Home / বিনোদন / টেলিভিশন / পরিচালক যখন অভিনেতা

পরিচালক যখন অভিনেতা

বিনোদন ডেস্ক : অভিনেতা হওয়ার লক্ষ্যেই ১৯৯৪ সালে থিয়েটারে যোগ দিয়েছিলাম। প্রথমে ‘সুবচন’-এ, এখন আছি ‘দেশ নাটক’-এ।

একজন অভিনেতার চেয়ে একজন নির্মাতার হাতে অনেক বেশি অপশন থাকে সে কী করবে, পরে এ কারণেই নির্মাতা হয়ে গেলাম। অন্য পরিচালকদের আগ্রহে অভিনয় করেছি। নিজের আগ্রহকে কখনো প্রাধান্য দিইনি।

অভিনয়ে লুকের একটা ব্যাপার আছে। আমার সঙ্গে কোন চরিত্রটা যায় সেটা বুঝেই অভিনয় করি। আমি তো পরিচালনায় নিয়মিত, চাইলেই নিয়মিত অভিনয় করতে পারি। কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া করি না।

শেষ করলাম পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসারের চরিত্র। এই চরিত্রের জন্য তাত্ক্ষণিক অভিনেতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, পরে নিজেই করি। নাটকটির নাম ‘যুদ্ধের নাটক নাটকের যুদ্ধ’। এর এক বছর আগে করেছিলাম ‘অপরিচিতা’ নাটকে।

এখন পর্যন্ত যা অভিনয় করেছি তার মধ্যে ওয়াহিদ তারেকের নাটক ‘একটি যথাযথ মৃত্যু’, গিয়াসউদ্দীন সেলিমের ‘সূর্যের হাসি’ করে ভালো লেগেছে।

সিনেমার মধ্যে ওয়াহিদ তারেকের ‘আলগা নোঙর’ ও অনিমেষ আইচের ‘না মানুষ’-এ অভিনয় করে উপভোগ করেছি। অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা নেই, তবে অভিনেতা সত্তাটাও টিকিয়ে রাখতে চাই, মাঝেমধ্যে করব।

নিয়মিত পরিচালক, অনিয়মিত অভিনেতা

ইফতেখার আহমেদ ফাহমি

বছর দশেক আগে আমার অভিনয়ের শুরু, আমাদেরই ভাই-বেরাদর মেহমুদের নাটক ‘হ্যাঁ না’তে। এর আগে খুচরা অভিনয় করেছিলাম, যেমন ‘সিক্সটি নাইন’, ‘তালপাতার সেপাই’। ওখানে আসলে নিজেকে খুঁজে পাইনি। দর্শক কিভাবে পাবে! ‘হ্যাঁ না’ নাটকটার মূল চরিত্রে আমি। আমার বিপরীতে সোনিয়া আর বাবার চরিত্রে সোহেল খান। বেশ ভালো নাটক। এরপর রেদওয়ান রনির ‘বিপরীতে আমি’ করলাম। এ কাজটাও ভালো ছিল। ‘হাউসফুল’ ধারাবাহিকের একটা স্পেশাল পর্ব ছিল ‘হাউসফুল প্লাস’, সেখানে অভিনয় করেছিলাম। ঈদের সময়ের স্পেশাল এপিসোড। আর্টিস্ট খুঁজে পাইনি, বাধ্য হয়েই করেছিলাম।

নিজের ছবি ‘টু বি কন্টিনিউড’ও একরকম বাধ্য হয়েই করা। ওই রকম লম্বা দাড়ি তো এই বয়সের কোনো অভিনেতাই রাখতে চাইবে না। নকল দাড়ি লাগিয়ে কাউকে দিয়ে করাতে চাইনি। বড় দাড়ি রেখে নিজেই অভিনয় করে ফেললাম। আমার সহকারী কাজল আরেফিন অমির ‘ফিল ইন ‘দ্য গ্যাপ’-এ অভিনয় করেছিলাম, প্রচারিত হয়নি এখনো। রেদওয়ান রনির ধারাবাহিক ‘ক্যান্ডি ক্রাশ’-এ অভিনয় করছি। আসলে নিয়মিত পরিচালক, অনিয়মিত অভিনেতা বলা চলে। হুট করে কেউ বলল, মন ভালো থাকল অভিনয় করলাম। অভিনয়টা এমনভাবেই চালিয়ে যেতে চাই।

আমাকে দিয়ে যদি তাঁরা বিন্দুমাত্র উপকৃত হন, তাহলে না করব কেন

শরাফ আহমেদ জীবন

আমার তো অভিনয় করার কখনো ইচ্ছা ছিল না। কাছের লোকজন ক্যারেক্টার সেট করে আমাকে ডাকত। বলত, তুমি ছাড়া হবেই না। তখন বাধ্য হয়ে অভিনয় করতে হয়। সরয়ার [মোস্তফা সরয়ার ফারুকী] ভাই বলেন, ‘এটা জীবন করবে। ’ অমিতাভ রেজা ভাই বলেন, ‘তোর করতেই হবে। ’ অনম বিশ্বাস ভাই বলেন, ‘আরে এইটা তো তোকে ভেবেই লেখা। ’ কী করব, বলেন! তাঁরা বললে তো আর না করতে পারি না। এখন তো সমানে সবাই ডাকে। আমিও করে যাচ্ছি।

২০০৭ বা তারও পর হতে পারে। সরয়ার ভাইয়ের ডিজুসের একটি বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে শুরু। এই বিজ্ঞাপনটিতে আমাদের ভাই-বেরাদর সবাই ছিল। তারপর লম্বা বিরতি। সাত বছর পর অমিতাভ রেজা ভাইয়ের অফিস থেকে ফোন, জিপির বিজ্ঞাপনের মডেল হতে হবে। আগে করেছি, সরয়ার ভাই করিয়েছে। এখন কিভাবে করব! করতে হলো বাধ্য হয়ে। ‘জাগো’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম, কারণ চরিত্রটার জন্য কাউকে পাচ্ছিলেন না পরিচালক।

কিছুদিন পর সরয়ার ভাই ডাকলেন ‘মাই ক্যাশ’-এর একটি বিজ্ঞাপনের জন্য। এরপর অমিতাভ ভাইয়ের সঙ্গে হঠাত্ দেখা, ‘তুই কই থাকস, তোর একটা বিজ্ঞাপনে কাজ করতে হবে। ’ প্রাণের বিজ্ঞাপন করলাম, সেটাও হঠাত্ করেই ডাক। সাকিব ফাহাদের পরিচালনায় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মডেল হয়েছি আরেকটি বিজ্ঞাপনে।   সর্বশেষ নাটকে অভিনয় করলাম গত ঈদে, অনম বিশ্বাসের ‘তাইলে সেই কথাই রইলো’। একদিন ফোন দিয়ে আলাপ করল, এই গল্পের জন্য নায়িকা হিসেবে কাকে নিলে ভালো হবে? কথাবার্তা বলার পরের দিন বলল, এর মেইন ক্যারেক্টারটা কিন্তু তোমাকে করতে হবে। আমি বললাম, ভাই, এত দীর্ঘ সময় ধরে আমার ধৈর্য থাকবে না। জোর করে সেটাও করাল। গাজী টিভিতে এখন করছি বিপিএল উপলক্ষে ‘ক্রিকেট তক্কো’। কয়েকটা পর্বে উপস্থাপনা করতে হচ্ছে। এখন তার শুটিং নিয়েই ব্যস্ত। আসলে অভিনেতা হওয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই আমার। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ যদি ডাকেন, আমাকে দিয়ে যদি তাঁরা বিন্দুমাত্র উপকৃত হন, তাহলে না করব কেন।

দুইটা আমার প্রথম অভিনয়

আশফাক নিপুণ

২০০৫ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করি। ঠিক পরের বছর চ্যানেল ওয়ানে ‘ছবিয়াল উত্সব’ শুরু হলো। সপ্তাহে একটি নাটক প্রচারিত হবে, নির্মাণ করবে ফারুকী ভাইয়ের সহকারীরা। আমাদের মধ্যে একজন ছিল রাজিব আহমেদ, সে এখন নির্মাণের সঙ্গে নেই। মজার ব্যাপার হলো, ওর এক গার্লফ্রেন্ড ছিল, যার সঙ্গে ওর সারাক্ষণ ঝগড়া লেগে থাকত। ওই গার্লফ্রেন্ড আমাদের হাউসে আসত বেড়াতে। তখন তো আমরা সবাই এক হাউসেই থাকতাম। সবার সঙ্গেই মেয়েটার কথাবার্তা হতো, আমার সঙ্গে একটু বেশিই হতো। ব্যাপারটা প্রেম বা ভালো লাগার কোনো বিষয় নয়। কথাবার্তা সবার সামনেই হতো। ফারুকী ভাইয়ের মাথায় ঢুকেছে, আমি ওই মেয়ের প্রেমে পড়ে গেছি। এটা কেমন করে যেন রাজিবের মাথায়ও ঢুকে গেছে। আমার মনে হয়, ফারুকী ভাই ঢুকিয়েছেন। এসব করে ফারুকী ভাই মজা নিতেন। ফারুকী ভাই রাজিবকে বললেন, ‘প্রথম ফিকশনটা তোর এই প্রেম নিয়ে বানা। এই যে নিপুণ এসে ঢুকে গেছে, এটাও থাকবে। আর নিপুণের চরিত্রটা ও নিজেই করবে। ’ বসকে বললাম, আমি অভিনয় পারি না, কিছু করতে পারব না।

তিনি বললেন, ‘এই লুচ্চার ক্যারেক্টার তোর চেয়ে ভালো কেউ করতে পারবে না। ’ বস চাপিয়ে দিলেন। ছবিয়াল উত্সবের প্রথম নাটক ‘টু ইন ওয়ান’। ওটাই আমার প্রথম অভিনয়। মজার ব্যাপার হলো, রাজিবের এত রাগ ছিল আমার ওপর, সে একটা মারের দৃশ্য রেখেছে। আমি জানতামও না। খুব করে মার দিছে। তখন আমার জ্বর ছিল। রাতে যখন ফিরলাম, তখন ফারুকী ভাই বুঝতে পেরেছেন ব্যাপারটা। তিনি সিদ্ধান্ত দিলেন, প্রথম সপ্তাহে রাজিবেরটা যাবে। দ্বিতীয় সপ্তাহে যাবে ‘টু ইন ওয়ান আশফাক সংস্করণ’। প্রথমটা ছিল রাজিবের ভিউ থেকে। পরেরটা হবে আশফাকের ভিউ থেকে। ওটাতেও আমার অভিনয় করতে হয়েছে। এই দুইটা আমার প্রথম অভিনয়। এর অনেক পরে এক পহেলা বৈশাখে চ্যানেল আইয়ের জন্য নাটক ‘উপসংহার’ বানাবেন ফারুকী ভাই। আমি তখন তাঁর প্রধান সহকারী। ভাই বললেন, এখানের এই চরিত্রটা তুমি করবা। তারপর ভাইয়েরই ‘ওয়েটিং রুম’ করেছি। নিজের পরিচালনায় ধারাবাহিক ‘মুকিম ব্রাদার্স’-এও করেছি। অনেক দিন পর আদনান আল রাজিবের ‘মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট’ নাটকে অভিনয় করলাম। এ ছাড়া বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনেরও মডেল হয়েছি। সামনে আরো দুটি বিজ্ঞাপন প্রচারিত হবে।

অভিনয় করতে চাই না

মোস্তফা কামাল রাজ

আমি যখন ছবিয়ালে ঢুকি তত দিনে ছবিয়ালের সবাই কম-বেশি অভিনয় করেছে। প্রথম অ্যাসিস্ট করেছিলাম ইশতিয়াক আহমেদ রুমেলের নাটক ‘কবুতর’-এ। রেদওয়ান রনি আর ইফতেখার আহমেদ ফাহমির সঙ্গে হূদ্যতা হলো এই নাটক করতে গিয়েই। ফাহমি তখন ‘ফাউল’ বানাবে। আমাকে বলল, এ নাটকে তুমি অ্যাসিস্ট করবা। নাটকের শুটিংয়ে গিয়ে বলল, অভিনয়ও করতে হবে। নাটকের প্রথম দৃশ্যটা আমার আর মোশাররফ করিম ভাইয়ের। তারপর করলাম ‘লস প্রজেক্ট’। ফারুকী ভাইয়ের ‘পিক পকেট’ করলাম। এখানে আমার বেশ ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র ছিল। রনির ১৩ পর্বের ‘লাকি থার্টিন’-এও অভিনয় করেছিলাম। দুটি বিজ্ঞাপনচিত্রও করেছিলাম—‘সিটিসেল জুম’ ও ‘কনফিডেন্স সল্ট’।

আমি আসলে অভিনয় করতে চাই না। অনেকেই অনেক সময় ডাকেন অভিনয়ের জন্য। আমি তো আসলে নির্মাতা, অনেক দিক সামলাতে হয়। কিছুদিন আগে আজাদ কালাম তাঁর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘উমর’-এ অভিনয় করতে বললেন। উনি বড় ভাই, মুখের ওপর ‘না’ করতে পারলাম না। এর মধ্যে পত্রিকায় নিউজও হয়ে গেছে। পরে গল্পটা শুনে বুঝলাম, করা যাবে। তবে এখনো ফাইনাল কিছু বলিনি। এই ছবির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই বলছেন তাঁদের প্রজেক্টে অভিনয় করতে। আমি আছি নতুন ছবির প্রি-প্রডাকশন নিয়ে। এই ফাঁকে এত কাজ নেওয়া যাবে না।

কাজের মধ্যে থাকতেই আমার ভালো লাগে

সাইফ চন্দন

আমার শুরুটা থিয়েটারে, ‘বাংলা নাট্য সম্প্রদায়’ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। মহিলা সমিতির মঞ্চে অনেক শো করেছি। আবৃত্তি করতাম, সংস্কৃতির নানা মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এরপর হঠাত্ করেই বিরতি, কারণটা হলো আমার চেহারা, একেবারে বাচ্চা চেহারার কারণে সব চরিত্র করতে পারতাম না। সাংবাদিকতায় এলাম, পাশাপাশি হলাম সহকারী পরিচালক। সেখান থেকে পরিচালনায়। পরে টুকটাক অভিনয় করেছি। এখন করছি ‘নীল ফড়িং’ ছবির প্রধান চরিত্রে। অনন্য মামুনের ছবি ‘আমি তোমার হতে চাই’তে অতিথি চরিত্র করেছি। এই দুটি ছবি করার পর অনেকেই অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার উত্সাহ দেন। অনেক দিন ধরে মিডিয়ায় আছি, পরিচালকরাও ঘনিষ্ঠ। সে কারণে অনেকেই অভিনয়ের জন্য ডাকেন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘ভোলা’, ‘রৌদ্রছায়া’। এখন করছি ‘ভালোবাসি কত বুঝাব কেমনে’র শুটিং। টিভি নাটক, শর্টফিল্ম, এমনকি মিউজিক ভিডিওর মডেলও হয়েছি।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, অভিনয়ে নিয়মিত হলে নির্মাণে ব্যাঘাত ঘটে না? আসলে প্রতিনিয়ত কাজের মধ্যে থাকতেই আমার ভালো লাগে। পরিচালনা আমার প্রথম প্রায়রিটি, অভিনয় করি নিজের ভালো লাগার জায়গা থেকে। বছরে একটি বা দুটি সিনেমা নির্মাণ করতে চাই। বাকি সময়টায় তো কাজ থাকবে না। তখন অভিনয় করব।

কখনোই অভিনয়ে মনোযোগী হইনি

মাবরুর রশীদ বান্নাহ

ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ভাইয়ের হাত ধরেই অভিনয়ে আসা। প্রথম অভিনয় তাঁর ‘এসো নিজে করি’ নাটকে। তাঁর বেশ কয়েকটা নাটকে অভিনয় করেছিলাম। তার মধ্যে ‘হাউসফুল’, ‘ফিফটি ফিফটি’ উল্লেখযোগ্য। অভিনয়ের ইচ্ছা কখনো ছিল না। তাই কখনোই অভিনয়ে মনোযোগী হইনি। নিজে তো অনেক নাটক বানালাম। আগে কখনোই ইচ্ছা হয়নি, অভিনয় করি। এবারই প্রথম নিজের ইচ্ছায় অভিনয় করলাম শর্টফিল্ম ‘সেকেন্ড চান্স’-এ, তবে এ ব্যাপারটা ভিন্ন। আমার জীবনের সঙ্গে গল্পের চরিত্রটির অনেক মিল। মনে হয়েছে, এ চরিত্রটি আমি করলে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হবে। সামনে যদি এমন কিছু হয় যেটা আমি পারব, রিয়াল লাইফে আমি যেমন তেমন চরিত্র হলে হয়তো অভিনয় করব।

আরো যাঁরা আছেন
মাসুদ মহিউদ্দিন, কামরুজ্জামান কামু, রহমতুল্লাহ তুহিন, আশুতোষ সুজন, শাফায়াত মনসুর রানা, রিয়াজুল রিজু, সহিদ-উন-নবীরাও

Check Also

তামাকের বিরুদ্ধে “সিগারেট”

নাসিফ শুভ: স্লো পয়জন হিসেবে সিগারেট সারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ধূমপানে একদিকে যেমন নিজের ক্ষতি হয়, …

%d bloggers like this: