Home / আর্ন্তজাতিক / নতুন নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ জিম্বাবুয়ে

নতুন নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ জিম্বাবুয়ে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : নতুন সরকার গঠনের আগে সাত ঘাটের পানি ঘোলা করার পর পদত্যাগ করেছিলেন জিম্বাবুয়ের স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবে। ফলে দেশটিতে ৩৭ বছরের ‘মুগাবে যুগের’ অবসান হয়। আফ্রিকার দক্ষিণ অঞ্চলের এ নেতা জিম্বাবুয়ে তথা রোডেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি ‘জাতির পিতা’ ধরনের পদবাচ্যে ভূষিত হন।

১৯৮০ সালে শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানের পর থেকে তিনি প্রথমত প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির একক রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ‘জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ (জানু) গঠন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি এর নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি অন্য আরেকজন প্রভাবশালী জাতীয়তাবাদী নেতা জোসুয়া নকামু প্রতিষ্ঠিত ‘জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান পিপলস্ ইউনিয়ন’-জাপুর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ‘প্যাট্রিয়াটিক ফ্রন্ট’ গঠন করেন। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ‘জানু’ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ১৯৮২ সালে তিনি জসুয়া নকামুকে বিতাড়ন করে নিজের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে ‘জানু’ এবং ‘জাপু’ একক দলে পরিণত হয়। সেই থেকে মুগাবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর ভালো কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৯৪ সালে জাতিগত বিদ্বেষের অবসানে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ। কালোদের নেতা মুগাবে পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘থিংকিং ম্যানস গেরিলা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

তবে স্বদেশে তিনি শাসক হিসেবে ব্যর্থ হন। এই জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদী নেতার অপশাসনে মানুষ ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে থাকে। কিন্তু তিনি দমন পীড়নের মাধ্যমে সমস্ত বিরোধী আন্দোলন দমন করেন। ‘দেশনায়ক’ থেকে তিনি ‘খলনায়ক’-এ পরিণত হন বলে তাঁর পদত্যাগের পর পশ্চিমা সংবাদ ভাষ্যে বলা হয়।

মুগাবের চার দশকের শাসনামলে একসময় সমৃদ্ধ দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে। তাঁর কুশাসনের একটি নমুনা হচ্ছে দেশের সব কৃষিজমি জাতীয়করণ। পত্রিকায় এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সব জমির মালিকদের সরকারের হাতে জমি সমর্পণের আদেশ দেওয়া হয়। দৃশ্যত মুখে মার্কসবাদের খই ফুটলেও বস্তুত তাঁর প্রয়োগিক শিক্ষা, দীক্ষা ও অভিজ্ঞতা কোনোটাই মুগাবের ছিল না। দেশটির অর্থনীতিবিদরা একে কুখ্যাত ‘সামন্ততান্ত্রিক যুগের শুরু’ বলে সমালোচনা করেন। এর আগে থেকেই মুগাবের সরকার ভূমির সংস্কার কর্মসূচির আওতায় সকল শ্বেতাঙ্গ মালিকের জমি জব্দ করে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। তখন কৃষ্ণাঙ্গরা খুশি হয়েছিল। সকল জমি জাতীয়করণের ফলে মুগাবে উভয় সম্প্রদায়ের আস্থা হারান। হীরার খনির মতো অত্যন্ত মূল্যবান খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জিম্বাবুয়ে ক্রমশ নিঃস্ব হতে থাকে। ২০০৮ থেকে ২০১৬- এই সময়ে অর্থনীতিতে হীরাসহ ব্যাপক লুটপাট লক্ষ করা যায়। মুগাবে একপর্যায়ে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে সেখান থেকে পর্যাপ্ত রাজস্ব আসছে না। দৃশ্যত জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি ভেঙে পড়।

গত বছরের শেষ দিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ কোটি ডলার মূল্যের নতুন মুদ্রা বাজারে ছেড়েছে। অর্থনীতিবিদ প্যাট্রিক বন্ড মনে করেন এর কারণ হচ্ছে মার্কিন ডলার ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রা ‘র‌্যান্ড’ আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে গৃহীত হলেও বাজারে এই নোটের সরবরাহ হ্রাস পায়। ফলে অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সেখানে অতি উচ্চমাত্রায় মুদ্রাস্ফীতি ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, যে জিম্বাবুয়েতে প্রায়ই আমলাতান্ত্রিক লুটপাটের সামনে অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০০৮ সালে সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। যে কারণে তখন তাদের মুদ্রা বাতিল করতে হয়েছিল। তার ওপর রয়েছে ৯০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ। এখন তাঁরা বিদেশি কোম্পানিগুলোকে মুনাফা বাবদ তাদের ন্যায্যপ্রাপ্য রেমিটেন্সও পরিশোধ করতে পারছে না। সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে রাজধানী হারারের স্টক মার্কেটের মূল্য ১৮ শতাং হ্রাস পায়। সব শেয়ারের মূল্য এক হাজার ৫০০ কোটি ১০ লাখ ডলার থেকে নেমে এক হাজার ২০০ কোটি ৪০ লাখে নেমে যায়। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা অস্থিশীলতার কারণে শেয়ার বিক্রি করে দিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। মুগাবে সরকারের দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির নমুনা স্থাপন করেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেস। ১৯৯৬ সালে মুগাবে ৪১ বছরের ছোট গ্রেসকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে তিনি স্ত্রীকে ক্ষমতাসীন দলের নারী শাখার প্রধান নিযুক্ত করেন। তিনি পদাধিকারবলে দলের প্রেসিডিয়ামেও স্থান পান। অসম্ভব ক্ষমতালোভী এই মহিলা স্বামীকে ব্যবহার করে শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার ষড়যন্ত্র করেন বলে বার্তা সংস্থার বিশ্লেষণে বলা হয়।

Check Also

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৯ লাখ ১৩ হাজার

নিউজ ডেস্ক : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার …

%d bloggers like this: