Home / বিনোদন / ছেলেবেলার সেই গা ছমছম দিনগুলো

ছেলেবেলার সেই গা ছমছম দিনগুলো

বিনোদন ডেস্ক :  স্টিভেন স্পিলবার্গ, জন কার্পেন্টার, স্টিফেন কিংসহ অনেকেই নির্মাতারা শুরুতে বলেছিলেন তাঁদের এই সিরিজ তৈরির অনুপ্রেরণা; যা শুনে অনেকেই নাক সিটকিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘সেই তো বাপু পরের ধনেই পোদ্দারি।
’ তবে মুক্তির পর সবাই অবাক, অন্যের কাজের অনুপ্রেরণা নিয়ে এতটা মৌলিক গল্প বলা যায় কে জানত। হালের সিরিজগুলোতে রাজত্ব করা কোনো সুপারহিরো বা গোয়েন্দা কেউই নেই এখানে। বরং আছে এক দল বাচ্চাকাচ্চা।

অভিনয়ে যাদের বেশির ভাগই একেবারে নবিশ। তবে কী আছে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ? দারুণ গল্প আর নির্মাণ? সেটা নিশ্চয়ই আছে, তবে মোটাদাগে এই সিরিজের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারণ সময়। আশির দশকের পটভূমিতে নির্মিত এই সিরিজ এক ধাক্কায় পিছিয়ে নিয়ে গেছে বছর চল্লিশেক। সেই সময় যেখানে স্মার্টফোন ছিল না, বন্ধু আর পরিবারের সবার মধ্যে ছিল অসম্ভব আবেগ। এত দিন পর নিজেদের ছেলেবেলার ছবি দেখতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েছে সবাই।

‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ ১৯৮৩ সালে ইন্ডিয়ানার এক ছোট শহরকে নিয়ে।
শুরুতে এক ছুটির সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলা শেষে ফেরার সময় রাস্তায় রহস্যময় কিছু একটার মুখোমুখি হয় উইল। সাইকেল ফেলে ছুটে আসে বাড়িতে। কিন্তু মা আর বড় ভাই তখন বাইরে। এর পর থেকেই নিখোঁজ উইল। তার খোঁজে পাগলপারা হয়ে ওঠে মা জয়েস বায়ার্স।

উইনোনা রাইডার] এবং ভাই জনাথন বায়ার্স [চার্লি হিটন]। মাঠে নামে স্থানীয় পুলিশ কর্তা জিম হপার [ডেভিড হার্বার]। সঙ্গে উইলের বন্ধুরা [মাইক, ডাস্টিন, লুকাস] তো বটেই। কিছুদিন পর তাদের সঙ্গে দেখা হয় অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাধর রহস্যময়ী বালিকা ‘ইলেভেন’-এর। উইলের বন্ধুদের চরিত্র করেছেন যথাক্রমে ফিন উলফহার্ড, গাটেন মাটারাজ্জো ও কেলেব ম্যাকলাফহিন। ইলেভেন হয়েছেন মিলি বডি ব্রাউন। এই ইলেভেন চরিত্র নির্মাতারা তৈরি করেছেন স্পিলবার্গের ‘ইটি’র ভিনগ্রহী প্রাণীর অনুপ্রেরণায়। পোশাকের রং থেকে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতায় দুজনের মিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া গল্পের প্রায় সব চরিত্রই স্টিফেন কিংকে মনে করাবে বারবার। মনে করাবে জে জে আব্রামসের ‘সুপার ৮’-কেও। কারণ সেই সিনেমাটাও আশির দশকের পটভূমিতে স্টিফেন স্পিলবার্গের অনুপ্রেরণায় তৈরি।

উইনোনা রাইডার নিখোঁজ সন্তানের মায়ের চরিত্র করেছেন, যা ব্যক্তিগতভাবেও তাঁকে ভীষণ ছুঁয়ে গেছে। কারণ বছর পঁচিশেক আগে তাঁর নিজের শহর থেকে সত্যি সত্যি এক বালক এভাবেই নিখোঁজ হয়েছিল। পরে যার মৃতদেহ পাওয়া যায়। সেই ঘটনায় মর্মাহত অভিনেত্রী হতভাগ্য ছেলেটিকে নিজের অভিনীত ‘লিটল ওম্যান’ উত্সর্গ করেছিলেন।

‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর পোস্টারের সঙ্গে অনেকেই ‘স্টার ওয়ারস’-এর মিল খুঁজে পেয়েছেন। সেটা পাওয়ারই কথা অবশ্য। ডিজাইনার কাইল ল্যাম্বার্ট পোস্টার করেছেন বিখ্যাত শিল্পী ড্রিউ স্ট্রুজানের করা বিভিন্ন পোস্টার, অ্যালবাম আর শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণায়। এই স্ট্রুজান হলেন ‘স্টার ওয়ারস’, ‘ইটি’সহ আশির দশকের জনপ্রিয় সব সিনেমার পোস্টার করা শিল্পী! ভূত-প্রেত ছাড়া গল্পে একটু-আধটু কিশোর প্রেমও আছে, যা নিয়ে মায়ের চোখরাঙানিও আছে। এ প্রেম পর্দা থেকে গড়িয়েছে বাস্তবেও। যেমন প্রথম সিজনে পর্দায় খানিকটা সময় ন্যান্সি ও জনাথন একে অন্যের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এ বছরের অক্টোবর থেকে এই দুই চরিত্র করা নাতালিয়া ডয়ার ও চার্লি হিটন বাস্তব জীবনেও প্রেম করছেন!

Check Also

তামাকের বিরুদ্ধে “সিগারেট”

নাসিফ শুভ: স্লো পয়জন হিসেবে সিগারেট সারা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ধূমপানে একদিকে যেমন নিজের ক্ষতি হয়, …

%d bloggers like this: