Home / জাতীয় / করোনার ধাক্কায় দেশে ক্ষতি ৩০ বিলিয়ন ডলার

করোনার ধাক্কায় দেশে ক্ষতি ৩০ বিলিয়ন ডলার

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের প্রভাবে রপ্তানির সঙ্গে কমছে দেশের আমদানি বাণিজ্যও। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে আমদানি হওয়া পণ্যের দাম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় অর্থনীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে করোনার এ ধাক্কার প্রভাব থাকবে আগামী কয়েক মাস

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে রপ্তানি কমেছে সাড়ে ২৩ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ২৭ হাজার ২২৫ কোটি টাকা রপ্তানি হয়। মার্চে তা কমে হয় ২০ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাড়ে ২৩ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।

রাজস্ব বোর্ড থেকে ব্যুরোকে জানানো তথ্যমতে, এ সময়ে আমদানিও কমেছে ৯ শতাংশ। মার্চে পণ্য আমদানি হয় ৪২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৪৬ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনাও রয়েছে। এমনকি আগামী জুন পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি আরও কমার আশঙ্কা করছেন তারা।

বাংলাদেশের মোট আমদানির ২৫ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে আসে। বিশেষ করে চীন থেকে গার্মেন্টসের বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবের শুরুতে ব্যবসায়ীরা কিছু সময় হাতে রেখে এসব পণ্য আমদানি করে রাখেন। তবে আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে রপ্তানিযোগ্য পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ হচ্ছে না। করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির ১৪টি সেক্টরে নেতিবাচক সংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

তারা বলছেন, করোনার প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে। কাঁচামালের অভাবে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মূলত চীনা কাঁচামালনির্ভর।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনোর প্রভাবে তৈরি পোশাক, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, প্রসাধন, বৈদ্যুতিক পণ্য, কম্পিউটার, পাট, সুতা, মুদ্রণশিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিকস পণ্য, কাঁকড়া, কুঁচে ও চশমাসহ বিভিন্ন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম এ বিষয়ে একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৩১৫ বিলিয়ন ডলার। সোজাভাবে বোঝানোর জন্য যদি বলি, সাপ্তাহিক বা অন্যান্য ছুটি বাদ দেই, মোটামুটি বছরে ৩০০ দিনে আমরা ১৬ কোটি মানুষ মিলে যা পরিশ্রম করি তা থেকে প্রতিদিন দেশের আয় ১ বিলিয়ন ডলার। তাহলে ৩০ দিনে লকডাউনে দেশের ক্ষতি ৩০ বিলিয়ন ডলার (কৃষকের ফসল উৎপাদন ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না), মোটাদাগে এটা বলা যায়।

এদিকে, মানুষ ঘরবন্দি হওয়ায় শুকনো খাদ্যপণ্যের চাহিদা ও দাম দুটোই ঊর্ধ্বমুখী পাইকারি বাজারে। নিত্যপণ্যের  সবকিছুর দাম বাড়ছে। দাম বেড়েছে মসলা, শুকনো খাদ্য, পচনশীল মসলা ও কিছু নিত্যপণ্য খাদ্যসামগ্রীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের বাজার থেকে দেশের স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। ফলে অনেক শিল্পের  কাঁচামালে তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে। ভারতের বাজার আমাদের জন‌্য বলা চলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজার। প্রতিবেশী দেশটি থেকেও আমদানি-রপ্তানি বন্ধ। এখন থেকে ব্যবসায়ীদের রমজানের ঈদ কেন্দ্রিক প্রস্তুতির সময়। কিন্তু তা পুরোটাই ভেস্তে যাচ্ছে। করোনার এ প্রভাব কুরবানির ঈদের মসলা ও আনুষঙ্গিক বাজারেও পড়ার একটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: