Home / ঘুরে দেখা / ঢাকার নান্দনিক রোজ গার্ডেন

ঢাকার নান্দনিক রোজ গার্ডেন

ফরিদ ফারাবী: ঢাকা শহরের যে কয়টি নজরকাড়া প্রাচীন স্থাপনা আছে তার মধ্যে রোজ গার্ডেনের নাম না বললেই নয়। সময়ের পরিক্রমায় বারবার মালিকানা হাত বদলের সাথে সাথে ইতিহাসেরও অংশ হয়ে আছে রোজ গার্ডেন।

নিতান্তই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা ব্যবসায়ী হৃষিকেশ দাস সমসাময়িক জমিদারদের উপর অনেকটা জেদের বশেই ১৯৩০ সালে তৈরি করেন এই চমৎকার শুভ্র অট্টালিকা। প্রায় ২২ বিঘা জমির উপর নির্মিত দোতলা এই প্রাসাদের চারদিক ঘিরে ছিলো দেশি বিদেশি গোলাপের চারা। এই গোলাপবাগানের জন্যই বাগানবাড়িটি সেসময় বিখ্যাত হয়ে ওঠে ‘গোলাপ বাগ’ নামে, যা আমাদের কাছে এখন ‘রোজ গার্ডেন’ নামে পরিচিত। বর্তমানে চারপাশ ঘেরা সেই গোলাপ বাগান না থাকলেও প্রাসাদের সামনে কৃত্তিম ফোয়ারা ও ভাস্কর্যগুলো রয়েছে।

তবে জানা যায় দুর্ভাগ্যবশতঃ হৃষিকেষ দাস সুরম্য এই প্রাসাদে বেশিদিন বসবাস করতে পারেননি। রোজ গার্ডেন নির্মানের কিছুকাল পরেই তিনি দেউলিয়া হয়ে পড়েন। এরপর ১৯৩৬ সালে প্রাসাদটি ঢাকার একজন বই ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বিক্রি করে দেন। কাজী আবদুর রশীদ এখানে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রোজ গার্ডেন আরেকটি বিশেষ কারণে বেশ স্মরণীয় তা হলো ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’।

কালক্রমে ১৯৬৬ সালে আবদুর রশীদের বড় ভাই কাজী হুমায়ুন বশীর রোজ গার্ডেনের মালিকানা লাভ করেন। এ সময় বাড়িটি তার নামানুসারে ‘হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। কাজী হুমায়ুন ১৯৭০ সালে তৎকালীন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বেঙ্গল স্টুডিও ও মোশন পিকচার্স লি: এর কাছে বাড়িটি লিজ দেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন বলে ঘোষণা করে। এর কয়েক বছর পর ১৯৯৩ সালে বাড়িটির অধিকার আবার ফিরে পান হুমায়ুন সাহেবের বংশধররা।

রোজ গার্ডেনের অবস্থান টিকাটুলির কে এম দাস রোডের শেষ মাথায়। তবে বাড়ির মূল গেটের সামনের অংশটি বিক্রি করে দেওয়ায় একটু ঘুরে পেছনের গেট দিয়ে ঢুকতে হয়, আর সেই অংশটি পড়েছে গোপীবাগের আর কে মিশন রোডে। রোজ গার্ডেন বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। তাই দর্শণার্থীরা চাইলেই যখন খুশি দেখতে পারবেনা। ভিতরে ঢুকে দেখতে চাইলে আগে যোগাযোগ করে অনুমতি নিয়ে নিতে হবে। (এক্ষেত্রে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে কথা বলে নেয়া যায়) ছুটিছাটার দিন না যাওয়াই ভালো। আর যে সমস্যাটা আমি ফেইস করেছিলাম, রোজ গার্ডেন বললে স্থানীয় কেউ বাড়িটি চিনতে পারেনা। তাই ‘হুমায়ূন সাহেবের’ বাড়ি বললেই খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।

লেখক: ফরিদ ফারাবী।

Check Also

নড়াইলে রাণী রাশমণি এস্টেটের কাচারী বাড়ী

নড়াইল প্রতিনিধি: বাংলার মহিয়সী নারী লোকমাতা রানী রাসমণির কাছারি বাড়ি ছিল, আমাদের বাংলাদেশের নড়াইল এর …

%d bloggers like this: