Home / দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া / এখনি সময়, ঘুরে আসুন শান্তির দেশ ভুটান হতে (ভিডিও সহ)

এখনি সময়, ঘুরে আসুন শান্তির দেশ ভুটান হতে (ভিডিও সহ)

হাসান মুরসালিন: ভুটার দক্ষিন এশিয়া কি এশিয়ার সবচেয়ে শান্তি দেশ। কোন জানজট নেই, নেই কোন কোলাহল, প্রকৃতি যেনো আদর করেই দেশটিকে সাজিয়ে দিয়েছে নিজ হাতে। দেশটির স্থাপনাগুলো দেখতে মনমুগ্ধকর।  থিম্পু শহরে আছে মেমোরিয়াল চোর্টেন, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, টেক্সটাইল মিউজিয়াম, ক্লক টাওয়ার, ফারমার্স মার্কেটসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। শহরের পাশে পাহাড়ের এক চূড়ায় বসে থিম্পুকে দেখভাল করেন বিশাল আকৃতির এক বুদ্ধমূর্তি। শহরের যে কোনো জায়গা থেকেও এটিতে দেখা যায়। সুউচ্চ পাহাড়ের উপরে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু বুদ্ধমূর্তি ছাড়াও ব্রোঞ্জের তৈরি নানা মূর্তি আছে এখানে। জায়গাটির নাম বুদ্ধা পয়েন্ট। থিম্পু শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভুটানের সবচেয়ে উঁচু স্থান পুনাখা। হিমালয় দেখার আদর্শ স্থান এটি।

থিম্পু থেকে পুনাখার পথে ৩০ কিলোমিটার দূরে দোচুলা পাস। ৩,৯৮৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এ জায়গা ভুটানের মানুষের কাছে একটি পবিত্র স্থান। ২০০৩ সালে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত ভুটানের সৈন্যদের স্মরণে নির্মিত ১০৮টি চোর্টেন এখানকার মূল আকর্ষণ। জায়গাটিতে নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বরফ পড়ে। এছাড়া দোচুল পাসের আরেকটি আকর্ষণ হল ড্রুক ওয়াংগাল লাখাং মন্দির। দোচুলা পাহাড়ি পথে ৪০ কিলোমিটার সামনে গেলে পুনাখা। পুনাখা জং, ফার্টিলিটি টেম্পল, পো চু এবং মো চু নদীর বৈচিত্রময় রূপ পুনাখার অন্যতম আকর্ষণ।

ভুটানের দুই নদী মো চু এবং পো চু। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বয়ে চলেছে নদী দুটি। ভুটানের মানুষের বিশ্বাস মো চু নারী। আর পো চু পুরুষ। পো চু এবং মো চু এসে মিলেছে পুনাখায়। স্থানীয় ভাষায় চু শব্দের অর্থ নদী। এই দুই নদীর মাঝখানে ঐতিহাসিক পুনাখা জং। সেখানে ভিক্ষুদের বসবাস। অন্যান্য সময়ে পুনাখা জং পর্যটকদের দেখার সুযোগ নেই। তবে গ্রীষ্মে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থিম্পু চলে গেলে পর্যটকদের তখন প্রবেশাধিকার থাকে এই জংয়ে। পুনখার এই জংয়েই ভুটানের বর্তমান রাজার বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল ২০১১ সালে। ১৯৬২ সালের আগ পর্যন্ত পুনাখা ছিল ভুটানের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী।

পারো শহরের এক প্রান্তে পারো ভ্যালির ৯০০ মিটার উপরে বৌদ্ধ মন্দির টাইগার্স নেস্ট। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গুরু রিন পোচে এক বাঘিনির পিঠে চড়ে এ পাহাড় চূড়ায় পৌঁছে সাধনায় বসেছিলেন। এরপর থেকেই এই জায়গাটি পরিচিতি পায় ‘টাইগার্স নেস্ট’ নামে। তবে এর আরেক নাম তাকশাং বৌদ্ধ বিহার। জায়গাটি বেশ দুর্গম, বড় একটা অংশ উঠতে হয় পায়ে হেঁটে।

পারো শহরেই ভুটানের একমাত্র বিমানবন্দর। এই শহরের আরেক বিশেষ জায়গা হল পারো জং বা রিনপুং জং। পারোর সবচেয়ে বড় জং এটি। ১৬৪৬ সালে ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র ও ভিক্ষুদের বসবাস কেন্দ্র হিসেবে এই জংটি নির্মাণ করেন সাবড্রং গুয়াং নামগিয়াল। পারো জংয়ের পাশেই আছে টা জং। ১৬৫১ সালে নির্মিত দুর্গ আকৃতির এই ভবন একসময় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হত। ১৯৬৭ সাল থেকে এটি জাতীয় জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভুটানের আরেকটি সুন্দর শহর বুমুথাং। একে বলা হয় ভুটানের ধর্মীয় নগরী। বেশ কিছু প্রাচীন দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ মন্দির আছে এ শহরে।

যাতায়াত ও থাকা

বাংলাদেশ থেকে সড়ক ও আকাশপথে ভুটান জাওয়ায় যায়।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ড্রুক এয়ারের বিমান যায় ভুটান।

ভাড়া ২০ থেকে ২৪ হাজার টাকা। সময় লাগে দেড় ঘণ্টা।

এছাড়া সড়ক পথে ভারতের শিলিগুড়ি হয়ে ফুন্টসলিং দিয়ে ভুটান প্রবেশ করা যায়।

সে ক্ষেত্রে ভারতের ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হবে।

ভুটানে বাংলাদেশি পর্যটকদের পোর্ট এট্রি ভিসা দেওয়া হয়।

প্রতিটি শহরেই বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। সাধারণ মানের হোটেলগুলোর প্রতি দিনের ভাড়া ৮শ’ থেকে ২ হাজার নু (ভুটানের টাকা)।

প্যাকেজ ভ্রমণ

ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় ভুটানে ভ্রমণ কষ্টসাধ্য। তাই অভিজ্ঞ কোন ভ্রমণ সংস্থার সহায়তায় নিলে সুবিধা হবে।

যাতায়াত, থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থাই তারা করে দেবে।

ভুটানসহ ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত প্যাকেজ ভ্রমণ পরিচালনা করে থাকে

ভ্রমণ সংস্থা হলিডে ট্রাভেলার্রস অফ বাংলাদেশ, বিস্তারিত তথ্যর জন্য যোগাযোগ – মোহাম্মদ হারুন: ০১৭১৩-৫০০৮৫৩ ফেইসবুক ফ্যান পেইজ.. https://www.facebook.com/htob2016/

দি ট্র্যাভেলস্‌ এন্ড ট্যুরস্‌ স্টোর, জরুরি প্রয়োজনে ০১৭৮৮-৮৯৯৬২৯, ০১৯০৩-৭৫৪৩০০ ও ০১৮৪২-৮৯৯৬২৯ ফেইসবুক ফ্যান পেইজ.. https://www.facebook.com/travelsandtoursstore/

ট্রাভেলার্রস স্টেশন, জরুরি প্রয়োজনে ০১৯৪০-৭৫৩৫১৬, ০১৯১৪-৮৭০৯৮৮ ফেইসবুক গ্রুপ.. https://www.facebook.com/groups/261666967572128/

প্রয়োজনীয় তথ্য

ভুটানে ভ্রমণে সবচেয়ে ভালো সময় মার্চ থেকে মে এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস।

তবে অন্যান্য সময়েও যেতে পারেন। অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে গেলে বাগানে আপেল পাওয়া যাবে।

থিম্পু, পুনাখা কিংবা পারো শহরের দোকান পাট সন্ধ্যার পর পরই বন্ধ হতে শুরু করে। কেনাকাটা থাকলে আগেভাগেই সেরে ফেলা উচিৎ।

ভুটানের বেশিরভাগ দোকানে ভারতীয় রূপির প্রচলন আছে। এছাড়া স্থানীয় মুদ্রা ‘নু’র মূল্যমানও ভারতীয় মুদ্রার মতোই।

পারো ভুটানের একমাত্র বিমানবন্দর। সরকারী বিমান সংস্থা ‘ড্রুক এয়ার’ ছাড়া অন্য কোনো যাত্রবাহী বিমান এ বন্দরে ওঠানামা করে না।

দেশটির সর্বত্রই পর্যটকদের সমাদর আছে।

ভ্রমন সম্পর্কিত আরো সংবাদ পড়তে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন…..

কাশ্মীর! স্বপ্নের কাশ্মীর!

 

Check Also

বিজ্ঞান ও ধর্মগ্রন্থসমূহে করোনাভাবনা

নিউজ ডেস্ক: কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠী নয়। পারমাণবিক বোমার হুমকি নয়। পৃথিবীব্যাপী একটাই ত্রাস, করোনাভাইরাস। …

%d bloggers like this: