Home / কৃষকের মাঠ / গরু মোটাতাজাকরনে যা জানা আবশ্যক (পর্ব-২)

গরু মোটাতাজাকরনে যা জানা আবশ্যক (পর্ব-২)

ডাঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ: গরু মোটাতাজাকরনের বিষয়ে করনীয় ও যা অবশ্যই জানা আবশ্যক তা এর আগে পর্বে আলোচনা করেছিলাম, এবার আরো কিছু বিষয় তুলে ধরবো।

গরু মোটাতাজাকরন ও কিছু কথা

১. কৃমিমুক্তকরণ ও ভ্যাক্সিন প্রদান, সংক্রমণমুক্তকরণ।

২. গুণগত খাদ্য (সুষম, টাটকা, জীবাণু ও টক্সিনমুক্ত।

৩. ক্ষুধা ও হজমবৃদ্ধিকারক ঔষধ (টল্ডিমফস/বিউটাফসফেন/ হেমাটোপেন বি ১২, প্রোবায়োটিক, এঞ্জাইম, মাল্টিভিটামিন, মিনারেল, লিভার টনিক, জিংক সিরাপ)

৪. অনেক খামারী ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র/ ব্লক খাওয়ান আবার, অনেকে ক্যাটাসল জাতীয় ইঞ্জেকশন গরু মহিষ দ্রুত মোটাতাজা করেন।

৫. ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে কিংবা ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমে মোটাতাজা হওয়া গরুকে কোরবানির জন্য অনেক ভোক্তাই রুচিসম্মত না করলেও উক্ত পশুর মাংস জনসাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়।

৬. চাহিদা মোতাবেক সুষম খাদ্য সরবরাহ না করে মোটাতাজা করার ইঞ্জেকশন কিংবা ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার ব্যবহার করে কাঙ্খিত ফলাফল না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্থ অতি মুনাফালোভী মৌসুমি ফ্যাটেনিং হিসেবে কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোন ব্যবহার করেন।

৭. কর্টিকোস্টেরয়েড দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে গরুর বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পাই এবং দ্রুত মোটাতাজা হয় এবং এই জন্য ভেটেরিনারি মেডিসিন প্রস্তুতকারক কোন প্রতিষ্ঠান মোটাতাজাকরণ এ ব্যবহার উল্লেখ করেনি বরং বেশকিছু মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার তথ্য উল্লেখ করেছে।

৮. সোডিয়াম ও ওয়াটার রিটেনশন, শরীরে পানি জমা, হাইপোক্যালসেমিয়া, অরুচি, মাসল ওয়াস্টিং, অস্টিওপোরোসিস, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, পেপ্টিক আলসার।

৯. কর্টিকোস্টেরয়েড হল ডেক্সামিথাসোন / প্রেডনিসোলোন। বাজারে ডেক্সাভেট, প্রেডনিভেট, প্রিডেক্সানল জি ইঞ্জেকশন ও ওরাডেক্সন ট্যাবলেট হিসেবে পাওয়া যায়।

১০. কর্টিকোস্টেরয়েড মূলত লাইভ সেভিং ড্রাগ।বিভিন্ন প্রকার শক, ক্ষত, তাপমাত্রা হঠ্যাৎ করে হ্রাস, এলার্জিক ডিজ অর্ডার, ইনফ্লামেশন, রিউমেটিক ডিজিজ, ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহে ব্যবহৃত হয়।

১১. অতিউৎসাহী ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্ঠি করছে। ওরা যে কোন মেডিসিন ব্যবহার করলে সেটাকে নেগেটিভ বলছে।কিন্তু, সুসাস্থ্য এর জন্য ভিটামিন মিনারেলস প্রদান অত্যাবশ্যক না হলে মিনারেল/ ভিটামিনের অভাবে ভুগে।কিন্তু, কর্টিকোস্টেরয়েড না। কিন্তু, যেহেতু, কর্টিকোস্টেরয়েড লাইভসেভিং ড্রাগ, ব্যান করা যাবেনা, অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।

১২. কর্টিকোস্টেরয়েড মিট উইথড্রয়াল পিরিয়ড ৬ দিন, এর মধ্যে খাওয়া উচিত না। কুল আর ড্রাই প্লেসে না থাকায় কার্যকারিতা এমনিতেই কমে যায় বিধায় আগনের তাপে এটা সম্পুর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে নি:সন্দেহে।

১৩. এনথ্রাক্স এর মত মারাত্মক জুনোটিক রোগ ২০ মিনিট সিদ্ধ করলে মিট কঞ্জিউমারদের কোনরূপ সাস্থ্য ঝুকি দিবেনা। কর্টিকোস্টেরয়েড নিয়ে যাদের সন্দেহ রয়ে যায় কোরবানির ৬ দিন আগে গরু মহিষ কিনে এবং জবেহকৃত মাংস ২০ মিনিট সিদ্ধ করে খেলে সাস্থ্য ঝুকি থাকবেনা জোর দিয়েই অনেকটা বলা যায়।

১৪. কর্টিকোস্টেরয়েড যেমন ওরাডেক্সন ট্যাবলেট এ মাংসপেশিতে পানি জমে কিন্তু ভোক্তার কাছে মূলত স্বাদ হীন ও অরুচিকর মনে হবে। কিন্তু, মাংসবাহিত কোন সংক্রামক রোগ মানবদেহে সংক্রমিত হবেনা।

১৫. সুস্থ গরু পায়খানা করবে, পেট সাভাবিক থাকবে, খেতে দিলে খাবে, হাটতে পারবে, হাপাবেনা, মাজল বা দুই নাকের মাঝখানে হালকা ভিজা থাকবে, চোখ কান শরীর এলার্ট থাকবে।

পর্ব-১ পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন।

গরু মোটাতাজাকরনে যা জানা আবশ্যক (পর্ব-১)

ডাঃ আবদুল্লাহ আল মাসুদ (সাগর)
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, দুমকি, পটুয়াখালী

Check Also

“ব্রয়লার খামার স্থাপন, লাখো বেকারের উন্নয়ন” (পর্ব-৩)

ডাঃ সুদেব সরকার: এর আগে দুই পর্বে বয়লার মুরগীর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে আজকের …

%d bloggers like this: