Home / ফিচার / নৈতিক শিক্ষায় লকডাউন

নৈতিক শিক্ষায় লকডাউন

শাহরিমা বৃতি: লকডাউন। দেশের মানুষের স্বার্থে। অথচ তারাই পুলিশ প্রশাসনকে দেখাচ্ছে বুড়ো আঙ্গুল। অহরঅহ ভাঙছে নিয়ম। সকাল থেকে সন্ধ্যেবেলা, এযেন চোর-পুলিশ খেলা। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা আদিকালের। তবে দেশের এই সঙ্কটকালেও তা কিভাবে নেশা হয়, সেটাই ভাবনার বিষয়।

দেশের জনগণের একটি বড় অংশ খেটে খাওয়া। যাদের কাছে মৃত্যুভয়ের চেয়ে কোন অংশে কম নয় ক্ষুধার যন্ত্রণা। খাবারের খোঁজে তারা বেরিয়ে পড়বেই।

আরেকটি অংশ, যারা সুযোগ থাকলেও নিয়ম মানতে চাননা, বরং ভেঙেই আনন্দ পান। এর কারণ সামাজিক মূল্যবোধ, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা, ঐক্য বিষয়গুলোর সাথে তারা পরিচিতই হননি কখনও। রাষ্ট্র তো বিরাট ব্যাপার। সেদিকে নাহয় নাই যাই। রাষ্ট্রের সবচেয়ে ছোট রূপ যেই পরিবার, সেখানেও কি ঐক্যের চর্চা আছে? এক কথায় বলা যায়, না। যেই শ্রেণির কথা বলছি তাদের বেশিরভাগই শিশুকাল থেকে দেখে এসেছে ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ, মারামারি-কাটাকাটি, পারিবারিক অশান্তি। কখনও মা-বাবার বিচ্ছেদ, মাদক, ধর্ষণ ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব সমস্যার নগ্ন রূপ দেখতে দেখতে বড় হওয়ায়, অনেককিছুই আর তাদের স্পর্শ করেনা। যেকারণে আশেপাশের দুএকজন ছাড়া বাকি সবাই, এমনকি পরিবারের সদস্যরাও হয়ে যায় শত্রু কিংবা দূরের কেউ। অনেকসময় অন্যের ক্ষতিতেও প্রশান্তি মেলে এসব মানুষের। মেটে অনেক না পাওয়ার দু:খ-কষ্ট। তাই তারা আইন ভাঙতেই পছন্দ করে। আরও কী কী উপায়ে রাষ্ট্র ও জনগণকে অসহযোগিতা করা যায়, তার উপায়ও খুঁজতে থাকে। এই মানসিকতার চর্চা করছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুবএকটা কম নয়। যেকারণে অনেকের কাছেই শুনতে হয়, করোনায় আক্রান্ত হলে রোগটি আরও ছড়িয়ে দিতে চান তারা। বিষয়টা এমন মরলে কেনো একা মরবো?

সবশেষে বলবো, আমরা যারা তথাকথিত শিক্ষিত, তারাও কি পেরেছি এই গণ্ডি থেকে বেরোতে? মনে হয় না। এখনও অনেক শিক্ষিত পরিবারে শেখানো হয় কীভাবে দশ জনকে পেছনে ফেলে এগোনো যায়। এটা শেখানো হয় না, কীভাবে সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যায়। আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার ছোট বোন যখন মাত্র ক্লাস থ্রিতে পড়ে, তখন এক পিকনিক থেকে শুধু ডাল ভাত খেয়ে ফিরেছিলো বলে আমরা কতই না হেসেছিলাম। বলেছিলাম বোকা মেয়ে, চাঁদা দিয়ে কেউ মাংস না খেয়ে ডাল ভাত খায়!! আফসোস, এখনও পরিবার থেকে আমরা শিখি সরলতা এবং পরপোকারী মানে বোকামি। ছোট্ট শিশুটি স্কুলে অন্যকে মেরে আসতে পারলে বাহাদুর, মার খেয়ে আসলেই বোকা। অনেক স্কুলে নিয়মও আছে যার যার টিফিন সে খাও, নো শেয়ারিং। যাদের শৈশব এমন তারা কীভাবে বড় হয়ে আর দশ জনের সাথে একাত্ব হয়ে চলবে? তারা কীভাবে এমন সংকটে দেশের জন্য লড়বে? অন্যের জন্য বিলিয়ে দেবে নিজেকে?

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Check Also

বিজ্ঞান ও ধর্মগ্রন্থসমূহে করোনাভাবনা

নিউজ ডেস্ক: কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠী নয়। পারমাণবিক বোমার হুমকি নয়। পৃথিবীব্যাপী একটাই ত্রাস, করোনাভাইরাস। …

%d bloggers like this: