Home / জাতীয় / করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে মসজিদের মাইক ব্যবহার

করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে মসজিদের মাইক ব্যবহার

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশে আড়াই লক্ষাধিক মসজিদ রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিদিন পাঁচবার মাইকে আজান প্রচার করা হয়। সারাদেশে মসজিদগুলোর অবস্থান এমন যে এক মসজিদ থেকে আরেক মসজিদের আজান শোনা যায়। অর্থাৎ পুরো দেশ এই মসজিদগুলোর মাইকের আওতার মধ্যে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য মসজিদের মাইকগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদের ইমামদের জন্য এ-সম্পর্কিত একটি নির্দেশনা প্রদান করতে পারেন। প্রতিবার আজানের পূর্বে বা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মাইকে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে এবং দুস্থ-অসহায়দের সাহায্যার্থে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান থাকবে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় সচেতনতামূলক নানারকম প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমনকি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন।

বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানিও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর অর্থ ব্যয়ও হচ্ছে। কিন্তু মসজিদের মাইকগুলো ব্যবহার করে বিনা খরচে আরো তাড়াতাড়ি এবং একই সময়ে সারাদেশের মানুষের কাছে এই বার্তাগু‌লো পৌঁছানো সম্ভব৷ আর একটি বিষয়, আমরা করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ক্ষেত্রে এমন সব শব্দ ব্যবহার করছি যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝতে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা হচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টাইন কী এবং কীভাবে করছে তা দেখতে মানুষের ভিড় লেগে যাওয়ার সংবাদও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।

সোশ্যাল ডিসটেন্স কী তা এখনো অনেকেই বুঝতে পারছেন না। মনে রাখতে হবে করোনার ঝুঁকিতে শুধু শহরের এবং শিক্ষিত মানুষেরা নন। দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। কাজেই প্রচার-প্রচারণার কাজে এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে যা সবাই বুঝতে পারে৷ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উপযোগী করে আলাদা আলাদা ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষ সহজেই বুঝতে পারে কী কী করতে হবে এবং কী কী করা যাবে না। আর সেটা মসজিদের ইমাম সাহেবদের দিয়ে খুব সহজেই বোঝানো সম্ভব। কারণ ইমাম সাহেবরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের উপযোগী ভাষায় প্রতিনিয়ত কথা বলেন৷ যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।

প্রচার-প্রচারণার কাজে এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে যা দেখে এবং শুনে বারবারই শিবরাম চক্রবর্তীর বিখ্যাত গল্প ‘গুরুচণ্ডালী’র কথা মনে পড়ে যাচ্ছে৷ পণ্ডিত সীতানাথবাবু তাঁর ছাত্রদের বুঝাতে চেষ্টা করেছিলেন ভাষা ব্যবহারের সময় সাধুভাষা ও কথ্যভাষার মিশ্রণ অর্থাৎ গুরুচণ্ডালীর দোষ সম্পর্কে৷ তিনি গুরুচণ্ডালী দোষ একদম সহ্য করতে পারতেন না৷ তাই ছাত্ররা সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকত৷ পারতপক্ষে পণ্ডিত মশাইয়ের ধারে কাছে আসত না৷ তো একদিন গণেশ নামের একজন ছাত্র সরকারি রেশনের দোকানে এসে দেখল রেশনের জন্য এক লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন পণ্ডিত মশাই৷ গণেশও লাইনে দাঁড়াল অনেকটা পিছনে৷ সে দেখল যে এক পকেটমার স্যারের পকেট মেরে নিচ্ছে৷ তা দেখে গণেশ চিৎকার করে সাধু ভাষায় বলে উঠল, স্যার স্যার! ব্যগ্র হোন কল্য! ভাষা শুদ্ধ না-হওয়ায় পণ্ডিত মশাই কোনোকিছু বুঝতে পারেননি৷ এদিকে পকেটমার চম্পট দিয়েছে ততক্ষণে। গণেশের কা‌ছে যখন জান‌তে চাওয়া হ‌লো, সে ওভা‌বে বলল কেন? তখন সে জানাল, গুরু মশায়ের সামনে পকেট মারছে উচ্চারণ করলে গুরুচণ্ডালী হবে ভেবে সে ওভাবে সাবধান করেছিল৷ কিন্তু গুরু মশায় সেটা বুঝতে পারেননি। ফলে যা ক্ষ‌তি হওয়ার তা হয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে যে সকল বিশিষ্টজন বিভিন্ন মিডিয়াতে কথা বলছেন বা লিখছেন তা খুব কঠিন ভাষায় বা দুর্বোধ্য ভাষায় উপস্থাপন করছেন তা কিন্তু আমরা বলছি না৷ সবাই অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং প্রমিত ভাষায় উপস্থাপন করছেন৷ আমরাও সেটাই চাই লিখিত বা আনুষ্ঠানিক ভাষা শুদ্ধ এবং প্রমিত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়৷ কিন্তু জনমানুষের ভাষা বলেও তো একটা কথা আছে৷ যে ভাষা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তাড়াতাড়ি পৌঁছানো সম্ভব৷ যেমনট আমরা দেখি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে৷ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনমানুষের ভাষার ভিন্নতা রয়েছে৷ তাই যার যার অঞ্চলের ভাষায় করোনা সম্পর্কিত সতর্কবার্তা যদি তাদের জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় তা অধিক কার্যকর হবে বলে মনে করি৷ তাছাড়া রোগটা নতুন৷ আগে এ সম্পর্কিত কোনো ধারণাই আমাদের ছিল না৷ এ রোগের কারণে অনেকগুলো নতুন নতুন শব্দ আমাদের সামনে আসছে৷ হয়তো আরও আসবে৷ একদিন হয়তো এ সব শব্দের পরিভাষাও তৈরি হবে৷ কিন্তু তার আগে আমাদের এই মুহূর্তে দরকার জনগণকে এ রোগ থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে সচেতন করা৷ আর এ কাজে সারাদেশের মসজিদগুলোর মাইক ব্যবহার করলে কার্যকর ফল পাওয়া যেতে পারে৷

 

Check Also

রাতে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) …

%d bloggers like this: