Home / রাজনীতি / গভীর রাতে ১৯৬ কর্মকর্তার পদোন্নতি রহস্যজনক : রিজভী

গভীর রাতে ১৯৬ কর্মকর্তার পদোন্নতি রহস্যজনক : রিজভী

নিউজ ডেস্ক: আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, এবারও শত শত যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১৯৬ কর্মকর্তার যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা রহস্যজনক এবং সর্বমহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এসএসবির ফিটলিস্ট অনুযায়ী অনেক যোগ্য ও উপযুক্ত কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আরো বেশ কিছু কর্মকর্তার নাম ফিটলিস্টভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের আমলে বলেই তা সম্ভব। এবারও শত শত যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে। যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গভীর রাতে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, ‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে গোটা প্রশাসনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বারবার যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা, অযোগ্য দলীয় লোকদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে রাখা, দলীয় লোকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া এবং পদের তিন গুণের বেশি পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনের ভারসাম্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। বারবার পদোন্নতিবঞ্চিত হয়ে যোগ্য কর্মকর্তারা হতাশা থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আত্মহত্যাও করেছে, যা জাতির জন্য খুবই লজ্জাকর।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নিখোঁজরা ফিরতে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন, তাহলে কাদের তৎপরতায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা গুম হয়েছিল? যারা দীর্ঘ নয় বছর ধরে ভীতির শিহরণে গোটা জাতিকে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে গুমের হিড়িক চালিয়েছে, তারা কারা? তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী কি আমরা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু, পারভেজ, সুমন, খালেদ হোসেন সোহেল, কাজী ফরহাদ, মো. জহির, সুজন, সেলিম রেজা পিন্টু, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া কমপক্ষে ৭৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে পেতে অপেক্ষা করব? নিখোঁজ কয়েকজনকে ফেরত দেওয়ায় গুম থাকা ব্যক্তিদের পরিবারগুলো কি তাহলে তাদের ফিরিয়ে পেতে আশায় বুক বাঁধবে? বিএনপি নেতাকর্মীদের বাইরেও সাবেক সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাষ্ট্রদূত, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী যাঁরা গুম হয়েছেন, তাঁদের পরিবারও নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় আছে। তাদের ফিরিয়ে দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এ দেশে চলমান সব গুমের জন্য দায়ী বর্তমান জবাবদিহিহীন সরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যা আর গুমের কর্মসূচি হচ্ছে অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখার গ্যারান্টি। তাই এই সন্ত্রাসী পথ থেকে সরকার সরে আসতে পারবে না নিজেদের স্বার্থেই। সে জন্যই বাংলাদেশকে লাশের দেশে পরিণত করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে আবারও বিচারবহির্ভূত হত্যার মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রক্তপাতের বিভীষিকা টিকিয়ে রাখতে এরা নিজের মর্জি ও প্রয়োজনমাফিক সংবিধান সংশোধন ও আইন রচনা করে চলেছেন। জালিমশাহির হিংস্র আঁচড়ে ক্রমাগত জর্জরিত জনগণ যাতে প্রতিবাদমুখর হতে না পারে, তার জন্যই ক্ষমতাসীনরা ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বীভৎস তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, আওয়ামী লীগই আগামীতে ক্ষমতায় আসবে। তাঁর উদ্দেশে বলতে চাই—তাহলে কি আপনারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মতো আরেকটি নির্বাচনের নীলনকশা প্রস্তুত করে রেখেছেন? ভোটারবিহীন নির্বাচনে এতটাই মজা পেয়েছেন যে তারা সেই অবৈধ পথ ছাড়তে চাইছেন না। ওবায়দুল কাদের সাহেবের এই বক্তব্য আগামী নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও ষড়যন্ত্রের ক্ষণে ক্ষণে একটা নৈরাজ্যের কালো রাতের আভাস মেলে। কিন্তু এবারেই দুঃশাসনের ঘন অন্ধকারের অবসান ঘটবে। মানুষের ঘৃণা-ধিক্কারে অবৈধ ক্ষমতাসীনরা আর টিকে থাকতে পারবে না। ভোটারবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। বিভীষিকাময় রক্তাক্ত প্রান্তর সৃষ্টি করে আর প্রধানমন্ত্রিত্ব করা যাবে না।’

Check Also

বিএনপির মনে নেতিবাচকতার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপির মনে নেতিবাচকতার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা করোনা …

%d bloggers like this: