Home / খেলাধুলা / কোথায় হারালেন পাঠান ভাইয়েরা?

কোথায় হারালেন পাঠান ভাইয়েরা?

খেলার খবর: ভারতীয় ক্রিকেটে পাঠান ভাইদের উত্থান ধ্রুবতারার মতো। কপিল দেবের পর একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটকে আশা দেখিয়েছিলেন ইরফান পাঠান।

আর প্রথম আইপিএল আসরে শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালসে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন ইউসুফ। দুই অলরাউন্ডার ভাইয়ের নৈপুণ্যে বেশ কিছু ম্যাচও জিতেছিল ভারত।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন তাঁরা। ইউসুফ পাঠান তো নিষিদ্ধই হয়ে গেলেন। ডোপ গ্রহণের দায়ে ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানকে ৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাচ্ছে জানুয়ারির ১৪ তারিখেই। অপরাধ শনাক্ত করার সময় থেকে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ হিসাব করা হয়েছে। তবে এখনই ঝামেলা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না ইউসুফ। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির (ওয়াডা) প্রটোকল অনুযায়ী মামলাটি এখনো আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।

২০১৫ সালের ওয়াডা ডোপিং কোড অনুসারে প্রথমবার অপরাধের কারণে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বিসিসিআইয়ের দৃষ্টিতে ইউসুফের অপরাধ ইচ্ছাকৃত নয়।

এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বিসিসিআই জানিয়েছে, ‘ইউসুফ পাঠানকে ডোপিংসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ করার দায়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউসুফ অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি নিষিদ্ধ পদার্থ শরীরে নিয়েছেন, যা সাধারণত কফ সিরাপে পাওয়া যায়।’ বোঝাই যায়, এই ‘অনিচ্ছাকৃত’ অপরাধের বদৌলতেই অল্প শাস্তি ভোগ করেই পার পেয়ে যাচ্ছেন ইউসুফ।

আইপিএলের প্রথম আসরে রাজস্থানকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইউসুফ। ১৬ ম্যাচে ৪৩৫ রানের পাশাপাশি নিয়েছিলেন ৮টি উইকেট।

তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওয়ানডেতেই বেশি সফল হয়েছিলেন ইউসুফ। ২ সেঞ্চুরি আর ৩ হাফ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৫৭ ম্যাচে ৩৩টি উইকেট নিয়েছেন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ‘টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ’ তকমা পেয়ে যাওয়া এই স্পিন অলরাউন্ডার। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বরোদার হয়ে নিয়মিতই মাঠে নামছেন পাঠান ভাইদের বড়জন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ওভারেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইরফান। ছবি: মিডিয়া টুডেনিকট অতীতে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় স্বপ্নভঙ্গ সম্ভবত ইরফান পাঠান।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় বলেই ম্যাথু হেইডেনকে আউট করে শুরু করেছিলেন। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ওভারেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ২৯ টেস্ট শেষে তাঁর উইকেটসংখ্যা ঠিক ১০০।

ব্যাট হাতেও আলো ছড়াতে শুরু করেছিলেন। সেটাই হয়তো কাল হয়েছিল, ব্যাটে-বলে দলের মূল ভরসা হয়ে ওঠার চাপ সামলাতে পারেননি ইরফান। ১২০টি ওয়ানডেতে হাজার দেড়েক রান আর ১৭৩টি উইকেট, এসবই যেন ভীষণ সম্ভাবনাময় একটি ক্যারিয়ারের অপমৃত্যু।

ভারতের জার্সি গায়ে ইরফানকে দেখা গিয়েছিল ২০১২ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির ম্যাচে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ইউসুফের সর্বশেষ ম্যাচও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, সেই ২০১২-তেই।

ইউসুফ তবু আইপিএলে কেকেআরের নিয়মিত সদস্য। ইরফান আইপিএলেও এখন আর তেমন সুযোগ পান না। গতবার আইপিএলে খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ, এর আগের মৌসুমে সুযোগ পেয়েছিলেন ৪ ম্যাচে।

অথচ এই ইরফান প্রথম আইপিএলে ৯ লাখ ২৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিলেন। আইপিএল ক্যারিয়ারে অশনিসংকেত শুনছেন ইউসুফও। গতবার ১৫ ম্যাচ খেলে ১৪৩ রান করেছিলেন।

উইকেটও একটি। অথচ আগের দুই আইপিএলে রান করেছিলেন ৩৬১ ও ৩১২। আইপিএলেও কি তবে পাঠান-ভাইদের যুগ শেষ!

ইউসুফ-ইরফানরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন ইতিহাসের আড়ালে। দুজনের কেউই ক্রিকেট ছাড়েননি, কিন্তু জাতীয় দলে তাঁদের আর দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইউসুফ যেমন ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছেন, ক্যারিয়ারটাই হয়তো আর লম্বা হবে না তাঁর।

Check Also

গার্দিওয়ালার অধীনে আবারও যাবেন মেসি?

নিউজ ডেস্ক  : নির্ঘুম রাত কাটছে মেসি ভক্তদের। ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা যে আনুষ্ঠানিক জানিয়ে …

%d bloggers like this: