Home / জাতীয় / পুরনো কারাগারের জায়গায় দ্রুত স্থাপনা নির্মনের কাজ শুরু হবে

পুরনো কারাগারের জায়গায় দ্রুত স্থাপনা নির্মনের কাজ শুরু হবে

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের ঐতিহ্য ঠিক রেখে পরিকল্পিত ডিজাইন অনুযায়ী অতি দ্রুত স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির ৫ নম্বর গ্যালারিতে কারাগারটির ঐতিহ্য ঠিক রেখে তৈরী করা ডিজাইন প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ ও নকশা প্রদর্শনী উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয় গত ৫ অক্টোবর ডিজাইন জমা নেয়া হয়। এতে ৩৪ টি ডিজাইন জমা পড়ে। এর মধ্যে জুরি বোর্ড তাদের মধ্য থেকে সার্বিক বিবেচনায় পুরস্কার ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত এলাকায় নকশা অনুযায়ী তিনটি জোন করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে জোন সি অর্থাৎ পুরাতন মূল কারাগারের ১৭ একর জমির মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

জোন-এ তে মাল্টিপারপাস হল, কনভেনশন সেন্টার, সিনেপ্লেক্স, খাবার ঘর, সুইমিং পুল এবং অন্য সুবিধাসহ গাড়ি পার্কিং, ওয়েটার বডি ও ব্যাংক থাকবে। জোন- বি তে বুক স্টোর, ফুলের দোকান, ভূগর্ভস্থ গাড়ির পার্কিং, জোন-সি তে থাকবে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, চার নেতার কারাস্মৃতি জাদুঘর, কনফাইন্ড হেরিটেজ ও উদ্যান।

ডিজাইন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করায় স্থপতি আবদুর রশীদ ও তার দলকে ৭ লাখ টাকা পুরস্কার, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় স্থপতি আমিনুল এহসান ও তার দলকে ৫ লাখ টাকা ও বিশেষ সম্মাননা হিসেবে স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম ও তার দল, কাশিফ হাসনাইন ও তার দল এবং আবুল ফজল মাহমুদুন নবী ও তার দলকে এক লাখ টাকা ও প্রত্যেককে সনদ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও কারা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও কয়েকজন স্থপতি উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পকলা একাডেমীর ৫ নম্বর গ্যালারিতে ডিজাইন প্রদর্শন গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে। চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল পাচঁটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ডিজাইনের প্রথম পর্বের কাজ ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানানো হয়।

স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নাজিমউদ্দীন রোডের এ কারাগারটিতে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতাসহ ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে দেশ স্বাধীনের জন্য আন্দোলনকারী অসংখ্য দেশপ্রেমিকগণ কারাবরণ করেছেন ও তাদের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঐতিহাসিক এসব স্থানগুলো ঠিক রেখে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অতি দ্রুত এই কারাগারটিকে ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ডিজাইন অনুযায়ী নির্মাণের পর আমাদের পুরনো কারাগারটি হবে নান্দনিক সৌন্দর্যমন্ডিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। আমরা পুরান ঢাকার পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে দর্শনীয় করে আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে রেখে যেতে চাই।

তিনি আরো বলেন, পুরান ঢাকার এই জেলখানার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ আমলের আগে এটি একটি ফোর্ট ছিল। তাছাড়া পুরান ঢাকার এই অংশের আলাদা সৌন্দর্য ছিল। সেই আদলেই জাদুঘর করা হবে। শিগগিরই সব স্থাপনা ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে। পুরান ঢাকাবাসী তথা সারাদেশের মানুষের জন্য এখানে সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, বিনোদন কেন্দ্র থাকবে, থাকবে মুক্ত জলাশয়। এর সবকিছুই হবে ডিজাইন অনুযায়ী।

অনুষ্ঠানে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরান ঢাকার এই কারাগারের জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য আমরা তিনটি ওপেন আর্কিটেকচারাল ডিজাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। এতে ২৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

গত ৫ অক্টোবর এর ডিজাইন জমা নেয়া হয়। এতে ৩৪ টি ডিজাইন জমা পড়ে। এর মধ্যে জুরি বোর্ড তাদের মধ্য থেকে সার্বিক বিবেচনায় পুরস্কার ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত এলাকায় নকশা অনুযায়ী তিনটি জোন করা হবে।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: