Home / জাতীয় / করোনা হলে না লুকানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

করোনা হলে না লুকানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুরে এক পরিবারের ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হন।  এরপর তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়। বাড়ির সামনে বসানো হয় পাহারা।

আক্রান্তদের একজন অভিযোগ করেছেন, স্থানীয়দের আচরণে তারা ব্যথিত। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এটা যে কারো হতে পারে। করোনাভাইরাস তো এইডসের মত যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে ছড়ায় না। তাহলে লজ্জা কিসের, লুকাতে হবে কেন ? করোনা হলে না লুকিয়ে চিকিৎসকদের কাছে সত্য বলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রোগীর মানসিক দিক ঠিক রাখতে হবে ডাক্তারদের। প্রথম দিকেই আমাদের ভুল হয়েছে। দেখা গেছে অনেক সাধারণ রোগীও এক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে গেছে। শুরুতে এটা হওয়াতে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষ এখন তথ্য গোপন করছে। হাসপাতালে তো যেতে হয় চিকিৎসার জন্য, আর সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মরতে হলে মানুষ তো তথ্য গোপন করবেই। রোগীরা হাসপাতালে যাওয়া মাত্রই যদি চিকিৎসা পায়, এটা যদি মিডিয়াতে দেখানো হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। তখন  গোপনীয়তার কিছু থাকবে না।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, মহামারী সময় যদি কেউ আপনার কাছে আসে তাহলে ধরে নিতে হবে পজেটিভ; যে পর্যন্ত না পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। সেজন্য রোগীরা গোপন করলো, এটা রোগীদেরও দোষ না।’ তবে পলিসিগত দিক থেকে যেমন ভুল আছে তেমনি এখন আর রোগীদের না লুকানো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা গোপন করা উচিত না।’

ডা. মো. ইহতেশামুল হক বলেন, ‘লুকালেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। আপনার পরিবারের হবে, সারা দেশের হবে। ধরুন, একটা সিজারের রোগী ও হার্টের রোগী এসেছে এখন সে জানে তার পজিটিভ কিন্তু গোপন করলো। আর একটা অপারেশন করতে একটা টিম থাকে। এখন সে যদি গোপন না করতো তাহলে আমরা করোনার রোগীকে যেভাবে চিকিৎসা করা দরকার সেভাবে করতাম। তাহলে ডাক্তাররাও আক্রান্ত হতো না, রোগীও ভালো হতো।’

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান কচি জানান, ‘শুধু সামাজিক কারণে মৃদু উপসর্গের কিছু রোগী হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। যাদের হাসপাতালে থাকারই প্রয়োজন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে আপনাদের যে ধরনের লক্ষণ-উপসর্গ তা জটিল না। বাসায় বসেই আপনারা চিকিৎসা নিতে পারবেন। তখন রোগীরা জানিয়েছিনে, তারা বাসায় ফিরে গেলে বাড়িওয়ালা করোনায় আক্রান্ত শুনে বাড়িতে ঢুকতে দেবেন না। তাছাড়া, অন্যান্য পারিপার্শ্বিক দিক থেকেও সমস্যায় পড়তে হবে। তাহলে এই রোগী কোথায় যাবেন। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা তাদের হাসপাতলে রেখেছি।’

অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একটা ধারণা ছিল যে, করোনা হলে মারা যাবে। কিন্তু এখন যেটা বলা হচ্ছে, এটাই শুরুতে বলা দরকার ছিল। যে অন্তত ৮০ ভাগই এমনিতেই রিকভারি হয়ে যায়। হাসপাতালে যাওয়া লাগে না। খুব কম সংখ্যক মানুষ রিকভারি করতে পারে না। না করার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে যেমন, বয়স, ইমিউনিটি কম বা অন্য কোনো ডিজিজ যদি থাকে। এই বিষয়গুলো মানুষকে বেশি বেশি জানানো দরকার।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে বসেই যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সামাজিকভাবে যাতে হেয় প্রতিপন্ন না হন, বা অন্য কোনো সমস্যায় না পড়েন সেজন্য জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখতে হবে।

 

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: