Home / রাজনীতি / ট্রাস্ট দুটির কোনোটিতেই কোনো পদে আমি ছিলাম না

ট্রাস্ট দুটির কোনোটিতেই কোনো পদে আমি ছিলাম না

নিউজ ডেস্ক: ‘ট্রাস্ট দুটির কোনোটিতেই আমি কোনো পদে কখনো ছিলাম না এবং এখনো নেই। অনুদানের অর্থ আনা বা বিতরণের সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা ছিল না।’ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। জিয়া অরফানেজ স্ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নিয়ে খালেদা জিয়া কথা বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। পরে বিচারক ২৩ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে জননন্দিত রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান তাঁর বিভিন্ন অবদান ও ভূমিকার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন। বিশেষ করে মুসলিম দেশসমূহের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। আমি এ মামলার বিবরণ থেকে জেনেছি এবং কুয়েত দূতাবাসের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা স্থাপনের জন্য তারা অনুদান দিয়েছিল। এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন এবং তিনিই সবকিছু জানতেন।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ মামলার বিবরণ থেকে আমি আরো জেনেছি যে কুয়েতের দেওয়া অনুদানের অর্থ দুই ভাগ করে দুটি ট্রাস্টকে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার কিংবা অন্য কারো কোনোভাবে লাভবান হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘অনুদানের টাকায় ট্রাস্টের মাধ্যমে বাগেরহাটে স্থাপিত এতিমখানা সুন্দর ও সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেই ট্রাস্ট সম্পর্কে কোনো অভিযোগও নেই।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে আমি আরো  জানতে পেরেছি যে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টটি বগুড়ায় এতিমখানা স্থাপনের লক্ষ্যে সেখানে জমি ক্রয় করে। এই জমি কেনা সম্পর্কেও কোনো রকম অনিয়মের অভিযোগ নেই। এই ট্রাস্টের বাকি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদাসলে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট একটি বেসরকারি ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টটি আইন সম্মতভাবে নিবন্ধিত এবং ট্রাস্টের ডিড অনুযায়ী দেশের ট্রাস্ট আইনে পরিচালিত। ট্রাস্টের কেউ সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নন। ট্রাস্টের কেউ কোনো অনিয়ম বা আইনের লঙ্ঘন করলে সে ব্যাপারে ট্রাস্ট আইনে অভিযোগ বা মামলা হতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে ট্রাস্টের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে মামলা রুজু করে? এটা কি তাদের আওতা ও এখতিয়ারের ভেতরে পড়ে? তা ছাড়া এখানে কোনো রকম দুর্নীতিও হয়নি। এই মামলায় আমাকে কেন অভিযুক্ত করা হয়েছে তাও আমার বোধগম্য নয়।’

‘কোনো মামলারই আইনগত ভিত্তি নেই’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনগণের কাছে এটা পরিষ্কার যে, এর প্রতিটি মামলাই আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে। সব মামলাই করা হয়েছে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলারই কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় বলেই এবং আমাকে ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করেই এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে। অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়েও জনগণ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়েই তারা এসব মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে। এসব মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যই হচ্ছে আমাকে হেনস্তা করা এবং জনগণের সামনে হেয় করা। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি এবং হবেও না ইনশআল্লাহ্। বরং এসব করে তারাই জনগণের কাছে হেয় হচ্ছে এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন আরো বলেন, ‘কারণ এ দেশের মানুষ অনেক সচেতন এবং তাঁরা সত্য ও মিথ্যার ফারাক সহজেই বুঝতে পারে। তাই আমাদের যত বেশি মামলায় জর্জরিত করা হচ্ছে আমরা তত বেশি দেশবাসীর সহানুভূতি ও সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ আরো বেশি করে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে।’

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটে আদালতে পৌঁছান। এর আগে গত ৯ নভেম্বর খালেদা জিয়া তৃতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। এদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়া স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করলে তা খারিজ করে দেন আদালত।

Check Also

বিএনপির মনে নেতিবাচকতার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপির মনে নেতিবাচকতার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা করোনা …

%d bloggers like this: