Home / আর্ন্তজাতিক / নিধন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে

নিধন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক রূপান্তর অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হওয়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা এই গুরুত্বারোপ করেন।

দেশটির ওপর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে কোনো দেশই প্রস্তাব করেনি। যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব না করলেও দেশটিকে সব ধরনের অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত রাখার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য

বাংলাদেশের প্রশংসা এবং মানবিক সহায়তায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে কফি আনানের নেতৃত্বে মিয়ানমার সরকারের গঠিত রাখাইন রাজ্যবিষয়ক কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ও সেনা অভিযান বন্ধ এবং রাখাইনে মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বক্তব্য দিতে গিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতার তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ রাখার জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বার্মিজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাতে আমরা ভীত হব না।

কারণ সেখানে বর্বর এবং জাতিগত সংখ্যালঘু নিধন চালানো হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ বার্মিজ নেতাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, যাঁরা গণতান্ত্রিক বার্মার উত্থানে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ’ তিনি অবিলম্বে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া রাখাইনে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লোকদের সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে এখনো বার্মার গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব।

নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য চীন খুবই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন সরকার রাখাইনে সব ধরনের সহিংসতায় উদ্বেগ এবং মিয়ানমার সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছে। চীন রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল আখ্যা দিয়ে এর দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান আশা করে। এ জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে চীন। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে বিষয়টির সমাধান আশা করে চীন।

নিরাপত্তা পরিষদের আরেক স্থায়ী সদস্য ফ্রান্স বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব রয়েছে। সেখানে প্রথম অগ্রাধিকার হলো সহিংসতা বন্ধ করা এবং মানবিক সহায়তা দেওয়া। বাংলাদেশের প্রশংসা করে ফ্রান্স বলেছে, শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। ফ্রান্স মনে করে, তাদের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো সেখানে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বৈষম্যের অবসান ও কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও গণতন্ত্রের রূপান্তরে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনে নীরব থাকা সম্ভব নয়। ’ ফ্রান্সের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য জাপানের পক্ষ থেকেও চীনের মতোই সতর্ক বক্তব্য দেওয়া হয়। জাপানের পক্ষ থেকে রাখাইনে সহিংসতা ও আরাকান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার জোরালো নিন্দা জানানো হয়। জাপান বলে, ‘এই মানবিক বিপর্যয়ে জাপান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছি। জাপান মনে করে, এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজ এগিয়ে নেওয়া, বিশেষ করে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা প্রদান। ’

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘দেশটি রাখাইন পরিস্থিতির অবনতির ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছি। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসী কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং আরসার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা দেখছি সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাশিয়াও আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেয়। তবে রাশিয়া মনে করে সমাধানের উপায় বেশ জটিল।

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: