Home / জাতীয় / করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সামনের দিনগুলোতে করনীয়

করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সামনের দিনগুলোতে করনীয়

বাংলাদেশে বর্তমানে ক্রমবর্ধমান উচ্চ সংখ্যায় রোগী সনাক্ত হচ্ছে, পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৬ মার্চ হতে এক ধরনের লক ডাউন চলছে, যা সামনের দিনগুলোতে প্রত্যাহার করতে হবে। এই প্রত্যাহার পরিকল্পিত উপায়ে করা গেলে একদিকে যেমন সংক্রমন প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, অন্যদিকে দেশে বেশীর ভাগ জায়গায় স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ফিরিয়ে আনা যাবে।

দেশে সকল জেলায় সংক্রমন ছড়িয়ে পড়লেও এখনও ৮০% ভাগের বেশী গ্রাম, পাড়া, মহল্লা, ৯৫% ভাগের বেশী পরিবার এবং ৯৯% ভাগের বেশী জনসাধরন করোনা সংক্রমন মুক্ত; আগামী দিনগুলোতে এগুলোতে করোনা সংক্রমন প্রতিহত করা গেলে, দেশ ন্যুনতম ক্ষতি শিকার করে করোনা মোকাবেলায় সাফল্য লাভ করতে পারে। করোনা সংক্রমনে বিস্তারের উপর নির্ভর করে গ্রাম, পাড়া, মহল্লাগুলোকে সবুজ, হলুদ ও লাল এলাকায় ভাগ করা যায়; সবুজ এলাকা হলো যেগুলোতে কখনও সংক্রমন হয় নাই বা গত ১৪ দিন ধরে কোন সংক্রমন নাই, হলুদ এলাকা হলো যেগুলোতে কিছু কিছু সংক্রমন চলে আসছে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে কোন সংক্রমন হয়েছে, লাল এলাকা হলো যেখানে বেশ বা অনেক বেশী সংক্রমন হয়ে আসছে।

গৃহীতব্য কার্যক্রম

* সবুজ এলাকা (৮০%): সংক্রমন যাতে এই এলাকাগুলিতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন; আক্রান্ত এলাকা হতে এই এলাকায় প্রবেশ সংরক্ষণ, অতীব প্রয়োজনে ১৪ দিনের কোয়ারেনটাইন শেষে প্রবেশ। এই এলাকায় স্বাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু করা।

* হলুদ এলাকা (১৫%): যে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তির সংক্রমন আছে, তাদের ঘনিষ্ট সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তির ভাইরাস টেস্ট করা এবং সংস্পর্শে আসা সকলকে আবশ্যিক ভাবে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে রাখা নিশ্চিত করা, লক ডাউন আরও ১৪/২৮ দিন বর্ধিতকরন। অত্যাবশ্যক প্রতিষ্ঠান বা কারখানা চালু রাখার জন্য কর্মীদের ভাইরাসমুক্ত থাকা আবশ্যক করা। একটানা ১৪ দিন কোন সংক্রমন না হওয়া সাপেক্ষে সবুজ এলাকা হিসাবে ঘোষনা করে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ফিরিয়ে আনা।

* লাল এলাকা (৫%): আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তি বা সম্ভব হলে ঐ এলাকার সকল ব্যক্তির ভাইরাস পরীক্ষা; পজিটিভ ব্যক্তিদের ভাইরাস নিগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশন এ রাখা কঠোর ভাবে নিশ্চিত করা, সংক্রমন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কঠোর লক ডাউন নিশ্চিত কর।

* ন্যুনতম ৬ মাসের জন্য বাসা বাড়ির বাইরে, পথে ঘাটে অফিস আদালত মাঠে ময়দানে সর্বত্র আবশ্যিক ভাবে মাস্ক পড়া নিশ্চিত করতে হবে * ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা; সাবান পানি দিয়ে হাত ধোওয়া, যেখানে সেখানে কফ থুতু না ফেলা ইত্যাদিকে জাতীয় আচারে পরিনত করতে হবে।

* ন্যুনতম ৬ মাস বৃহৎ সমাবেশ পরিহার করতে হবে।

* আক্রান্ত এলাকা হতে (দেশ বিদেশ) আসা ব্যক্তিদের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে একটি আপদকালীন পরিকল্পনা করে জনপ্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমূহের সংশ্লেষণে ও সামগ্রিক জনসম্পৃক্ততায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই পরিকল্পনা সফল ভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ৬ মাসে মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতে

লেখকঃ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ, সাবেক পরিচালক রোগ নিয়ন্ত্রন ও লাইন ডাইরেক্টর সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ( লেখকের ফেসবুক হতে নেয়া)

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: