Home / দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া / কাশ্মীর! স্বপ্নের কাশ্মীর!

কাশ্মীর! স্বপ্নের কাশ্মীর!

মোহাম্মদ হারুন: পৃৃৃথিবীর ভূস্বর্গ বলেই সবাই চিনে। সুন্দর কতটা সুন্দর হতে পারে তা কেউ কাশ্মীর কে নিজের চোখে না দেখে বিশ্বাস করতে পারবেন নাহ। চারদিকে বরফের পাহাড়, বহমান নদী, সবুজে ঘেরা অরণ্য, ঘোড়ায় চরে হাজার ফুট উচুতে সবার আড্ডা জমানো, ডাল লেকে রাজকীয় বোট হাউজে রাত্রিযাপন, সেই লেভেলের খানাপিনা এবং আরও অনেক কিছুই পাওয়া যায় এই একটি কাশ্মীর ট্যুর এ। পাহাড়ের বুক চিরে শত শত কিলোমিটার রাস্তা পারি দেওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার হলেও আপনার কাছে মনে হবে যেন আপনি চোখের পলকেই আপনার গন্তব্বে পৌঁছে গেছেন খুব সহজেই। আমরা বোনাস হিসেবে পেয়েছিলাম শত একর জুরে আপেল বাগানের পাকা আপেল বাগান ঘুরে দেখা এবং নিজ হাতে আপেল বাগান থেকে আপেল পেরে খাওয়া। সেই কি অনুভূতি, মনে হলে ইচ্ছে হয় এখনি আবার চলে জাই স্বপ্নের সেই কাশ্মিরে। আমাদের এই ৭ দিনের কাশ্মীর ট্যুর এর গল্প জেন ৭ বছরেও শেষ হওয়ার মত নয়।
আমাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ছিল প্রায় ১ মাস আগে থেকেই। সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের ঢাকা কলকাতা বাস টিকেট এবং কলকাতা-শ্রীনগর-কলকাতা বিমানের টিকেট আগে থেকেই করে রাখি। আমাদের ভ্রমণ শুরু হয় কোরবানির ঈদের পরের দিন রাত মানে ০৩-০৯-২০১৭ ইং। আগে থেকেই সব কিছু ঠিকঠাক ছিল এডমিন/গ্রুপের পক্ষ থেকে। আরামবাগ থেকে আমাদের দেশ ট্রাভেলস এর বাস ছেড়ে যাবে রাত ১০.০০ টায়। তার আগেই সবাই কাউন্টারে এসে উপস্থিত হয়ে সবাই সবার সাথে প্রাথমিক পরিচিতি পর্ব সেরে নেই এবং ঠিক সময়েই আমাদের বাসে করে জাত্রা শুরু করি। সকাল ৬ টার মদ্ধেই আমাদের গাড়ি চলে জাই বেনাপোল স্থলবন্দরে। সেখানে পৌঁছেই আমারা সবাই ফ্রেশ হয়ে আমাদের নাস্তা সেরে নিলাম এবং এর পরেই আমাদের বর্ডার ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে প্রবেশ করলাম ভারতে। সবাই সবার প্রয়োজনীয় মুদ্রা ভাঙিয়ে রউনা হলাম আবারও দেশ ট্রাভেলস এর বাসে করেই কলকাতার উদ্দেশে। কিন্তু পরের দিন আমাদের ফ্লাইট থাকার কারনে আমাদের হোটেল বুকিং করে রেখেছিলাম বিমান বন্দরের পাশেই। তাই আমরা সবাই আমাদের হোটেলের কাছে নেমেই পায়ে হেটে হোটেলে চলে গেলাম। সবাই হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার শেষে সবার মত ফ্রি টাইমে রেস্ট নিলাম এবং সন্ধ্যায় সবাই মিলে নিউ মার্কেট ঘুরে কলকাতায় বাংলা খাবারের বিখ্যাত কস্তূরী হোটেলে খেয়ে হতলে ব্যাক করেই রাতের ঘুম দিলাম। আমাদের ১ম দিন চলে গেল এভাবেই।
আমাদের ২য় দিন মানে ট্যুরের গল্পের শুরু ভর ৪.৩০ থেকে। সবাই ভোঁরে ঘুম থেকে উথেই আগে থেকে ঠিক করা ট্যাক্সি নিয়ে চলে গেলাম এয়ারপোর্টে। সবাই ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করে একটু অপেক্ষা করতেই আমাদের ফ্লাইট এর সময় হয়ে গেল। নির্ধারিত সময় সকাল ৭.০৫ এ আমাদের ফ্লাইট শুরু হয় দিল্লির উদ্দেশে। সকাল ৯.১৫/২০ এর দিকে আমরা পৌঁছে জাই দিল্লি। সেখানে গিয়ে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। এর পরে ঘুরে দেখলাম দিল্লির সেই অসম্ভব সুন্দর এয়ারপোর্টটি। দেখতে দেখতে সময় হয়ে গেল আমাদের শ্রীনগর এর ফ্লাইট এর। দুপুর ২.৩০ এ আমরা পৌঁছে জাই শ্রীনগর এয়ারপোর্ট। এয়ারপোর্ট পৌঁছে বিদেশীদের আগমনী ফরম পুরন করে জমা দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েই দেখি নেম কার্ড নিয়ে অপেক্ষা করছে আমাদের ড্রাইভার আশিক ভাই। গাড়িতে করে রউনা হলাম ডাল লেকের উদ্দেশে, মাঝ পথে সেরে নিলাম আমাদের দুপুরের খাবার। ৪.৩০ টার মদ্ধেই আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের হাউস বোটে। গিয়ে দেখি এলাহি কারবার! রাজকীয় ভাবে তৈরি করা হয়েছে সব গুলো হাউসবোট। জমকালো আলকসজ্জায় সজ্জিত এবং ঐতিহ্যবাহী সকল আসবাবপত্রে সাজানো গোছানো সব কিছুই। সবাই সবার রুমে চেক ইন করে আর দেখি করলাম না একটু ও, উথে পরলাম ডাল লেকের শিকারায়। ১/১.৩০ ঘণ্টা এই শিকারায় করে ঘুরে দেখলাম পুরো ডাল লেক। সন্ধ্যায় শিকারা আমাদের নামিয়ে দিল ঘাট নামার ৭এ। এর পর সবাই সবার মত ঘুরে রাতের খাবার খেয়ে আবারও শিকারায় করে চলে আসলাম আমাদের হাউসবোটে। সূর্যের আলোয় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রাতের অন্ধকারে নেমে আসে শীত ও ঠাণ্ডা বাতাস। সবাই গিয়ে আড্ডা জমালাম বোটের বারান্দায়। ঠাণ্ডায় শরীর জমে আসলেও কেউ বারান্দা ছাড়তে চাইল না। কারন ছিল চাঁদের আলোয় পুরো ডাল লেক ছিল আলোকিত এবং প্রতিটা হাউস বোট ছিল তাদের নিজ আলোয় আলোকিত। সব মিলিয়ে ৪ পাশের পরিবেশ ছিল দারুণ উপভোগ্য। চোখের পলকেই যেন রাত ১ টা বেজে গেল । চলে গেলাম সবাই সবার রুমে, গিয়ে দিলাম কম্বল মুরি দিয়ে ঘুম। ২য় দিনের সমাপ্তি এখানেই।
৩য় দিনের ভ্রমণ শুরু সকাল ৭ টায়। সবাই গাড়িতে উঠেই শুরু গল্পের, যেই গল্পের শুরু থাকলেও শেষ নাই। আজকের গন্তব্য সোনমার্গ। মাঝ পথে হোটেলে আলু পুরি, দহি, চা দিয়ে সেরে নিলাম সকালের নাস্তা। সকাল ১০ টায় পউছালাম সোনমার্গ। আমাদের গাড়ি এর বেশী যাওয়ার পারমিশন নাই। কারন ওখানের স্থানীয় সকল স্থান ভ্রমণের জন্য আপনাকে ভারা করতে হবে স্থানীয় গাড়ি, এবং ঘোড়া। প্রথমেই সবার ইচ্ছে হল আর সবাই চরে বসলাম ঘোড়া রাইডে। বরফ দেখতে যাবো পাহাড়ের চুড়ায় ঘোড়ায় চরে। ১ ঘোড়ায় ১ জন নিয়ে যাবে এবং এখানে নিয়ে আসবে এজন্ন তারা চাইল ঘোড়া প্রতি ৩২০০ রুপি, তারপর অনেকক্ষণ দরদাম করে তা ফাইনাল হল ৯০০ রূপীতে। শুরু হল ঘোড়া রাইড। যেতে যেতে যা দেখলাম তা শুধু ফিল করা যায় দুই চোখ দেখে। প্রায় ১.৩০ ঘণ্টা ঘোড়ায় চরে আমাদের গন্তব্বে পৌঁছে দেখলাম অসম্ভব সুন্দর সব পাহাড়ের চুড়া এবং সবার কাঙ্খিত সেই বরফের একটু খনি। প্রায় ১ ঘণ্টার মত ওখানে থেকে সবাই সেখানের স্থানীয় একটি টং দোকানে অর্ডার করলাম কাশ্মীরি কাওয়ার। আহ! এই প্রথম বাড়ের মত সবাই গ্রহন করলাম অমৃত কাওয়ার সেই স্বাদ। এর পর থেকেই আর কেউ চা খেতে রাজি না, চায়ের পরিবর্তে মেন্যুতে যোগ হল কাশ্মীরি কাওয়া। আবার ঘোড়ায় চরে ব্যাক করলাম সবাই। এখানে এসে আবার নতুন গাড়ি ভাড়া করে রউনা হলাম জজিলা পাস জিরো পয়েন্ট, জজিলা মেমোরিয়াল এবং বরফের গুহা দেখতে। যেতে যেতে চোখে পরল অসম্ভব সুন্দর সেই পাহাড় আর পাহাড়ি রাস্তার। এই সব কিছু ঘুরে আমাদের গাড়ির কাছে আস্তে প্রায় বিকাল ৫ টা। সোনমার্গ থেকে আবারও আমাদের ডাল লেকের দিকে রউনা হলাম। আস্তে আস্তে রাতের খাবারের সময় হয়ে গেল এবং রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে আমরা প্রবেশ করলাম আমাদের বিখ্যাত হাউস বোটে। আজকের আড্ডা জমল আমাদের বোটের লবিতে। কেউ একজন বলেই ফেলল ভাই, আমাদের বোটের যেই লবি বাংলাদেসের অনেক ভাল মানের অনেক বড় বড় হোটেলেও এমন সুন্দর লবি থাকে না। আজকের জমকালো আড্ডা চলতে চলতে রাত প্রায় মাঝ রাত। ৩য় দিনের সমাপ্তি দিয়ে সবাই গেলাম ঘুমাতে।
চতুর্থ দিনের ভ্রমণ শুরু সেই সকাল ৭.৩০ এ। আজকের গন্তব্য গুল্মারগ। দেখব এশিয়ার সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত গলফ মাঠ, চরবো গুল্মারগ এর সেই বিখ্যাত গন্ডিলা রাইডে এবং সাথে আরও কিছু। গুল্মারগ পৌঁছেই পরে গেলাম একটা বিপাকের মদ্ধে। আমাদের ড্রাইভার আশিক ভাই অবশ্য আগেই বলে দিয়েছিল যে পুরো কাশ্মিরের মদ্ধে এখানকার লোক জন অনেক খারাপ এবং টাকা ছাড়া আর কিছু চিনে নাহ। প্রথমেই গাইডদের একটি দল আমাদের গাড়ি থামিয়ে ভীর জমিয়ে ফেলে গাইড নেওয়ার জন্য, কিন্তু আমরা কোন গাইড না নিয়েই চলে আসলাম সাম্নের একটি হোটেলে নাস্তা ক্রয়ার জন্য। নাস্তা সেরে দেখি ২ জন গাইড এসে দাড়িয়ে আছে আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা নিতে রাজি না হওয়ায় আমাদের অনেক কিছু বুঝাল এবং তাদের সাথে থাকা সরকারী গাইড কার্ড দেখাল। সে আমাদের সব কিছু ঘুড়িয়ে দেখানোর জন্য চাইল ৪০০ টাকা। তাই টাকার পরিমান খুব বেশী না হওয়ার কারণে নিতে রাজি হলাম ও ১ জনকে সিলেক্ট করে গাড়িতে উঠতে বললাম। যেতে যেতে সে গাড়িতে থেকেই ১/২ টা স্থানের বর্ণনা দিয়ে শোনাল। কিছু দুর যেতেই পুলিশ আমাদের গাড়ি সাইড করতে বলে চেক পোষ্টে। আমাদের গাড়ি থামানোর পর সবাই অবাক হয়ে দেখি আমাদের গাড়ির ছাদে সেই গাইড উঠে বসে আছে, যার কারণে পুলিশ গাড়ি থামাতে বলে। পরে পুলিশ কে সব বলার পরে পুলিশ তাকে আটকিয়ে রেখে আমাদের ড্রাইভার কে চলে আস্তে বলে। গুল্মারগে গাড়ি থেকে নামার আগেই আমাদের ড্রাইভার আমাদের কিছু তথ্য দিয়ে দিয়েছিল এবং আমার নিজেরও প্রায় ১ মাস কাশ্মীর নিয়ে ঘাটাঘাটি করার ফলে একটা অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছিল। গাড়ি থেকে নামার পরেই আমাদের গাইড এবং স্থানীয় ঘোড়া বেবসাইরা একটা লিস্ট বের করল। সেই লিস্টে ৬ টি স্থানের নাম ছিল এবং সব গুলো ঘুড়িয়ে দেখাবে সেই জন্য ৮৩০০ রুপি চার্জ লেখা ছিল। কিন্তু আমরা জানতাম যে গুল্মারগ হচ্ছে সবচেয়ে বেশী দরদাম করার জায়গা। পরবর্তীতে আমরা সবাই সেই ৬ টি স্থান এবং গন্ডিলা রাইড এর ২য় ধাপ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য ৮৩০০ করে প্রতি ঘোড়ার জন্য চাওয়া ঘোড়া গুলো ঠিক করি ৯০০ রূপি করে। আমাদের ৯ টি ঘোড়ার সাথে ৩ জন লোক ছিল ঘোড়া পরিচালনা করার জন্য। ছেলে গুলো অনেক ভাল ছিল এবং অনেক মিশুক। প্রায় ২ ঘন্টা ঘোড়া রাইডের পরে আমরা গেলাম সেই গন্ডিলা রাইডের ২য় স্টেপ এ। অসম্ভব সুন্দর স্থান। ভোলার মত নয় কোন কিছুই। সেখেন গিয়ে সবাই টিকেট কাটলাম ২য় স্টেপ থেকে ক্যাবল কার/গন্ডিলা রাইডে করে শেষ স্টেপ পর্যন্ত যাওয়া এবং আসার জন্য। সবাই চরে বসলাম আমাদের সেই কাঙ্খিত ক্যাবল কারে। পুরো ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে উপরে উঠতে থাকে আমাদের ক্যাবল কার। মনে ভয় থাকলেও চারপাশের স্বর্গীয় সৌন্দর্য দেখে সব ভয় পালাল। প্রায় ১৫ মিনিট কার রাইড এর পরে আমরা পউছালাম সমতল থেকে প্রায় ১৬০০০ ফুট উপড়ে। প্রথমে অক্সিজেনের কিছু অভাব বোধ করলেও মিনিট ২-৩ এর মদ্ধেই তা ঠিক হয়ে যায়। ক্যাবল কার থেকে নেমে ৫ মিনিট সামনে হেটেই দেখলাম বরফ গুলো জমে আছে আমাদের জন্যই। ওখানকার সরবচ্চ চুড়ায় অবস্থান করে দেখলাম চারপাশের পাহাড় আর প্রকৃতি। মাঝে ২/৩ মিনিটের শিলা বৃষ্টি এসে সম্ভাষণ জানালো আমাদের সবাইকে। সবাই সেখানে ছবি তলার পর্ব শেষ করে আবার ক্যাবল কারে চরে রউনা হলাম ২য় স্টেপ এ। ২য় স্টেপ এ নেমে সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে চার পাশটা ঘুরে দেখে আবার রউনা হলাম নিচের দিকে ঘোড়ায় চরে। পথেই দেখে নিলাম লিস্টে থাকা কয়েকটা স্পট। ঘুরা শেষ করে সবাই চলে আসলাম ডাল লেক এরিয়ারে বিখ্যাত সেই খাবার হোটেল মুঘল দরবার এ। রাতের খাওয়া শেষ করে সবাই হাউসবোটে চলে আসলাম। আজকেই হাউস বোটে আমাদের শেষ রাত্রিযাপন। তাই আজকের আড্ডা ছিল অনেক দীর্ঘ সময়ের। ছিল আমাদের ট্যুর নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু আলোচনাও। রাত পেরিয়ে ভোঁর হওয়ার আগেই আমাদের চতুর্থ দিনের সমাপ্তি ঘটিয়ে সবাই ঘুমাতে গেলাম।
৫ম দিনেও আমাদের ভ্রমণ শুরু সকাল ৭ টায়। প্রথমেই আমরা সকালে শ্রীনগর সাইট সিয়িং করে রউনা হই পাহেল্গাম এর উদ্দেশে। সকালের নাস্তা করব সবাই আপেল বাগানে, এটা ছিল আমাদের পূর্ববর্তী প্ল্যান। সেই প্ল্যান মোতাবেক আমরা সবাই ছুটে চললাম পাহেল্গাম এর দিকে, ২ পাশে শত শত একর জুড়ে আপেল বাগান এবং সব বাগানেই সব আপেল গুলো পেকে আছে। যেতে যেতে পথেই এক আপেল বাগানের মদ্ধে অবস্থিত রেস্টুরেন্টে আমাদের গাড়ি থামিয়ে আমাদের নাস্তা সেরে সবাই আপেল বাগান ঘুরে দেখলাম। বাগানে পাকা আপেল দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, যা আসলে বলে বুঝানো যাবে নাহ। সবাই বাগান দেখে , আপেলের জুস খেয়ে ও তাজা আপেল খেয়ে রউনা হলাম পাহেল্গাম এর দিকে। পাহেল্গাম এসেই সবাই আবারও দরদাম করে ঘোড়া ঠিক করি মিনি সুইজারল্যান্ড , কাশ্মীর ভ্যালী ও আরও ২/১ টা স্থান দেখানোর জন্য। পাহেল্গাম এর সব গুলো স্থানই অসম্ভব সুন্দর। আমরা প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে সবাই হোটেলে চেক ইন করি এবং ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে আবার হোটেলে চলে জাই। পাহেল্গাম এ শীত ছিল তুলনামুলক একটু বেশী। তাই হোটেলে ঢুঁকেই সবাই রুমে চলে গেলেও আবার শুরু হয় আমাদের আড্ডার। স্বল্প সময় আড্ডা দেওয়ার পরেই সবাই ঘুমাতে চলে গেলাম ও আমাদের ৫ম দিনের ইতি টানলাম।
৬ তম দিনের সুরুটা হয় সকাল ৬.৩০ টায়। আগে থেকেই ঠিক করে রাখা গাড়িতে করে রউনা হই বেতাব ভ্যালী, অরু ভ্যালী ও চাচস্মেসাহি দেখার উদ্দেশে। সব গুলো স্থানই অনেক সুন্দর। তবে বেতাব ভ্যালী টা একটু বেশী সুন্দর। এই সব স্থান দেখে সবাই ৯.৩০ টার মদ্ধেই চলে আসি আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা সেই আশিক ভাই এর গাড়িতে। হোটেল থেকে নাস্তা পার্সেল নিয়ে রউনা হলাম শ্রীনগর এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশে। আমাদের ফ্লাইট ছিল বিকাল ৩ টায়। নির্ধারিত সময়ের মদ্ধেই সবাই এয়ারপোর্টে পৌঁছে বেগেজ গুলো দিয়ে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। কিন্তু বিধিবাম! ফ্লাইট ডিলে প্রায় ৩ ঘন্টা। ৩ ঘণ্টা পর ফ্লাইট শুরু হয় দিল্লির উদ্দেশে, আমাদের দিল্লিতে ট্রানজিট ছিল ৩ ঘণ্টা। ফ্লাইট ডিলের কারণে আমাদের ট্রানজিট বাতিল করে বিমান বালা ঘোষণা করে দিলেন যারা কলকাতা যাবেন তারা কেউ নামবেন নাহ। রীতিমত সবাই একটু বিরক্তই হলাম, কারন দিল্লিতে এসে সবার প্ল্যান ছিল কে এফ সি তে লাঞ্চ করব। ফ্লাইট দেরি হওয়ার কারণে আমাদের সেই প্ল্যান ভেস্তে গেল এবং চিকেন এর পরিবর্তে আমাদের লাঞ্চ সারতে হল বিমান থেকে দেওয়া বিস্কুট, কেক, জুস আর পানি দিয়ে। যাই হোক, নির্ধারিত সময়ের মদ্ধেই সবাই চলে আসলাম সি সি ইউ বিমান বন্দরে। সবাই সবার বেগেজ নিয়ে ট্যাক্সি নিয়ে রউনা হলাম নিউ মার্কেটের কাছেই অবস্থিত আগে থেকে ঠিক করে রাখা একটি হতেলেরত উদ্দেশে। সবাই হোটেলে চেক ইন করে চলে গেলাম ডিনার করতে। হোটেলের কাছাকাছি সবচেয়ে ভাল হোটেল নাজ হোটেল। মুসলিম হোটেল, সবাই ঠিক মত লাঞ্চ হয়নি তাই আমাদের ডিনার এর অফার ছিল সবার ডাবল প্লেট এর। সেই লেভেলের এক ডিনার পর্ব সেরে সবাই হোটেলে এসে ঘুম দিয়েই আমাদের ৬তম দিনের সমাপ্তি টানলাম।
৭ম এবং শেষ দিন সবাই ৯ টায় ঘুম থেকে উঠি এবং ফ্রেশ হয়ে ১০ টায় চলে আসি কলকাতায় মারকিউ ষ্ট্রীট এ দেশ ট্রাভেলস এর কাউন্টারে। সেখানেই সবাই সবার ব্যাগ রেখে আবারও সেই কস্তূরী হোটেলে নাস্তা সেরে সবাই সবার মত বেড়িয়ে যাই বেক্তিগত কেনাকাটায়। সবাই কেনাকাটা সেরে ১২.৩০ টার মদ্ধেই কাউন্টারে চলে আসি এবং আমাদের বাস চলতে থাকে বেনাপোলের উদ্দেশে। সন্ধ্যা ৫ টায় আমরা হরিদাস্পুর বর্ডারে আসি এবং ৬ টার আগেই বর্ডার ক্রস করে বাংলাদেসে প্রবেশ করি। বাংলাদশের বেনাপোল থেকে আমাদের বাস সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে এবং রাত ১০ টার দিকে মাগুরায় এসে হোটেল বিরতি দেয়। সেখানেই সবাই রাতের খাবার এর পর্ব শেষ করে আবার রউনা হই ঢাকার উদ্দেশে। গাড়িতে উঠেও সবাই আড্ডা বাজি শুরু করলাম, সেই আড্ডা যেন শেষ হওয়ার নাহ। রাত পেড়িয়ে ভোরের আলো উঠার সাথে সাথেই বাসের সুপার ভাইজার ভাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল আমরা চলে এসেছি বেস্ততম সেই শহর ঢাকায়। সবাই সবার থেকে বিদায় নিয়ে ছুটে চললাম আপন ঠিকানায়। এখানেই সমাপ্তি হয় আমাদের স্বপ্নের কাশ্মীর ট্যুর এর।
কাশ্মীর নিয়ে কিছু টিপসঃ কাশ্মীর এর মানুষ জন বাংলাদেসের মানুষ দের অনেক পছন্দ করেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট টীম এর সাকিব, মুশফিক ও মাশরাফির অনেক ভক্ত তারা, মুসলিম হলে সালাম প্রদান করে কথা বলবেন। ঘোড়া রাইড এবং লোকাল গাড়িতে চরার আগে অনেক দরদাম করে নিবেন, কারন তারা অনেক বেশী চাইবে সব কিছুতেই আপনার থেকে তবে পাহেলগামে গাড়ি ভাড়া লিস্ট অনুযায়ী নির্ধারিত। পুরা কাশ্মীর এর মদ্ধে গুলমার্গ এর লোকজন অনেক ঝামেলা বাদী, তাই সেখানে গিয়ে একটু সাবধানে চলাফেরা করবেন।
আমাদের এই ট্যুর এর আয়োজন করা হয়েছিল Holiday Travelers Of Bangladesh এর পক্ষ থেকে। কাশ্মীর সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই গ্রুপ এর পরিচালক Mohammad Harun এর সাথে।
Phone: +8801713500853
কাশ্মীর ছাড়াও তারা ভারতের মেঘালয়, শিলং, দিল্লি, আগরা, শিমলা, মানালি, লাদাখ, আন্দামান সহ অনেক স্থানের ভ্রমণ প্যাকেজ করে থাকেন। এছাড়াও তারা বাংলাদেসের যেকোনো স্থানে ভ্রমণ প্যাকেজ এবং দেশে বিদেশে ভ্রমণ প্যাকেজ ও কর্পোরেট ট্যুর এর আয়োজন করে থাকেন। তাদের সার্ভিস সম্পর্কে জানতে তাদের গ্রুপ এবং পেজে ভিজিট করে দেখতে পারেন।
ভ্রমন সম্পর্কে আরো লেখা পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন……

Check Also

বিজ্ঞান ও ধর্মগ্রন্থসমূহে করোনাভাবনা

নিউজ ডেস্ক: কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠী নয়। পারমাণবিক বোমার হুমকি নয়। পৃথিবীব্যাপী একটাই ত্রাস, করোনাভাইরাস। …

%d bloggers like this: