Home / লাইফস্টাইল / খাবারদাবার / কোভিড-১৯: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের সম্পর্ক

কোভিড-১৯: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের সম্পর্ক

ডাঃ রাশেদ আলী শাহ্: দেহ কে জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) থেকে রক্ষার জন্য আমাদের শরীরে তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান ইহাকে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় বলা হয় ইমিউন সিস্টেম।

এই ইমিউন সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত কোষ সমূহ যেমনঃ ম্যাক্রোফেজ, ডেনড্রোইটিক, নিউট্রফিল, বেসোফিল, মাস্টসেল, লিম্ফোসাইট, এবং এদের নিঃসৃত পদার্থের (হিস্টামিন, ইন্টারলিউকিন, ইন্টারফেরন, এন্টিবডি) যৌথ প্রচেষ্টাই শরীরকে ইমিউন করে। দেহের ইমিউন সিস্টেম তথা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বক্ষণিক সুস্থ, সচল ও কর্মক্ষম রাখতে হলে প্রতিটি কোষ ও এর নিঃসৃত উপাদান গুলোর উৎপাদন (Synthesize) অত্যন্ত জরুরী। শরীরের ভিতর এই কোষ তৈরী, বিভাজন, সুরক্ষা ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রোটিন, শর্করা, লিপিড (চর্বি), ভিটামিন ও মিনারেল।

কোভিড-১৯ কে কিভাবে প্রতিরোধ করা যেতে পারে: শ্বাস গ্রহণের সময় এই রোগের ভাইরাস নাক দিয়ে প্রবেশ করে শ্বাসনালীতে (Respiratory tract) কিছু সময় অবস্থান করে। শ্বাসনালরীর সিলিয়া সাধ্যমত চেষ্টা করে এই ভাইরাসকে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বের করে দিতে। তাই সিলিয়ার সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ভিটামিন, মিনারেল সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি। শ্বাসনালীর এই পথ পাড়ি দিয়ে ভাইরাস যদি কোনোভাবে ফুসফুসের কোষে প্রবেশ করে তখন শুরু হয়ে যায় উপরে উল্লেখিত কোষ ও তাদের নিঃসৃত পদার্থের যৌথ প্রতিরোধ। ভাইরাস আক্রান্ত কোষের নিঃসৃত সাইটোকাইনের (প্রোটিন) প্রভাবে ম্যাক্রোফেজ, T- লিম্ফোসাইট ও B- লিম্ফোসাইট তাদের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে শরীরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। সম্মিলিত এই প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশীরভাগ আক্রান্ত মানুষ সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে।

অতএব বলা যায় এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা যত দুর্বল হবে ভাইরাস তত বেশি কার্যকর হতে থাকবে এবং রোগীর ফুসফুস ধীরে ধীরে অকার্যকর হবে। তাই আমরা খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারছি প্রতিরোধ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত সকল কোষ ও তাদের নি:সৃত পদার্থের পর্যাপ্ত উৎপাদন এই মুহুর্তে খুবই প্রয়োজনীয়। উৎপাদনের পূর্ব শর্ত কাচামালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা আর এক্ষেত্রে কাচামাল হচ্ছে প্রোটিন, লিপিড,কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন ও মিনারেল।

এই উপাদানগুলো আমরা কিভাবে সরবরাহ করতে পারি ? অবশ্যই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে। পুষ্টিকর খাদ্য বলতে আমরা বুঝি দুধ, ডিম, মাছ,মাংস। দুধ,ডিম ও মাংসের মাধ্যমে দৈনিক কি পরিমাণ প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড আমরা পেতে পারি – প্রতি ১০০ গ্রামে (ছক)

তথ্যসূত্র: US. Department of Agriculture (USDA)

দুধ, ডিম কে বলা হয় আদর্শ খাবার অর্থাৎ খাদ্যের ৬টি উপাদান এ দুইটি খাবারে উপস্থিত। রেড মিটের (গরু, ছাগলের মাংস) তুলনায় হোয়াইট মিট (মুরগির মাংস) সু-স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উপযোগী। তাই আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন ১৫০মিলি দুধ, ১টি ডিম ও মুরগীর মাংস যোগ করবো এবং আমাদের ইমিউন সিষ্টেমকে প্রস্তুত রাখবো।

ডাঃ রাশেদ আলী শাহ্, এমডিভি এক্সপার্ট, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: