Home / সাক্ষাৎকার / নবীনদের নিয়ে দেশ গড়ার পথিক হতে চাই : ইমতিয়াজ হোসেন

নবীনদের নিয়ে দেশ গড়ার পথিক হতে চাই : ইমতিয়াজ হোসেন

এইচ.এস.এম তারিফ : স্কুল জীবনেই শুরু হয় তার রাজনীতির পথচলা। পরিবারের শত শাসনেও তিনি অনায়াসেই রাজনীতির সাথে উতপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছেন। রাজনীতিবিদের হাতেই গড়ে উঠে দেশ, আবার তাদের হাতেই নিঃস্ব হয়। তাই দেশের প্রয়োজন সৎ ও যোগ্য রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদের ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা। আর ভবিষ্যতে দেশকে সুন্দর ও সরল পথে এগিয়ে নেয়ার জন্য আসতে হবে তরুণ রাজনীতিবিদের। এক্ষেত্রে শুধু তরুণরাই নয় থাকতে হবে তাদের যোগ্যতাও। তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই স্কুল জীবনেই রাজনীতির মাঠে পা রাখেন ‘‘ব্রিটিশ ‘ল’ স্টুডেন্ট কাউন্সিল’’ এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রচার সেলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন ইমন।

১৯৯২ সালে চট্টগ্রামে, কোতোয়ালি থানার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। সেন্ট প্লাসিডস স্কুল হতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করে গভ মুসলিম হাই স্কুল হতে নিন্ম মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ব সমাপ্ত করে ইমন। আর এ স্কুল হতেই অর্জন করেন রাজনীতির হাতে খড়ি। স্কুল রাজনীতি সম্পর্কে তরুণ এ নেতা জানান, ‘‘সে সময় ছাত্র তথা ছাত্রনেতাদের সাথে খুব ভাল সখ্যতা হয়ে উঠে, পরিচিত হতে থাকে সকল শ্রেণীর জনগনের সাথে। ধীরে ধীরে এই খবর পরিবার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এসময় মা-বাবা খুব চিন্তায় পরে যান। তারা ভাবেন আমি রাজনীতি করলে হয়তবা আমি বিপথগামী হয়ে যাব। তাই সিধান্ত নেন যে আমাকে দেশের বাইরে পাঠাবে। কিন্তু মাত্র এস,এস,সি পাশ করায় তা সম্ভব নয়। এতে বাধ্য হয়ে রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর সিধান্ত নেন মা-বাবা’’।

নিজ জন্মভূমি চট্টগ্রামের মায়া ত্যাগ করে তিনি উচ্চ ম্যাধমিক অধ্যায়নের জন্য ঢাকায় পা রাখেন। ঢাকার শিক্ষা জীবন শুরু হয় মিরপুর-১ এ অবস্থিত এফ এম ইন্টারন্যাশনাল কলেজে। এসময় সে কারো সাথে কোন প্রকার যোগাযোগের সুযোগ পাননি। বেশ কষ্টকর জীবন-যাপনের মাধ্যমেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়। সাথে শুরু হয় তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া পরিকল্পনা। সিধান্ত নেন আইনের উপর অধ্যায়ন করবেন। সিধান্তটি জানান পরিবারকে। কিন্তু মা-বাবা এ সিধান্তেও বাঁধা প্রদান করেন। তাদের কারনেই আইন বাদ দিয়ে চার্টার ইউনিভার্সিটিতে ACCA কোর্সে ভর্তি হন। তবে স্বপ্নের বিজয় হয় এ সময়েই। চার্টার ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত ক্লাস না করায় পরিবারে অভিযোগ দেয় ইউনিভার্সিটি প্রশাসন। পরবর্তীতে ইমতিয়াজ হোসেন ইমন চার্টার ইউনিভার্সিটির পাঠ চুকিয়ে আইনে অধ্যায়নের জন্য পা দেন  নিউ ক্যাসেল “ল”একাডেমীতে (ব্রিটিশ “ল”)।

ছোটবেলার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের রূপ দেয়ার পরিকল্পনা শুরু হয় এখান থেকেই। তখনই ভাবলেন একটি সংগঠন গড়বেন, যেই সংগঠনের চেতনা থাকবে ৭১’এর, থাকবে স্বাধীনতার। ২০১২ সালে একাত্তরের চেতনা নিয়ে গড়া ব্রিটিশ ‘ল’ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের প্রথম যাত্রা সম্পর্কে তরুণ রাজনীতিবিদ ইমন জানান, ‘‘নিউ ক্যাসেল একাডেমীর বেশ কয়জন সহপাঠীকে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য(ঢাকা-১২) ও তরুন প্রজন্মের কান্ডারী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ভাইয়ের নিকট যাই। এবং তার কাছে আমাদের সংগঠন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করি, সাথে সংগঠনের উদ্দেশ্য, চেতনা, কর্মপরিকল্পনাসহ বিশদ অলোচনা হয়। আমাদের পরিকল্পনা তরুনের অহংকার তাপস ভাইয়ের ভালো লাগে। এবং তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, এ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক উপায়ে। সেই সময় তিনি প্রথম পরিচালনা পর্ষদের জন্য নির্বাচনের জন্য ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন’’। এরই মাধ্যমে ব্রিটিশ ‘ল’ স্টুডেন্ট কাউন্সিল সংগঠনটি সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। ব্রিটিশ ‘ল’ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন ৬০ জন। আর প্রথম নির্বাচনেই উদয়ের পথের যাত্রী ইমতিয়াজ হোসেন ইমন ৫৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৪টি ভোট পেয়ে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সংগঠনটি প্রথম জনসম্মুখে নিয়ে আসা হয় ২০১৪ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।

ইমতিয়াজ হোসেন ইমনের লক্ষ্য শুধুই রাজনীতি নয়, নিজেকেও শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা। কারণ নিজেই যদি যোগ্য না হন তা অন্যকে কীভাবে পথ দেখাবেন। তাই তো নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে রাজনীতির পাশাপাশি লেখাপড়াটাও সমান তালেই চালিয়ে নিচ্ছেন। দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘একটি দেশের তিনটি স্তম্ভ থাকে। লেজিসলেটিভ, এক্সেকিউটিভ ও জুডিশিয়ারী। এ তিনটি স্তম্ভ একটি দেশে যত মজবুত, সে দেশ তত বেশি উন্নত। দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য এই তিনটি স্তম্ভকে সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে। সুবিচার প্রতিষ্ঠায় বিচার ব্যবস্থাকে রাজনীতি হতে আলাদা রাখতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলেই জনগণের আস্থা থাকবে না ও হবে প্রশ্নবিদ্ধ’’। ব্রিটিশ ‘ল’ স্টুডেন্ট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের স্বপ্ন ‘ল’তে অধ্যায়নের মাধ্যমেই দেশের জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।

ফ্যামিলিতে জন্ম নেয়ার পর ফ্যামিলির প্রতি যেমন দায়িত্ব থাকে, তেমনি দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন ইমন। এ কথাকে লালন-পালন করেই তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে দেশ এগিয়ে নেয়ার। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে এমনই ইঙ্গিত। ব্রিটিশ ‘ল’র ছাত্র ইমন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘‘দেশের তরুণ সমাজের যারা দেশকে ভালোবাসে, দেশের উন্নয়ন চায়, একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের একত্রিত করে দেশের উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাই। আমরা যে যেই ক্ষেত্রে কাজ করি না কেন, সে ক্ষেত্র থেকেই দেশের জন্য কাজ করতে হবে’’। তিনি বলেন, ‘‘অন্যের সমালোচনা করে সময় নষ্ট না করে সে সময়ে নিজেকে কিছু করতে হবে। তাতে দেশ এগিয়ে যাওয়ায় সম্ভবনা থাকে। আর যদি সমালোচনা করতেই হয় তা হলে অবশ্যই সমালোচনা করার যোগ্যতা অর্জন করা উচিত। কারণ যোগ্য স্থানে থেকে সমালোচনা করলে তা গ্রহনযোগ্য হয়’’। তিনি চান বাংলাদেশের প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে থেকেই দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজে লিপ্ত হোক। কারন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের এই দেশের ভবিষ্যৎ এই দেশের তরুনদের উপরেই নির্ভর করছে।

কৃতঙ্গতা: এডিটরবিডিটুয়েন্টিফোরডটকম।

Check Also

কপালে থাকলে একদিন হবে: ইমতিয়াজ হোসেন

নিউজ ডেস্ক: ইমতিয়াজ হোসেন তান্না – ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পারফরমারদের একজন। সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার …

%d bloggers like this: