Home / জাতীয় / ক্ষুধার জ্বালাটা অনেক বেশি: প্রধানমন্ত্রী

ক্ষুধার জ্বালাটা অনেক বেশি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে মানুষকে ঘরবন্দি রাখা হলেও খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জীবনমান সচলের প্রশ্নে বেশি দিন এ অবরুদ্ধ অবস্থা রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মানুষের ক্ষতি হবে, মৃত্যু হবে, সেই চিন্তা করে তাদের যতই আমরা আটকে রাখি না কেন, ক্ষুধার জ্বালাটা অনেক বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মহীন দিনমুজর ৫০ লাখ মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে এ কথা বলেন।

একই সঙ্গে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। আমরা ৮ দশমিক ১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিলো আরও এগিয়ে যাবো। দারিদ্রসীমা ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে এনেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিলো, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে দারিদ্র্যসীমা আরও নামিয়ে আনবো। এ সময়ে এমন এক অদৃশ্য শক্তির আঘাত। যার জন্য সামগ্র বিশ্ব সব দিক দিয়ে স্থবির হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা ভুখণ্ডের দিক দিয়ে ছোট, কিন্তু জনগণের দিক দিয়ে বেশি। দেশের মানুষের কিভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের জীবনমান সচল রাখা, অর্থনীতিকে গতিশীল রাখা যায়- সেই চিন্তাটাই আমাদের মধ্যে রয়েছে। শুরু থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। সেজন্যই অন্যান্য দেশের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। তবে কতোদিন মানুষকে আমরা আটকিয়ে রাখতে পারবো।’

‘মানুষের জীবনের প্রয়োজনটা অনেক বেশি। মানুষের ক্ষতি হবে মৃত্যু হবে সেই চিন্তা করে তাদের যতই আমরা আটকে রাখি না কেন, ক্ষুধার জ্বালাটা অনেক বেশি। মানুষের খাদ্য যোগাড় করতে হবে, তাদের কর্মসংস্থান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। জীবনমান চলমান রাখতে হবে’।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা কতোদিন ঘরে বসে থাকবে। তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু এই করোনা এমন একটা অদৃশ্য শক্তি, যার মোকাবিলা করতে কেউ পারছে না। যতই শক্তিধর দেশ হোক, যত অস্ত্রের দিক দিয়ে, অর্থের দিক দিয়ে শক্তিধর দেশ হোক না কেন, করোনাভাইরাসের শক্তির কাছে সব শক্তি পর্যুদস্ত হয়ে গেছে। এটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্য বিশ্বের জন্য।

তবে করোনায় জীবনযাপন স্থবির হয়ে গেলেও প্রকৃতি নতুনভাবে সাজছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাভ হয়েছে প্রকৃতির। জলবায়ুর জন্য পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছিল। করোনায় প্রকৃতি কিন্তু হেসে খেলে উঠছে। এ ঘটনা পৃথিবীতে আর কখনো ঘটেনি।

জীবনযাত্রার প্রয়োজেন কিছু কিছু জায়গায় অবরুদ্ধ অবস্থার শিথিলতা আনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করছেন। এ কাজ করতে গিয়ে যারা জাতির জন্য জীবন দিয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

এ সময় দেশের বিত্তবাবানদের দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: