Home / জাতীয় / ‘পেডটা শুধু খিদার জ্বালা বোঝে, করোনা বোঝে না’

‘পেডটা শুধু খিদার জ্বালা বোঝে, করোনা বোঝে না’

নিউজ ডেস্ক: ‘যা পাইছিলাম সব শ্যাষ। দুই দিন উপাস ছিলাম। আজ খয়রাত করে চাউল আইন্যা পাক করছি। আর মরিচের ভর্তা করছি। এইগুলা দুপুরে খাইছি। পেডটা শুধু খিদার জ্বালা বোঝে, করোনা বোঝে না।’ করোনায় অবরুদ্ধ হয়ে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার হেমায়েত গাজী বস্তির ষাটোর্ধ্ব হামিলা বেগম।

বুধবার (১৫ মার্চ) এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এই হালিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে অনেক আগে। আর তার দুই সন্তান বিয়ে করে আলাদা সংসারে থাকে। বিভিন্ন বাসায় রান্নার কাজ করে নিজের একা সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু করোনার প্রকোপ বাড়ার পর বাড়িওয়লা সব পাওনা বুঝিয়ে ছুটি দিয়ে দেন। ওই টাকা কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। দুই-একদিনে ত্রাণ পেলেও এখন তাও পান না।

শুধু এই হালিমা বেগম নন, তার মতো অসংখ্যা দরিদ্র দুই বেলা দুই মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে দিশাহারা। পথে যে নামবেন, সেই সুযোগও নেই। এই বস্তির আরেক নারী  দুই সন্তানের মা জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, ‘স্বামী গাড়ি চালাইতো। এখন বেকার। আমাগো কেউ সাহায্য দেয় না।বড় কষ্টে দিন পার করছি।’

শুধু হেমায়েত গাজী বস্তি নয়, পাশের প্রেমতলা বস্তি, সাদেক খান বস্তি, বুদ্ধিজীবী বস্তির বাসিন্দাদেরও একই অভিযোগ।

প্রেমতলা বস্তিতে থাকেন পোশাক শ্রমিক জুবেদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘এখনো মার্চ মাসের বেতন পাইনি। যা আছিল, তা দিয়া কয়েটা দিন চলতে পারছি। এখন ঘরে কিছুই নাই। ত্রাণও পাই না।’

এই বস্তিতে থাকেন আরেক পোশাক শ্রমিক ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, ‘এখনো মার্চের বেতন পাইনি। সামনে রোজা ও ঈদ। এই সময়টা কীভাবে সংসার চালানোর  সামর্থ্য নেই। সব মিলিয়ে অথই সাগরে পড়ে গেছি।’

বস্তিবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২৫ মার্চের দিকে বস্তির কিছু পরিবার ত্রাণ পেয়েছিল। এরপর কেউ ত্রাণ দিতে আসেনি। স্থানীয় কাউন্সিলর অফিস থেকে ত্রাণপ্রত্যাশীদের নাম, ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নিলেও ত্রাণ দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় কয়েকটি বস্তিতে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কাজ করেন এমক কয়েকজনের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, খাবারের অভাবে কেউ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন। এছাড়া, সল্প বেতনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এমনও কয়েকজন জানিয়েছেন, যে প্রতিষ্ঠানে তারা চাকরি করেন, সেখান থেকে ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না। আর যে বেতন পান, শুধু সে টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি অসহায়, কর্মহীন, নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করেপারেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়। এখনো বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে।’ এছাড়া হটলাইনে যোগযোগ করলে যাচাই করে ত্রাণ বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

 

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: