Home / খেলাধুলা / দিনাজপুর বিকেএসপি ক্রিকেটের অভয়ারণ্য

দিনাজপুর বিকেএসপি ক্রিকেটের অভয়ারণ্য

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক তারকা। যারা দেশের পতাকা তুলে ধরেছেন বিশ্বমঞ্চে।

ক্রীড়ার মানোন্নয়ন, পর্যাপ্ত  ক্রীড়া  অবকাঠামোগত সুবিধাদি  এবং  সঠিক  প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ  ইন্সটিটিউট  অব স্পোর্টস’  (বিআইএস)  প্রতিষ্ঠার  পরিকল্পনা  করে। এরপর ১৯৮৩ সালে যার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ  ক্রীড়া  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান  (বিকেএসপি)। ১৯৮৬ সালের  ১৪ এপ্রিল  প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকেই বিকেএসপি সর্বোচ্চ একাগ্রতার সাথে উচ্চমানের খেলোয়াড় তৈরির কাজ  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাভারে মূল বিকেএসপির বাইরেও পাঁচটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সেগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, খুলনা ও সিলেটে।

ভবিষ্যত অ্যাথলেটদের স্বপ্নের ঠিকানা বিকেএসপি কেমন চলছে? কেমন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। রাইজিংবিডি-র ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উঠে আসবে সব। আজ পড়ুন দিনাজপুর বিকেএসপির আদ্যোপান্ত।

যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ে আরেক গর্বের নাম দিনাজপুর বিকেএসপি। এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের অধিনায়ক আকবর আলীসহ আট খেলোয়াড়ই এসেছেন বিকেএসপির এ আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে। আকবরদের ক্রিকেটের হাতেখড়ি এখানেই। তাইতো প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও ক্রিকেটের প্রধান কোচ আখিনুর জামান রুশো গর্ব করে বলেন, ‘এটা ভাবতে তো অবশ্যই ভালো লাগে আকবররা আমাদের হাতে গড়া। ওদের ক্রিকেটের হাতে খড়ি এখানে। কেউ দুই বছর ছিল, কেউ তিন বছর।’

বিশ্ব জয়ের পর নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন আকবর আলী। তাঁর পাশেই প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ও ক্রিকেটের প্রধান কোচ আখিনুর জামান রুশো

দিনাজপুর বিকেএসপি ক্রিকেটের অভয়ারণ্য। ঢাকা বিকেএসপির পর এখানেই চলে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ। ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা ঢাকার সমতুল্য বলে দাবি আখিনুর জামানের, ‘দিনাজপুরের অবকাঠামো যে সুযোগ-সুবিধা আছে সেটা পর্যাপ্ত। এখানে দুইটি ক্রিকেটের মাঠ আছে। বিভিন্ন মানের উইকেট আছে। জিম আছে। ইনডোর ফ্যাসিলিটিজ আছে। একটা ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটের জন্য পর্যাপ্ত যে সুযোগ সুবিধা থাকার দরকার সবটাই আছে।’

জানা গেছে, দিনাজপুর বিকেএসপির দুটি মাঠে মোট ৬টি উইকেট আছে। অনুশীলনের উইকেট আছে ৮টি। এর মধ্যে চারটি টার্ফ ও চারটি কনক্রিটের। ২০১৯ সালে এখানে ইনডোর চালু হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি এখন বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেট ইনডোর। এছাড়া জিমের সুযোগ-সুবিধাও আপ টু মার্ক। বর্তমানে ক্রিকেটের পাশাপাশি চলছে সাঁতার ইভেন্ট। ক্রিকেটের ছাত্র ১১১ জন, সাঁতারে ২২ জন। ১৫০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। কিছুদিনের মধ্যে আরও ৩০-৩৫ জনের নতুন আবাসন ব্যবস্থা চালু হবে।

দিনাজপুর বিকেএসপি সুযোগ-সুবিধায় এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ রংপুর বিভাগের ক্রিকেট জোয়ার। রংপুর বিভাগে ছেলে বা মেয়ে খেলোয়াড় প্রায় সবাই বিকেএসপির ছাত্র। ২০ বছর আগে ঢাকা বিকেএসপিতে রংপুরের মাত্র একটি ছেলে ছিল, নাঈম ইসলাম। তাঁর দেখানো পথ ধরে ধীমান ঘোষ,সোহরাওয়ার্দী শুভ, নাসির হোসেন, তানভীর হায়দার, আরিফুল হক ও লিটন দাসরা বিকেএসপিতে যোগ দেন । জাতীয় দলেও খেলেছেন তাঁরা। তাদের দেখে আকবররা এগিয়ে এসেছেন। এখন আকবরদের পথ অনুসরণ করছেন রংপুরের অধিকাংশ তরুণ। শুধু ছেলেরাই নয়, ২০১০ সালে প্রথম নারী ক্রিকেটাররা ভর্তি হন ঢাকা বিকেএসপিতে। প্রথম ব্যাচের ৭ জনের ৪ জনই খেলেছেন জাতীয় দলে। তাঁরা হলেন পিংকি, সুপ্তা, টুম্পা, সানজিদা।

ক্রিকেটের প্রতি রংপুরের আলাদা ঝোঁক থাকায় বিকেএসপির মহা পরিচালক এখানে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে উন্নত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন।আকবররা যখন দিনাজপুরে ছিলেন তখন সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলত। এখন এসএসসির সুবিধা আছে। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা এখন চার বছরে বেসিক ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি হাই পারফরম্যান্স ট্রেনিং পাচ্ছেন।

ক্রিকেট বয়সের নয়, বেসিকের খেলা। দিনাজপুর বিকেএসপি দীর্ঘদিন এ কাজ করে আসছে। এখানকার বেশিরভাগ ছাত্রই ১৫ থেকে ১৭ বয়সের। কেউ কেউ আবার ফোরটিন প্লাস। মূলত অনূর্ধ্ব-১৫ ও ১৭ জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরির কাজ করে দিনাজপুর। বর্তমানে এ দুই বয়সভিত্তিক দলের ১৮ জন খেলোয়াড় দিনাজপুর বিকেএসপিতে ট্রেনিং নিচ্ছেন। নিজের ছাত্রদের নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত আখিনুর জামান, ‘ওরা খুব ভালো প্রতিভাবান খেলোয়াড়। বয়সভিত্তিক দলের জন্য যেটা দরকার ছিল সেটা আমরা পেয়েছি। কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের অনূর্ধ্ব-১৪ দল এখানে শিফট করেছে। ওখানেও জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে।’

এখানে ক্রিকেটের কোচ আছে ছয়জন। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল দুই শিফটে চলে ট্রেনিং। বৃষ্টি-বাদল, শীত-কুয়াশা কোনো কিছুতেই এখানে ট্রেনিং বন্ধ হয় না। ইনডোরে পুরোদমে চলে অনুশীলন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি অনফিল্ডেও ছেলেদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন আখিনুর জামান। ক্ষুদে ক্রিকেটারদের বেসিক শেখানোর আনন্দ যেমন আছে, আবার চ্যালেঞ্জও বেশি। চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেসিক যদি ভালো না থাকে তাহলে আপনি সামনে গিয়ে প্রয়োজন মেটাতে পারবেন না। তাই বেসিক টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর অনুশীলন, ভালো করার তাড়না, পরিশ্রম আপনাকে এগিয়ে নেবে। এজন্য আমাদের কোচদের চ্যালেঞ্জটাও বেশি। কোচ হিসেবে এ জায়গায় অনেক ধৈর্যর পরীক্ষা দিতে হয়। আমরা নিবিড় ভাবে দায়িত্ব পালন করছি। ঢাকায় আমি ১৮ বছরের মতো ছিলাম। আমার অভিজ্ঞতা আমি সবটুকু উজাড় করে দেই। পাশাপাশি অন্যান্য যারা কোচ আছেন তারাও নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেন।’

ক্রিকেটের যে ছয়জন কোচ আছেন এদের মধ্যে দুইজন ডিপ্লোমাধারী ও লেভেল টু আপডেটেড কোর্স এর পাশাপাশি ফিটনেস ট্রেইনারকোর্স করা । বাকি যে কোচরা আছেন তাদেরও লেভেল টু, অন্যান্য লেভেল কোর্স এর পাশাপাশি ফিটনেস এর কোর্স গুলো করা আছে এবং পরবর্তীতে তারা ডিপ্লোমার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই ফিটনেস কোচ না থাকলেও সমস্যা অনুভব করছে না সংশ্লিষ্টরা। তবে পূর্ণকালীন ফিজিও এরই মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক খাদ্যাভাস অনুসরণ করা হচ্ছে । বিকেএসপির মূল কার্যালয়ের নিউট্রিশন অ্যান্ড সাইন্স বিভাগের তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী আঞ্চলিক অফিসগুলো শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করে। তবে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনুযায়ী খাবার দেওয়ার রীতিও আছে। ক্রিকেটের সাফল্যগাঁথায় যে সাঁতার আড়াল হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়। চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এখানে সাঁতারের প্রশিক্ষণ হয়। যারা ভালো করে তাদেরকে ঢাকায় হাই পারফরম্যান্সের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানকার সাঁতারুদের বয়সভিত্তিক দলে বিভিন্ন রেকর্ড রয়েছে বলেও জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

 

 

Check Also

অবশেষে মাঠের খেলায় ফিরছে আর্জেন্টিনা

খেলার নিউজ : অবশেষে মাঠের খেলায় ফিরেছে আর্জেন্টিনা। সেদেশের ফুটবলপ্রেমীরা অভিনব কায়দায় মাঠে ছক কেটে …

%d bloggers like this: