীর কাছ থেকে ইউনিট ভাড়া নিয়ে তারা সেখানে বসবাস করছেন। তবে কারা ভাড়া দিয়েছেন বা কত টাকা ভাড়া দিতে হয়- এ ব্যাপারে বসবাসকারীরা কেউই মুখ খুলতে রাজি হয়নি। এসব কোয়ার্টার মাঝেমধ্যেই হাত বদলও হয়। হাত বদলের সময় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়।এদিকে, অবৈধ বসবাসকারীরা পৌর এলাকার সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও এদের হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হয় না। তা ছাড়া অবৈধভাবে বসবাসকরীরা আবাসিক কোয়ার্টারের আশপাশের ফাঁকা জায়গা দখল করে যে যার মতো বাড়িঘর তুলেছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ফাঁকা জায়গা প্রতিকাঠা ২০-৪০ হাজার টাকা দামে বিক্রি করেছেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈধ কোনো  বসবাসকারী না থাকায় এসব ইউনিট থেকে তারা কোনো আয় পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অবৈধ বাসিন্দা জানান, আগে তাদের বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। জন্মের পর থেকে তারা এখানে বসবাস করছেন। এসব বাসায় এমন অনেকেই রয়েছেন, যাদের বাপ-দাদা আগে রেলে চাকরি করতেন। সেই থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে তারা এখানে বাস করছেন। আবার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কোয়ার্টারের সামনে ও পেছনের ফাঁকা জমিতে সেমিপাকা ঘর তুলে বসবাস করছেন। অনেকেই কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ সংযোগও নিয়েছেন। এসব করতে তাদের রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়নি।

রেলে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক-কর্মচারী জানান, রেলের নিজস্ব কোয়ার্টার থাকা সত্ত্বেও বাড়তি টাকা দিয়ে তাদেরকে অন্যত্র বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের বাড়িভাড়া বাবদ টাকা গুণতে হচ্ছে। তেমনি রেল বিভাগ এ খাতের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গার্ড কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ট্রেনচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘দখলের কারণে কোনও কোয়ার্টার খালি নেই। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এর জন্য দায়ী। আমরা যারা এখানে আছি, স্থানীয়দের ভয়ে তেমন কিছু বলতে পারি না। ‘

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী হাবিবর রহমান বলেন, ‘অনেকেই অনেক ধরনের কথা বলেন। কোয়ার্টার দখলে আমাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। যদি কোনো সম্পৃক্ততা কেউ প্রমাণ করতে পারে, তবে যা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা মাথা পেতে নেব। ‘ আবাসিক ভবন দখলের বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী ২ আসাদুল হক জানান, পরিত্যক্ত ভবনগুলো সংস্কারের কোনো পরিকল্পনা নেই। আর অবৈধ দখলদারের তালিকা বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কার্যালয়কে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারা উচ্ছেদ অভিযান চালাবেন।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ইউনুছ আলী বলেন, ‘আবাসিক কোয়ার্টার এবং সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা দেখাশোনার দায়িত্ব প্রকৌশল বিভাগের অধীনস্থ আইডাব্লিউ অফিসের। তারা যদি তালিকা তৈরি করেন আমাদের কাছে উচ্ছেদের জন্য বলে তাহলে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ‘ পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ম্যানেজার অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা এ বিষয়ে গতকালই আলোচনা সম্পন্ন করেছি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের নিরাপত্তার স্বার্থে অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ‘

Check Also

এই সৌদি প্রবাসীদের কী হবে?

নিউজ ডেস্ক  : সৌদি আরবে নতুন করে বাংলাদেশ বিমানের ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না মেলায় জটিলতা কাটছে …

%d bloggers like this: