Home / আর্ন্তজাতিক / পশ্চিমবঙ্গ কম দামে ডিম দিচ্ছে

পশ্চিমবঙ্গ কম দামে ডিম দিচ্ছে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার থেকে প্রাণি সম্পদ দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্রে ডিম পাঠানো শুরু হচ্ছে। রাজ্য সরকার বলছে, যতদিন পর্যন্ত বাজারে ডিমের দামে নিয়ন্ত্রণ না আসছে, ততদিন হরিণঘাটাসহ সরকারের সুলভ মূল্যের দোকানগুলোতে মানুষ কম দামে ডিম কিনতে পারবেন।

খবরে বলা হয়, মাছে রাজ্যের অর্ধেকের বেশি চাহিদা মেটায় অন্ধ্রপ্রদেশ। ডিমেও সেই অন্ধ্রপ্রদেশ আর তেলেঙ্গানার উপরেই নির্ভর করতে হয় পশ্চিমবঙ্গকে। আর সেই যোগানে কোনো কারণে টান পড়লে রাজ্যের বাজারে মাছ ও ডিমের দামও বাড়ে। এ বছর ছয়টি পূজার পর থেকে হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোসহ দক্ষিণ ভারতেও ডিমের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। তখন এ রাজ্যে যোগানে টান পড়তে শুরু করে। এক হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ডিমের চাহিদা ১৫ শতাংশের মতো বেড়েছে। আর চাহিদার সঙ্গে ডিমের যোগানে ফারাক বাড়ছে নভেম্বরের শুরু থেকে।

কলকাতাসহ রাজ্যের খুচরো বাজারে ডিমের দাম বাড়তে বাড়তে ৬. ৫০ রুপিতে ঠেকেছে। বাজারের ঝোঁক এখন ৭ রুপির দিকে। প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে কলকাতার ৬০টি বিপণন কেন্দ্রে শনিবার থেকে ভর্তুকির ডিম যেতে শুরু করবে। সোমবার থেকে জেলাতেও ডিম পাঠানো হবে। তাদের অধীনে থাকা ২৬০টি বিপণন কেন্দ্রে কম দামে ডিম বিক্রি হবে।

রাজ্যের পোল্ট্রি শিল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে শীতের সময় প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটির মতো ডিমের প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে ৭৮ লাখের মতো ডিমের যোগান দেয় রাজ্যের সংগঠিত পোল্ট্রি খামারগুলো। এ ছাড়া ছোট খাট পোল্ট্রি খামার ও গ্রামাঞ্চলের উৎপাদন মিলিয়ে আরো ৭০ লাখ ডিম আসে রাজ্যের বাজারগুলোতে। চাহিদার বাকি পুরোটাই (প্রায় এক কোটির মতো) ডিম জোগান দেয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও কিছুটা তেলেঙ্গানা। আর এ বছর সেই অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানাতেও ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যের চাহিদার তফাৎ কিছুটা থেকেই যাচ্ছে।

বেশি ডিম চাইছে ঝাড়খণ্ড, ছত্রিশগড়, বিহার, উত্তরপ্রদেশও। ফলে অন্ধ্রপ্রদেশের পক্ষে সবার ডিমের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ সারাদেশেই ডিমের দাম এখন চড়া। ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর কলকাতার পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম ছিল ৪.৫৬ রুপির মতো। গতকাল তার দাম বেড়ে হয়েছে ৫.৫২ রুপি। আর সেই ডিমই খুচরো বাজারে এসে কোথাও ৬ রুপি, কোথাও বা ৬.৫০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ৭২-৭৫ রুপি ডজনে মানুষকে ডিম কিনতে হচ্ছে। অথচ গত বছর এই নভেম্বর মাসেই রাজ্যের মানুষ গড়ে ৪৮ রুপি ডজন দরে ডিম কিনেছে বলে কো-অর্ডিনেশন কমিটির তথ্য জানাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, ডিমের উৎপাদন বাড়াতে চলতি অর্থবছরে (২০১৭-’১৮) গ্রামাঞ্চলে ৬০ লাখ মুরগির বাচ্চা বিতরণ করা হবে।

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: