Home / লাইফস্টাইল / পরামর্শ / ধুমপায়ী থেকে অধুমপায়ী হওয়ার গল্প

ধুমপায়ী থেকে অধুমপায়ী হওয়ার গল্প

শাফিউল মুজনাবীন: ধুমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো আমরা প্রায় সবাই জানি, তথাপিও আমরা এই অভ্যাসটি বর্জন করি না। কাউকে বললে, সে বলে কিনা এই অভ্যাসটি বর্জন করতে পারছি না। কথাটা কিন্তু সঠিক না আসলে সে চেষ্টাই করছে না। আমিও মারাত্বক ধুমপায়ী ছিলাম। আমি এই অভ্যাসটি বর্জন কিভাবে করেছি সেই গল্পটি বলবো আজ।

সকল মানুষেরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট থাকে তেমনি আমারও কিছু ভিন্ন বৈশিষ্ট আছে। আমি সবকিছু আমার মতো করে চিন্তা করতে চেষ্টা করি, কাউকে অনুকরন, অনুসরন, তুলনা করাটা আমার একদমই পছন্দ না। আমি ১৯৯৯ সালের প্রথম দিকে স্মকিং (ধুমপান) শুরু করি নিজের কৌতুহল বসে অর্থাৎ ধুমপান-এর শুরু তখন থেকেই।

বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নয়, কেবল স্বেচ্ছায় ভাব মারতে গিয়ে সিগারেট ফুকা শুরু করি ছিলাম। প্রথম দিকে সারাদিনে ২/৩ টা এরপর বাড়তে লাগলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মাত্রাটা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলো। সারাদিনে প্রায় ১২/১৫ টা। ২০০৫ সালে কর্মজীবনে ঢুকার পর এর মাত্রা আরো বেগবান হয়েছিল। সারাদিনে দেড় হতে দুই প্যাকেট অর্থাৎ ৩০/৪০ টা করে প্রয়োজন হত।

এরই মাঝে প্রথমবার ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সালে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয়বার ১০ অক্টবর, ২০১০ সালে, পুনরায় ব্যর্থ হয়ে তৃতীয়বার ১১ নভেম্বর, ২০১১ সালে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে চতুর্থবার ১২ ডিসেম্বর, ২০১২ সালকে স্মৃতিময় করার জন্য সেই তারিখে বিয়ে করবো বলে মনে মনে স্বপ্ন দেখি কিন্তু কোন পরিকল্পনা না থাকায়, পারিপার্শ্বিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অবস্থা অনুকূলে না থাকায় পরপর চারবারের স্বপ্ন দু-স্বপ্নে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে কিন্তু তারিখগুলোকে স্বরণীয় করার জন্য কিছু করতে পারছিনা তাই চিন্তা করলাম যেহেতু কাউকে জীবন সঙ্গী করা সম্ভব হচ্ছে না তবে একযুগের উপর যাকে চলার সাঙ্গী করেছি যেই সিগারেট তাকেই তালাক দিয়ে তারিখটাকে স্বরণীয় করি। তাছাড়া কেন যানি ২০১২ সালের শেষের দিকে মনে হল ধুমপান-এ শুধুই টাকা খরচ, স্বাস্থ্যর ক্ষতি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি ব্যতিত লাভ নেই।

ভাবনা যেমন কাজও তেমন। কারো প্ররোচনায় নয় শুধু নিজের ইচ্ছা থাকলেই ধুমপান ত্যাগ করা সম্ভব তা নিজেই প্রমান করলাম। আমরা যদি মন থেকে কিছু চাই তা যদি আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে তবেই তা আমরা করতে পারি। আমি প্রথমবার ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় বার কার প্ররোচনা বা অনুপ্রেরনা ছাড়া নিজের প্রবল ইচ্ছা থাকায় চেইন স্মকার (মাত্রাতিরিক্ত ধুমপায়ী) হয়েও ১২ ডিসেম্বর, ২০১২ সালে সন্ধ্যায় টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন হতে আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু মিন্টুকে সাক্ষী রেখে ধুমপান বর্জন করি এবং এই মুহুর্ত পর্যন্ত ধুমপান হতে মুক্ত আছি। ধুমপান-এর অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য নিজের স্বদিচ্ছা-ই যথেষ্ট।

আমার কিছু বন্ধুকে বলতে শুনেছি হাসান শাফিউল মুজনাবীণ (তাওহীদ) ধুমপান-এর অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবে না, তার পক্ষে সম্ভব না। তখন আমি মনে মনে বলেছিলাম “পাগলে কিনা বলে” সময় আসুক দেখবি আমি কি করতে পারি। তাই বলি “নেশা বলতে কিছুই নাই, সবই হইল মনের বিষয়। চাইলে আমরা ধরতে পারি, চাইলে আমরা ছাড়ি। ভালগুলো গ্রহন করি, মন্দগুলো ছাড়ি। এটাই হক চাওয়া, আর এটাই হোক পাওয়া।”

বন্ধুগন তাই বলি, আমি পেরেছি তোমরাও (ধুমপায়ীরা) পেরে দেখাও যে, আমরাও পারি ধুমপানমুক্ত জীবনযাপন করতে।

Check Also

জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস

নিউজ ডেস্ক: বাইরে প্রচণ্ড দাবদাহ। গরমে বাইরে বের হলেই তৃষ্ণায় কাতর থাকে দেহ-মন। গরমে তৃষ্ণা মেটাতে …

%d bloggers like this: