Home / জাতীয় / করোনাযুদ্ধে জয়ীদের গল্প অন্যদের মনোবল বাড়াবে

করোনাযুদ্ধে জয়ীদের গল্প অন্যদের মনোবল বাড়াবে

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ে জয়ী হতে হলে যারা ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন তাদের ইতিবাচক গল্পগুলো সবার কাছে তুলে ধরতে হবে। এতে অন্যদের মধ্যে সাহস বাড়বে। সম্প্রতি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামালের সঙ্গে আলাপকালে রাইজিংবিডিকে এসব কথাগুলো বলেন তিনি।

মোহিত কামাল বলেন, করোনা পজেটিভ থেকে যারা ফাইট করে সুস্থ্য হয়েছেন, তাদের ইতিবাচক গল্পগুলো বলতে হবে। এটা করলে অন্যদের মনে সাহস বাড়বে। এটা প্র্যাক্টিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন। এটা কোনো উপদেশ না। আমি বলছিনা না ভয় পাবেন না। কিন্তু গল্পের মধ্যদিয়ে মানুষ বুঝবে ভয় পাবো না।

তিনি বলেন, বাবা তার সন্তানকে নরমাল হাসপাতাল থেকে কোভিড হাসপাতালে নেবে। অথচ কেউ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিচ্ছে না। তখন বাবা একটা মাস্ক পরে নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তুলে দিচ্ছে। তারপর বাবা নিজের পোশাক বদলেছে, হাত-মুখ ধুয়েছে।

মূল বিষয়টি হলো-ভাইরাসটি নাক, মুখ চোখ দিয়ে আমার ভেতরে যেতে হবে। এগুলোকে যদি প্রটেকশন দিতে পারে, আর কাপড়চোপড়গুলোকে আমরা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে ফেললাম, তাহলে ভাইরাস আমার ভেতরে ঢুকল না। মানুষের পাশে গেলেই যে ভাইরাস ঢুকে যাবে তা না। আমি মাস্ক পরবো, প্রকেটকশ নিয়ে রোগীদের কাছে যাবো। না হলে মরার আগে আতঙ্কে মরে যাবে।

চিকিসৎকদের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে বলে ডাক্তাররা দেখে না। দেখুন, অনেক ছেলে মেয়ে সাহসী আছে। অনেকে আবার দুর্বল মনের আছে। মানসিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা সবার সমান নয়। কেউ সাহসী, কেউ দুর্বল। দুর্বলতার কারণে সে যদি একটু ভয় পায়- এটা তার অপরাধ নয়। এটা ইচ্ছা করে পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যাওয়া নয়। এজন্য চিকিৎসকদের হুমকি দেওয়াটা কোনো সমাধানও না।

এখন তাদের উৎসাহ দিতে হবে উল্লেখ করে মোহিত কামাল বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭১ (২৬ এপ্রিল) জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধ করতে নামিয়ে দিলেন। কিন্তু তার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। অথবা যে সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়েছেন তা ত্রুটিপূর্ণ। আমি বলেছি, সর্বশ্রেষ্ট প্রণোদনা হোক জীবনকে রক্ষার সুরক্ষাসামগ্রী।

‘নন কোভিড হাসপাতালে, যেখানে সাধারণ রোগী যাচ্ছে সেখানে ডাক্তাররা আক্রান্ত হচ্ছে। কারণ, উপসর্গ ছাড়া অনেক রোগী করোনা বহন করছে। যাদের ডায়াবেটিকস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, হৃদরোগ আছে তার যে করোনা থাকবে না তা
তো না। এখন সাধারণ মানুষ ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকারদের আক্রান্ত করছে। সাংবাদিক, পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। ওরা কি রোগী ডিল করে? সাধারণ মানুষকে ডিল করে তারা আক্রান্ত হচ্ছে।

চিকিৎসরা এখন জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে। জনগণ এখন চিকিৎসকদের সমালোচনা করতে বেশি আনন্দ পায়। আমেরিকায় এক ডাক্তার অনেক রোগীর প্রাণ বাঁচিয়েছে। মোটরবহরে করে তার বাড়ির সামন দিয়ে স্যালুট দিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু আমাদের দেশের চিকিৎসকদের কাজ জাজ করতেছে রোগীর অভিভাবক, অন্যরা। রোগীর অভিভাবক বলছে, আমার রোগীর করোনা নেই। এজন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার একজন অভিযোগ করছে যে আমার রোগীর করোনার স্যাম্পল নিয়েছিল, করোনা বলে তারা ভর্তি করে নেয়। পরে স্যাম্পল নেগেটিভ আসছে। ফলস নেগেটিভ হতে পারে। ফলস পজেটিভ হতে পারে। এটা মূল বিষয় না। মূল বিষয় হলো আমার ডাক্তার যদি মনে করে রোগীর মধ্যে করোনা আছে কী নাই; তারমধ্যে ২৫ থেকে ৫০ ভাগ সন্দেহ জাগে- তাহলে অবশ্যই রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে।

মোহিত কামালের মতে, এখন বিশ্বযুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা যেটি বলে সেটি ফলো করব। প্রত্যোকটি দেশের সরকার প্রধানরা হচ্ছেন দেশের সেনাপতি। আমার দেশের সেনাপতি কি বলছে সেটা আমি শুনব। তিনি শুদ্ধ করলে ভালো, ভুল করলেও আমরা শুনব। তাহলে আমরা যুদ্ধের ময়দানে জয়ী হবো। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ঘরে থাকুন, শিষ্টাচার পালন করুন। নিজে ফ্রন্টলাইনে চলে আসছেন, মিডিয়াতে কথা বলছেন। ফলো করেন। সত্য খবরটা প্রধানমন্ত্রীকে দেন। তোষামোদির খবর নয়। সবাই মিলে যখন যুদ্ধের মাঠে থাকব তখন আমরা জয়ী হব।

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: