Home / দেশজুড়ে / চট্টগ্রাম / চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখায় কমিশন বাণিজ্য

চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখায় কমিশন বাণিজ্য

নিউজ ডেস্ক :  কমিশন ছাড়া কোনো কাজই হয় না চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখায়। কখনো নগদ আবার কখনো দিতে হয় এস্টিমেট কোড নিয়ে সিডিউল কেনার আগে।

আর এ কমিশন বাণিজ্যের পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বেশ কয়েকজন প্রকৌশলী। তাদের বিরুদ্ধে দুদকেও করা হয়েছে নানা অভিযোগ। সময় টিভির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রকৌশলী শাখার দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।

রাঙ্গামাটি এইচইডি সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ‘সকালে অফিস টাইমে ১২ পার্সেন্ট টাকা আমাকে এনশিওর করে তারপর তুমি শিডিউল লিখবা। নতুন কাজ সর্বোচ্চ ৮ পার্সেন্ট কমিশন দিয়ে নিচ্ছে।’

টেন্ডার নোটিশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখার ১০টি কাজের মধ্যে ৩ নম্বর কাজটি বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি গ্যারেজ। এ নির্মাণ কাজ পাইয়ে দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ পার্সেন্ট কমিশন চান রাঙ্গামাটির সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান।

ঠিকাদারের অভিযোগ, এ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখার একজন নির্বাহী প্রকৌশলী।

ঠিকাদার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘৯ লাখ টাকার কাজ নিয়ে লস খাইছি।’

চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্মাণ শাখার ৬ তলা ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু নতুন আরেকটি টেন্ডার করে ভবনের সামনের সামান্য এ বাগানের সৌন্দর্য বর্ধনে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে বড় অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘পুরো ৬ তলা ভবনে খরচ হয়েছে ৬ কোটি টাকা। আর সামান্য পার্কিং নির্মাণে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বিষয়টি বোধগম্য নয়।’

অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে অফিসে গেলে পাওয়া যায়নি নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুককে। অবশ্য পরে ফোন করে বিষয়টি সমঝোতা করার অনৈতিক প্রস্তাব দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্যঅধিদপ্তর নির্মাণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন নেই। আসেন অফিসের বাইরে দুজনে বসে একসাথে বিষয়টা সমাধান করি।’

নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকেও বেশকিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। আর অভিযোগের বিষয়টি যাচাই বাছাই কমিটির মিটিং তোলার কথা জানান চট্টগ্রাম দুদকের উপপরিচালক লুৎফর কবির চন্দন।

নির্মাণ কাজের কোনো তদারকি না থাকায় এ বিভাগ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সনাক সভাপতি আকতার কবির চৌধুরী।

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজারসহ বিভাগের নির্মাণ সংক্রান্ত সব কাজ নিয়ন্ত্রিত হয় এ নির্মাণ শাখা থেকে।

Check Also

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পিরোজপুরবাসী, বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

নিউজ ডেস্ক : বিগত কয়েক দিনের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের মানুষের জীবনযাত্রা। আর …

%d bloggers like this: