Home / জাতীয় / ‘প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে মালিকদের যেন নতুন বাড়ি না হয়’

‘প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে মালিকদের যেন নতুন বাড়ি না হয়’

নিউজ ডেস্কঃ নাজমা আক্তার। তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের ব‌লিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের তি‌নি প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি। ফেডারেশনটিতে প্রায় ৭০ হাজার  গার্মেন্টস শ্রমিক জড়িত।

শ্র‌মিকদের ন্যায্য অধিকার আদা‌য়ের দা‌বি নাজমা আক্তা‌রকে ট্রেড ইউনিয়‌নে যোগদানে অনুপ্রা‌ণিত ক‌রে। মালিকদের শোষণ তাকে করে তোলে প্র‌তিবাদী। তি‌নি শ্রমিকদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন আওয়াজ ফাউন্ডেশন।

নাজমা আক্তার বিশ্বাস করেন, গার্মেন্টস কারখানাগু‌লো‌তে নারীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এবং কাজের পরিবেশ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন বৃ‌দ্ধি করা সম্ভব। ২০১৩ সালে বার্লিনের ‘আস্ত্রাইয়া ফিমেল লিডার অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’সহ বেশ কিছু সম্মাননা এই শ্র‌মিক নেত্রী‌কে এনে দি‌য়ে‌ছে স্বীকৃ‌তি।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতের সংকট এবং সংকটকালে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নাজমা আক্তার কথা বলেছেন রাইজিংবিডির স‌ঙ্গে।

চলমান সঙ্কটে মা‌লিকরা শ্রমিকদের বেতন কতটা পরিশোধ করবেন বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমা আক্তার বলেন, এখনো অনেক মালিক শ্রমিকদের বেতন দেয়‌নি। অধিকাংশ গার্মেন্টসে বেতন বকেয়া আছে।  বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে।  সম্প্রতি সাভারে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে দুই জন নিহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।  আপনারা সব কিছুই জানেন।

তিনি বলেন, যাদের ব্যাংকে ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন দেয়া হয় তারা হয়ত বেতন পেয়ে যাবে।  কিন্তু যাদের ম্যানুয়াল সিস্টেমে বেতন দেয়, তাদের কি হবে জানি না।  এটা এখন বড় সমস্যা শ্রমিকদের জন্য। আবার ১৪ এপ্রিল কারখানা খুলবে।  আদৌ লকডাউন খুলবে কিনা জানি না।  খুললেও দেখা যাবে ৪০ লাখ শ্রমিকের মধ্যে ১০ লাখ শ্রমিক বেতন পাবে না।  এটা একটু আপনারা বেশি বেশি লিখেন।

আগামি ১৬ এপ্রিলের মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে বেতন পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছে।  এমন আহ্বানের সাথে আপনি এক মত কিনা?

নাজমা আক্তার বলেন, এটা আমরা মানি না।  শ্রম আইনে আছে সাত কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।  বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক নিজেও ঘোষণা দিয়েছেন সাত কর্মদিবসের মধ্যে বেতন দিবেন।  ১৪ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন। এখন এই কথা মে‌নে নেওয়া আস‌লে সম্ভব না।

করোনাভাইরাসের মতো সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ বিকেএমই’র আওতায় নীট পোশাক শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরা আবার বন্ধ ঘোষণা এক ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করলো।  এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমা আক্তার বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের অমানবিক ভোগান্তিতে ফেলেছে।  এটা কারখানা মালিকরা ভালো জানেন।  একবার ছুটি দিলেন, আবার বন্ধ ঘোষণা করলেন।  মাঝখানে শ্রমিকদের বিপদে ফেলে দিলেন।  আমার মনে হয় সরকারের যথাযথ গাইডলাইল ছিল না।  যার কারণে এমন ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা।  আবার যারা বাড়ি চলে গেলেন তারা বেতন কিভাবে পাবেন সেটাও চিন্তার বিষয়।

করোনা ভাইরাসের মতো মহামারিতে আপনাদের  (শ্রমিকদের) বেতন-ভাতার বিষয়টি বিবেচনা করে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আপৎকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।  তাহলে বেতন-ভাতা দিতে কেন অসুবিধা হবে?

নাজমা আক্তার ব‌লেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের বেতনের জন্য ফান্ড দিয়ে‌ছেন। মালিকরা বলছেন দুই শতাংশ হারে ঋণ। তবে আমরা মনে করি ঋণ হোক, আর ফান্ড হোক আমাদের প্রত্যাশা মালিকরা শ্রমিকদের বেতন দিয়ে দিক। তারা ওই টাকা নিয়ে যেন আর একটা কারখানা না বানায়, আর একটা বাড়ি না বানায়। শ্রমিকরা যেন বেতন পায়। ত্রাণের নামে চেয়ারম্যান, মেম্বাররা নিজের গোলার মধ্যে চালের বস্তা রাখতেছে এ রকম যেন না হয়।’

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: